ঢাকা ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অপরিকল্পিত উন্নয়ন বন্ধ করে পরিকল্পিত হাওর উন্নয়নে কাজ করতে হবে

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:২৬:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪
  • / ১৩৩ বার পড়া হয়েছে

অপরিকল্পিত উন্নয়ন বন্ধ করে পরিকল্পিত হাওর উন্নয়নে সরকারকে কাজ করতে হবে আকষ্মিক বন্যার জন্য কিশোরগঞ্জ, ইটনা, মিঠামইন সড়কের প্রতিবন্ধকতাকে দায়ী করেন।

শনিবার ( ২২ জুন)  বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে হাওর অঞ্চলবাসী ঢাকা ও ঐক্যবদ্ধ সিলেট বিভাগবাসীর যৌথ উদ্যোগে ক্যাপ্টেন (অঃ) মিজানুর রহমান চৌধুরী’র সভাপতিত্বে ও মেনন চৌধুরীর সঞ্চালনায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

 

উক্ত মানববন্ধনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঐক্যবদ্ধ সিলেট বিভাগবাসীর সমন্বয়ক ও জালালাবাদ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আনহার সমশাদ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, হাওর অঞ্চলবাসীর সমন্বয়ক ড. হালিম দাদ খান, বাপার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল, বাপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিহির দাস, হাওর বিশেষজ্ঞ বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার তোফায়ের আহমেদ খান, হাওর অঞ্চলবাসীর সমন্বয়ক জাকিয়া শিশির, সমন্বয়ক এড. আইনুন নাহার লিপি।

 

বক্তরা বলেন, প্রাকৃতিক বন্যায় অতিতে কখনও সিলেটবাসী এত জানমালের ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি। মানবসৃষ্ট জলবদ্ধতার কারণে সিলেটবাসী ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পবিত্র ঈদ-উল-আযহার নামাজ এবং নিয়ত করা কোরবানী সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা তাদের বক্তব্যে আকষ্মিক বন্যার জন্য কিশোরগঞ্জ, ইটনা, মিঠামইন সড়কের প্রতিবন্ধকতাকে দায়ী করেন। উন্নয়নের নামে লুটপাট বন্ধ করে হাওর বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে পরিকল্পিত উন্নয়ন, পরিবেশ ও হাওর রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।

 

নদী খননের নামে নানারকম অনিয়ম, দুর্নীতি অব্যাহত রয়েছে। সকল অনিয়ম এবং দুর্নীতির সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামকে যুক্ত করে নির্মিত অল ওয়েদার সড়ককে এলিভেটেড করার দাবিও করা হয়। সড়ক নির্মাণের শুরুতে বিশেষজ্ঞরা অন্তত ৩০% এলিভেটেড করার পরামর্শ দিলেও অজ্ঞাত কারণে কর্তৃপক্ষদের পরামর্শ এবং সিলেট অঞ্চলের ক্ষতির কারণ জেনেও হাওরের পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয় সিলেট এবং ময়মনসিংহের ৩৭৩টি হাওর পানির অবাধ প্রবাহ প্রতিবন্ধকতায় প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সরকারের ডেল্টাপ্লানে ও মাস্টারপ্লানে এই সড়কের অনুমোদন না থাকলেও সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করায় গত ৩ বছর যাবত সিলেট অঞ্চলের ৪টি জেলা বন্যা কবলিত হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ পানিবন্দী হয়ে জানমালের ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

 

অপরিকল্পিত সড়কের প্রতিবন্ধকতা দুরকরণে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে ডেল্টাপ্লান ও মাস্টারপ্লান মোতাবেক কিশোরগঞ্জ ইটনা মিঠামইন অষ্টগ্রামে সংযুক্ত সড়কটি পুণরায় হাওর উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় এনে পূনঃসংস্কার এবং সিলেট বিভাগের নদী খননের অনিয়ম খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেয়ার আহ্বান। এছাড়া সিলেট বিভাগের নদী ও খাল খনন, কিশোরগঞ্জের নদী, খাল খনন, ময়মনসিংহের নদী খাল খনন করে পানি প্রবাহের সুপথ তৈরী কল্পে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ সিলেট বিভাগবাসীর ও হাওর অঞ্চলবাসী ঢাকার উদ্যোগে মানববন্ধন করা হয়।

 

উক্ত মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এড. সুজা আল ফারুক, সিলেট বিভাগ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি কাজী তোফায়েল আহমেদ, সিনিয়র সাংবাদিক নিজামুল হক বিপুল, সিনিয়র সাংবাদিক জাকির হোসেন, সুয়েদুজ্জামান কামালী, ঢাকাস্থ মাদবপুর উপজেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম চৌধুরী, ঢাকাস্থ সাল্লা উপজেলা সমিতির সাবেক সভাপতি হিরোদ রঞ্জন রায়, সিলেট বিভাগ যোগাযোগ উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন সোহেল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইনতেসার আহমেদ চৌধুরী, সায়েদুল হক চৌধুরী, নাজমুল হাসান, সোহেল সিকদার, মাহমুদ এজাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, এহসানুল হক জসীম, গোলাম শফিক, মোঃ আব্দুল মান্নান চৌধুরী, লোকেশ রঞ্জন দাস, আবু বক্কর সিদ্দিক, শিপন আহমেদ, জিয়া চৌধুরী প্রমুখ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

অপরিকল্পিত উন্নয়ন বন্ধ করে পরিকল্পিত হাওর উন্নয়নে কাজ করতে হবে

আপডেট সময় ১০:২৬:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪

অপরিকল্পিত উন্নয়ন বন্ধ করে পরিকল্পিত হাওর উন্নয়নে সরকারকে কাজ করতে হবে আকষ্মিক বন্যার জন্য কিশোরগঞ্জ, ইটনা, মিঠামইন সড়কের প্রতিবন্ধকতাকে দায়ী করেন।

শনিবার ( ২২ জুন)  বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে হাওর অঞ্চলবাসী ঢাকা ও ঐক্যবদ্ধ সিলেট বিভাগবাসীর যৌথ উদ্যোগে ক্যাপ্টেন (অঃ) মিজানুর রহমান চৌধুরী’র সভাপতিত্বে ও মেনন চৌধুরীর সঞ্চালনায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

 

উক্ত মানববন্ধনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঐক্যবদ্ধ সিলেট বিভাগবাসীর সমন্বয়ক ও জালালাবাদ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আনহার সমশাদ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, হাওর অঞ্চলবাসীর সমন্বয়ক ড. হালিম দাদ খান, বাপার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল, বাপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিহির দাস, হাওর বিশেষজ্ঞ বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার তোফায়ের আহমেদ খান, হাওর অঞ্চলবাসীর সমন্বয়ক জাকিয়া শিশির, সমন্বয়ক এড. আইনুন নাহার লিপি।

 

বক্তরা বলেন, প্রাকৃতিক বন্যায় অতিতে কখনও সিলেটবাসী এত জানমালের ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি। মানবসৃষ্ট জলবদ্ধতার কারণে সিলেটবাসী ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পবিত্র ঈদ-উল-আযহার নামাজ এবং নিয়ত করা কোরবানী সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা তাদের বক্তব্যে আকষ্মিক বন্যার জন্য কিশোরগঞ্জ, ইটনা, মিঠামইন সড়কের প্রতিবন্ধকতাকে দায়ী করেন। উন্নয়নের নামে লুটপাট বন্ধ করে হাওর বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে পরিকল্পিত উন্নয়ন, পরিবেশ ও হাওর রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।

 

নদী খননের নামে নানারকম অনিয়ম, দুর্নীতি অব্যাহত রয়েছে। সকল অনিয়ম এবং দুর্নীতির সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামকে যুক্ত করে নির্মিত অল ওয়েদার সড়ককে এলিভেটেড করার দাবিও করা হয়। সড়ক নির্মাণের শুরুতে বিশেষজ্ঞরা অন্তত ৩০% এলিভেটেড করার পরামর্শ দিলেও অজ্ঞাত কারণে কর্তৃপক্ষদের পরামর্শ এবং সিলেট অঞ্চলের ক্ষতির কারণ জেনেও হাওরের পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয় সিলেট এবং ময়মনসিংহের ৩৭৩টি হাওর পানির অবাধ প্রবাহ প্রতিবন্ধকতায় প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সরকারের ডেল্টাপ্লানে ও মাস্টারপ্লানে এই সড়কের অনুমোদন না থাকলেও সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করায় গত ৩ বছর যাবত সিলেট অঞ্চলের ৪টি জেলা বন্যা কবলিত হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ পানিবন্দী হয়ে জানমালের ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

 

অপরিকল্পিত সড়কের প্রতিবন্ধকতা দুরকরণে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে ডেল্টাপ্লান ও মাস্টারপ্লান মোতাবেক কিশোরগঞ্জ ইটনা মিঠামইন অষ্টগ্রামে সংযুক্ত সড়কটি পুণরায় হাওর উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় এনে পূনঃসংস্কার এবং সিলেট বিভাগের নদী খননের অনিয়ম খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেয়ার আহ্বান। এছাড়া সিলেট বিভাগের নদী ও খাল খনন, কিশোরগঞ্জের নদী, খাল খনন, ময়মনসিংহের নদী খাল খনন করে পানি প্রবাহের সুপথ তৈরী কল্পে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ সিলেট বিভাগবাসীর ও হাওর অঞ্চলবাসী ঢাকার উদ্যোগে মানববন্ধন করা হয়।

 

উক্ত মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এড. সুজা আল ফারুক, সিলেট বিভাগ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি কাজী তোফায়েল আহমেদ, সিনিয়র সাংবাদিক নিজামুল হক বিপুল, সিনিয়র সাংবাদিক জাকির হোসেন, সুয়েদুজ্জামান কামালী, ঢাকাস্থ মাদবপুর উপজেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম চৌধুরী, ঢাকাস্থ সাল্লা উপজেলা সমিতির সাবেক সভাপতি হিরোদ রঞ্জন রায়, সিলেট বিভাগ যোগাযোগ উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন সোহেল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইনতেসার আহমেদ চৌধুরী, সায়েদুল হক চৌধুরী, নাজমুল হাসান, সোহেল সিকদার, মাহমুদ এজাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, এহসানুল হক জসীম, গোলাম শফিক, মোঃ আব্দুল মান্নান চৌধুরী, লোকেশ রঞ্জন দাস, আবু বক্কর সিদ্দিক, শিপন আহমেদ, জিয়া চৌধুরী প্রমুখ।