কুয়াশা ভেদ করে দৌড়ের উচ্ছ্বাস মৌলভীবাজারে বেঙ্গল কনভেনশন হাফ ম্যারাথন
- আপডেট সময় ১১:০০:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৬ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজার২৪ ডেস্কঃ তীব্র শীত ও কুয়াশাকে উপেক্ষা করে দৌড়প্রিয় মানুষের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছিল মৌলভীবাজার। চায়ের দেশ মৌলভীবাজারের পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা এবং তরুণদের সুস্থ ও সক্রিয় জীবনধারায় উদ্বুদ্ধ করার প্রত্যয়ে আয়োজন করা হয় বেঙ্গল কনভেনশন হাফ ম্যারাথন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ৮০০ দৌড়বিদ এতে অংশ নেন।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৬টায় এম সাইফুর রহমান স্টেডিয়াম থেকে দৌড়ের সূচনা হয়।
শীতের সকালের কুয়াশা ভেদ করে পাহাড়, চা-বাগান ও সবুজে মোড়া পথে ছুটে চলেন শত শত দৌড়বিদ। এদিন পর্যটন শহর মৌলভীবাজার যেন পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত দৌড় উৎসবে।
দৌড় শুরুর আগে অংশগ্রহণকারীরা বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

২১ ও ১০ কিলোমিটার এই দুই ক্যাটাগরিতে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ৮০০ দৌড়বিদ অংশ নেন। ২১ কিলোমিটার ক্যাটাগরিতে ৬০০ জন দৌড়বিদ এম সাইফুর রহমান স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, কালেঙ্গা সড়ক, দেওরাছড়া ও প্রেমনগর চা-বাগান ঘুরে পুনরায় স্টেডিয়ামে এসে দৌড় শেষ করেন। ১০ কিলোমিটার ক্যাটাগরিতে অংশ নেন ২০০ জন দৌড়বিদ।
ঢাকা থেকে আগত দৌড়বিদ সামসুদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি ঢাকায় নিয়মিত দৌড়াই।
পাহাড়ি পথে দৌড়ানো নিয়ে কিছুটা শঙ্কা ছিল, তবে ভালোভাবেই শেষ করতে পেরেছি। মেয়েদের সুস্থতার জন্য দৌড় খুবই জরুরি।’
সবচেয়ে বেশি নজর কাড়েন ৭৫ বছর বয়সী দৌড়বিদ খবির উদ্দিন খান। ২১ কিলোমিটার দৌড়ে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মরির ওপর ওষুধ নাই, দৌড়ের ওপর ব্যায়াম নাই।

মৌলভীবাজার রানার্স ক্লাব ও সাইক্লিং কমিউনিটির যৌথ আয়োজনে এবারের ম্যারাথনের থিম ছিল হাইল হাওরের বাইক্কা বিল।
প্রতিযোগিতা শেষে দুই ক্যাটাগরিতে মোট ২০ জন দৌড়বিদকে পুরস্কৃত করা হয়। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে ও আরো সুন্দরভাবে ম্যারাথন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আয়োজনকে স্বাগত জানিয়ে বেঙ্গল কনভেনশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. সঞ্জীব মীতৈ বলেন, ‘শীতের সকালের কুয়াশা ভেদ করে দৌড়ের উচ্ছ্বাসে মৌলভীবাজার একদিনের জন্য পরিণত হয় প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। এই আয়োজন শুধু একটি দৌড় নয়; এটি পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার পাশাপাশি তরুণদের সুস্থ ও সক্রিয় জীবনধারায় উদ্বুদ্ধ করার এক শক্তিশালী বার্তা।’









