ঢাকা ১১:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
শাহবাজপুর নাটিটিলা থেকে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় পাইপ গান দুই রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে বিজিবি বিএনপির পরিকল্পনায় প্রতিদ্বন্দ্বীরা ‘কান্নাকাটি’ করছে: এম নাসের রহমান অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করায় গর্তে ডুবে মাদ্রাসার ছাত্রের মৃ ত্যু মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির বাষিক নৈশভোজ ও আলোচনা সভা যারা বেহেশত ও দোজখের টিকিট দিচ্ছে তারা শিরক করছে : মৌলভীবাজারে তারেক রহমান তারেক রহমানের সফরসঙ্গী গাড়িবহরের টোল ফি অগ্রিম দিল জেলা বিএনপি শাবিপ্রবি ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে মৌলভীবাজারে ছাত্রশিবির বিক্ষোভ মিছিল তারেক রহমানের আগমনকে স্বাগত জানিয়ে মৌলভীবাজারে বিএনপির আনন্দ মিছিল ৪টি আসনে প্রতীক পেলেন ২৪ প্রার্থী মৌলভীবাজারে যাত্রা শুরু,অনলাইন বেইলবন্ডে দ্রুত মুক্তি পাবে আসামীরা

বিএনপির পরিকল্পনায় প্রতিদ্বন্দ্বীরা ‘কান্নাকাটি’ করছে: এম নাসের রহমান

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৮:০৭:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৪৩ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এম নাসের রহমান বলেন— বিএনপি আগামীতে গ্রামীণ জনগণের জন্য কী করবে, সেজন্য একটা অভিনব দুইটি সিস্টেম চালু করার পরিকল্পনা আমাদের দলের চেয়ারম্যান নিয়েছেন। এখন এই পরিকল্পনা দেখে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলওয়ালাদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এটার একটা হলো কৃষক কার্ড। আপনারা শুনেছেন। আরেকটা হলো ফ্যামেলি কার্ড। কৃষক যাঁরা আছেন, তাঁরা অত্যন্ত সুলভ মূল্যে বীজ, সার, কীটনাশকসহ চাষাবাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আরও আনুষঙ্গিক জিনিস পাবে যাতে একশ টাকার মাল বিশ বা পঁচিশ টাকায় পাওয়া যাবে। বাকি টাকা সরকার ভর্তুকি দেবে। এবং কৃষিযন্ত্রপাতি কেনার জন্য সহজ শর্তে ঋণ পাবেন।


তিনি আরও বলেন, আপনার যে ফসলাদি হবে— এ ফসল বিক্রি করে আপনি যেমন এক কেয়ার জমিতে ২০ ধান হবে, আপনি ২০ মন ধানে ২০ হাজার টাকা পাবেন। আর এ ফসল ফলাতে আরও আপনার ৫ হাজার টাকা খরচ হবে। এই মোট ২৫ হাজার টাকার বীমা কিনবেন মাত্র ৪/৫ শ টাকায়। হয়তো আরও কম হতে পারে— এটা আমি উদাহরণ হিসেবে বলতেছি। এ বীমা হলো— কোনো কারণে ঝড়, তুফান, বন্যা, খরা বা রোগে যদি ফসল নষ্ট হয়ে যায়, তখন আপনার বীমার বিপরীতে ২৫ হাজার টাকা বীমা কোম্পানি দিয়ে দেবে।
এসব বলে তিনি উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে জিজ্ঞেস করেন— সবার দরকার কি না এ কার্ড। তখন সকলে ‘দরকার’ বলে জবাব দেন। নাসের রহমান বলেন, এখন এসব দেখে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দল কান্নাকাটি করছে।

এরপর তিনি ফ্যামেলি কার্ড প্রসঙ্গে বলেন, এই ফ্যামেলি কার্ড একেকটি পরিবারের মহিলাদের নামে হবে— আপনাদের স্ত্রীর নামে, ফটোসহ। এই পরিকল্পনার নাম হচ্ছে ‘স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার প্রতিশ্রুতি’। আড়াই হাজার টাকার ভুষিমালের জিনিস একটি নির্ধারিত দোকান থেকে প্রতি মাসে ফ্রি দেওয়া হবে। এখানে কেউ কেউ বলে টাকা দিতে হবে— এটা ভুল কথা। কোনো টাকা দিতে হবে না।

তিনি বলেন, এখানে আড়াই হাজার টাকার মূল্যের দাম নির্ধারিত থাকবে— চাল কত টাকার, ডাল কত টাকার, তেল কত টাকার, চিনি, লবণ— সব নির্ধারিত থাকবে ওই ভুষিমাল দোকানে। এখানে আপনার কম-বেশি করার সুযোগ নেই। চালের দাম যদি ৫০ টাকা হয়, তাহলে আপনি ঠিক করলেন ২০ কেজি নেবেন, আর তেল নিলেন, আপনি ডাল নিলেন, মসলা নিলেন— যা মনে চায়। দরকার নেই— এটা তখন সবাই সমস্বরে বলেন ‘দরকার’।

নাসের রহমান বলেন, এখন আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা এসব নিয়ে নানা অপপ্রচার করছে। এরপর তিনি বলেন, আমাদের জামে মসজিদের যেসব ইমাম ও মুয়াজ্জিনগণ আছেন, তাঁরা মাসিক বেতন পাবেন। দুই ঈদে বোনাস পাবেন। এবং তাঁরা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পাবেন। একইভাবে সকল ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এটি প্রযোজ্য হবে।

তিনি আরও বলেন, এর পরে খালকাটা কর্মসূচি আবার চালু হবে। সারা বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল কাটা হবে। এ খাল কাটা হবে ফসল উৎপাদনের জন্য— দেশকে খাদ্যে স্বনির্ভর করে তোলার জন্য।

তিনি বলেন, এ দেশের জনগণ হলো ধানের শীষ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে। এবং জনগণের জন্য যা কিছু আছে, সব কিছু নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সব সময় কাজ করে যাবে।

তিনি বলেন, এসব রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পেতে হলে সবাইকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি মা-বোনসহ সবাইকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। আগামী নির্বাচন হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের আগামীর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। কোনো মহিলা যেন বাদ না যান— কারণ মহিলা অর্ধেক ভোটার। আর মহিলাদের নব্বই শতাংশ ভোট হলো ধানের শীষের।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নের ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন— মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য মুজিবুর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমেদ, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বদরুল আলমসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বিএনপির পরিকল্পনায় প্রতিদ্বন্দ্বীরা ‘কান্নাকাটি’ করছে: এম নাসের রহমান

আপডেট সময় ০৮:০৭:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এম নাসের রহমান বলেন— বিএনপি আগামীতে গ্রামীণ জনগণের জন্য কী করবে, সেজন্য একটা অভিনব দুইটি সিস্টেম চালু করার পরিকল্পনা আমাদের দলের চেয়ারম্যান নিয়েছেন। এখন এই পরিকল্পনা দেখে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলওয়ালাদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এটার একটা হলো কৃষক কার্ড। আপনারা শুনেছেন। আরেকটা হলো ফ্যামেলি কার্ড। কৃষক যাঁরা আছেন, তাঁরা অত্যন্ত সুলভ মূল্যে বীজ, সার, কীটনাশকসহ চাষাবাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আরও আনুষঙ্গিক জিনিস পাবে যাতে একশ টাকার মাল বিশ বা পঁচিশ টাকায় পাওয়া যাবে। বাকি টাকা সরকার ভর্তুকি দেবে। এবং কৃষিযন্ত্রপাতি কেনার জন্য সহজ শর্তে ঋণ পাবেন।


তিনি আরও বলেন, আপনার যে ফসলাদি হবে— এ ফসল বিক্রি করে আপনি যেমন এক কেয়ার জমিতে ২০ ধান হবে, আপনি ২০ মন ধানে ২০ হাজার টাকা পাবেন। আর এ ফসল ফলাতে আরও আপনার ৫ হাজার টাকা খরচ হবে। এই মোট ২৫ হাজার টাকার বীমা কিনবেন মাত্র ৪/৫ শ টাকায়। হয়তো আরও কম হতে পারে— এটা আমি উদাহরণ হিসেবে বলতেছি। এ বীমা হলো— কোনো কারণে ঝড়, তুফান, বন্যা, খরা বা রোগে যদি ফসল নষ্ট হয়ে যায়, তখন আপনার বীমার বিপরীতে ২৫ হাজার টাকা বীমা কোম্পানি দিয়ে দেবে।
এসব বলে তিনি উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে জিজ্ঞেস করেন— সবার দরকার কি না এ কার্ড। তখন সকলে ‘দরকার’ বলে জবাব দেন। নাসের রহমান বলেন, এখন এসব দেখে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দল কান্নাকাটি করছে।

এরপর তিনি ফ্যামেলি কার্ড প্রসঙ্গে বলেন, এই ফ্যামেলি কার্ড একেকটি পরিবারের মহিলাদের নামে হবে— আপনাদের স্ত্রীর নামে, ফটোসহ। এই পরিকল্পনার নাম হচ্ছে ‘স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার প্রতিশ্রুতি’। আড়াই হাজার টাকার ভুষিমালের জিনিস একটি নির্ধারিত দোকান থেকে প্রতি মাসে ফ্রি দেওয়া হবে। এখানে কেউ কেউ বলে টাকা দিতে হবে— এটা ভুল কথা। কোনো টাকা দিতে হবে না।

তিনি বলেন, এখানে আড়াই হাজার টাকার মূল্যের দাম নির্ধারিত থাকবে— চাল কত টাকার, ডাল কত টাকার, তেল কত টাকার, চিনি, লবণ— সব নির্ধারিত থাকবে ওই ভুষিমাল দোকানে। এখানে আপনার কম-বেশি করার সুযোগ নেই। চালের দাম যদি ৫০ টাকা হয়, তাহলে আপনি ঠিক করলেন ২০ কেজি নেবেন, আর তেল নিলেন, আপনি ডাল নিলেন, মসলা নিলেন— যা মনে চায়। দরকার নেই— এটা তখন সবাই সমস্বরে বলেন ‘দরকার’।

নাসের রহমান বলেন, এখন আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা এসব নিয়ে নানা অপপ্রচার করছে। এরপর তিনি বলেন, আমাদের জামে মসজিদের যেসব ইমাম ও মুয়াজ্জিনগণ আছেন, তাঁরা মাসিক বেতন পাবেন। দুই ঈদে বোনাস পাবেন। এবং তাঁরা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পাবেন। একইভাবে সকল ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এটি প্রযোজ্য হবে।

তিনি আরও বলেন, এর পরে খালকাটা কর্মসূচি আবার চালু হবে। সারা বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল কাটা হবে। এ খাল কাটা হবে ফসল উৎপাদনের জন্য— দেশকে খাদ্যে স্বনির্ভর করে তোলার জন্য।

তিনি বলেন, এ দেশের জনগণ হলো ধানের শীষ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে। এবং জনগণের জন্য যা কিছু আছে, সব কিছু নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সব সময় কাজ করে যাবে।

তিনি বলেন, এসব রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পেতে হলে সবাইকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি মা-বোনসহ সবাইকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। আগামী নির্বাচন হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের আগামীর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। কোনো মহিলা যেন বাদ না যান— কারণ মহিলা অর্ধেক ভোটার। আর মহিলাদের নব্বই শতাংশ ভোট হলো ধানের শীষের।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নের ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন— মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য মুজিবুর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমেদ, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বদরুল আলমসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।