ঢাকা ০৪:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
গেম ও এআই দিয়ে অটিজম শনাক্তকরণ: ‘ডিএনএ হ্যাক ফর হেলথ’-এ সেরা ‘নিউরোনার্চার’ শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিকদের নিয়ে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ সভা নাসের রহমানের নামে ভুয়া ফেসবুক পেজ, সতর্কবার্তা ২২ জানুয়ারির জনসভা সফল করতে আইনপুর মাঠ পরিদর্শন করলেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা মৌলভীবাজারের শামছুল ইসলাম সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবীতে মৌলভীবাজার প্রতীকী অনশন দুর্গাপুর পৌরসভা ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট ভারতীয় জিরা উদ্ধার করেছে বিজিবি মৌলভীবাজার ৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এম নাসের রহমানের সমর্থনে লন্ডনে সভা গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মিন্টু ঢালীর জামায়াতে যোগদান

গেম ও এআই দিয়ে অটিজম শনাক্তকরণ: ‘ডিএনএ হ্যাক ফর হেলথ’-এ সেরা ‘নিউরোনার্চার’

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:৫৪:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৪ বার পড়া হয়েছে

চিকিৎসা ও প্রযুক্তির এই অভিনব মেলবন্ধনে অটিজম চিকিৎসায় এআই-ভিত্তিক সলিউশন এনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘নিউরোনার্চার’ (NeuroNurture)। রানার-আপ হয়েছে ‘টিম স্টার’ (Team Star), যারা প্রাথমিক পর্যায়ে রেডিওলজিস্টদের প্রশিক্ষণে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে এবং সেকেন্ড রানার-আপ হয়েছে ‘মেডিলিঙ্ক’ (MediLink), যারা জীবন রক্ষায় আইসিইউ বেড ও জরুরি ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে একটি লাইভ লজিস্টিক অ্যাপ তৈরি করেছে। এই তিনটি দলই এখন ঢাকায় অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল গ্র্যান্ড ফিনালেতে লড়বে।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী বলেন:
“আমাদের মেডিকেল কলেজগুলোতে গবেষণা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে বিএমডিসি (BMDC) এ বিষয়ে যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে WDOMS স্বীকৃতির প্রচেষ্টা চলছে, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে USMLE-এর মতো আন্তর্জাতিক সুযোগ এনে দেবে।

তবে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন, গবেষণা সহায়তা ও ডিজিটাল এথিক্সের ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে বলেন, এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার মাধ্যমেই টেকসই উদ্ভাবন সম্ভব। প্যানেল আলোচনার শেষে সকল বক্তা একমত হন যে, ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যখাত রক্ষায় চিকিৎসা, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত আন্তঃখাতভিত্তিক (intersectorial) উদ্যোগই একমাত্র কার্যকর পথ।

মেডিকেল শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে এক নতুন দিগন্তের সূচনা প্রসঙ্গে ডিএনএ হেলথ কমিউনিকেশনস-এর প্রতিষ্ঠাতা এসএম নওশাদ এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন:
“এই হ্যাকাথন মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য এমন এক সুযোগ তৈরি করেছে, যেখানে তারা প্রকৌশল ও ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে পারছে।”
তিনি দেশে চলমান সমস্ত স্বাস্থ্য গবেষণার তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি ‘সেন্ট্রাল ডেটা রিপোজিটরি’ বা কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরির জোরালো দাবি জানান, যাতে স্থানীয় মেধায় এই উদ্ভাবনগুলো হারিয়ে না যায় বরং জাতীয় শিল্পে পরিণত হয়—যা হেলথকেয়ার এআই টুল তৈরিতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
ডিজিএইচএস/এআইএস-এর সিনিয়র কনসালটেন্ট এবং ন্যাশনাল আইসিটি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী মুহাম্মদ আসিফ আতিফ এই আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন:
“ডিএনএ হ্যাক ফর হেলথ একটি অসাধারণ সফল উদ্যোগ, আলহামদুলিল্লাহ। মেডিকেল ডোমেইনে এটিই প্রথম আয়োজন হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি ছিল সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রযুক্তির সংযোজন থেকে শুরু করে শিষ্টাচার এবং ডিসিপ্লিন—সব মিলিয়ে পুরো আয়োজনটি ছিল এক কথায় অনবদ্য।”
সিলেটে জ্বলে ওঠা এই উদ্ভাবনের মশাল খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়বে সারা দেশে। ডিএনএ হেলথ কমিউনিকেশন ঘোষণা করেছে যে, এই বছর দেশের প্রতিটি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজে এই হ্যাকাথন অনুষ্ঠিত হবে।

 

তবে আয়োজন শুধু প্রযুক্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; স্বাস্থ্য সচেতনতা ও মানসিক প্রশান্তির লক্ষ্যে বছরজুড়ে থাকবে ওয়াকথন, ম্যারাথন, আর্ট ও ফটোগ্রাফি এক্সিবিশন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ স্ট্যান্ডআপ কমেডি শো। প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির এই মেলবন্ধনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত দেখবে এক নতুন ভোরের স্বপ্ন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

গেম ও এআই দিয়ে অটিজম শনাক্তকরণ: ‘ডিএনএ হ্যাক ফর হেলথ’-এ সেরা ‘নিউরোনার্চার’

আপডেট সময় ০৪:৫৪:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

চিকিৎসা ও প্রযুক্তির এই অভিনব মেলবন্ধনে অটিজম চিকিৎসায় এআই-ভিত্তিক সলিউশন এনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘নিউরোনার্চার’ (NeuroNurture)। রানার-আপ হয়েছে ‘টিম স্টার’ (Team Star), যারা প্রাথমিক পর্যায়ে রেডিওলজিস্টদের প্রশিক্ষণে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে এবং সেকেন্ড রানার-আপ হয়েছে ‘মেডিলিঙ্ক’ (MediLink), যারা জীবন রক্ষায় আইসিইউ বেড ও জরুরি ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে একটি লাইভ লজিস্টিক অ্যাপ তৈরি করেছে। এই তিনটি দলই এখন ঢাকায় অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল গ্র্যান্ড ফিনালেতে লড়বে।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী বলেন:
“আমাদের মেডিকেল কলেজগুলোতে গবেষণা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে বিএমডিসি (BMDC) এ বিষয়ে যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে WDOMS স্বীকৃতির প্রচেষ্টা চলছে, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে USMLE-এর মতো আন্তর্জাতিক সুযোগ এনে দেবে।

তবে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন, গবেষণা সহায়তা ও ডিজিটাল এথিক্সের ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে বলেন, এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার মাধ্যমেই টেকসই উদ্ভাবন সম্ভব। প্যানেল আলোচনার শেষে সকল বক্তা একমত হন যে, ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যখাত রক্ষায় চিকিৎসা, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত আন্তঃখাতভিত্তিক (intersectorial) উদ্যোগই একমাত্র কার্যকর পথ।

মেডিকেল শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে এক নতুন দিগন্তের সূচনা প্রসঙ্গে ডিএনএ হেলথ কমিউনিকেশনস-এর প্রতিষ্ঠাতা এসএম নওশাদ এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন:
“এই হ্যাকাথন মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য এমন এক সুযোগ তৈরি করেছে, যেখানে তারা প্রকৌশল ও ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে পারছে।”
তিনি দেশে চলমান সমস্ত স্বাস্থ্য গবেষণার তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি ‘সেন্ট্রাল ডেটা রিপোজিটরি’ বা কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরির জোরালো দাবি জানান, যাতে স্থানীয় মেধায় এই উদ্ভাবনগুলো হারিয়ে না যায় বরং জাতীয় শিল্পে পরিণত হয়—যা হেলথকেয়ার এআই টুল তৈরিতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
ডিজিএইচএস/এআইএস-এর সিনিয়র কনসালটেন্ট এবং ন্যাশনাল আইসিটি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী মুহাম্মদ আসিফ আতিফ এই আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন:
“ডিএনএ হ্যাক ফর হেলথ একটি অসাধারণ সফল উদ্যোগ, আলহামদুলিল্লাহ। মেডিকেল ডোমেইনে এটিই প্রথম আয়োজন হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি ছিল সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রযুক্তির সংযোজন থেকে শুরু করে শিষ্টাচার এবং ডিসিপ্লিন—সব মিলিয়ে পুরো আয়োজনটি ছিল এক কথায় অনবদ্য।”
সিলেটে জ্বলে ওঠা এই উদ্ভাবনের মশাল খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়বে সারা দেশে। ডিএনএ হেলথ কমিউনিকেশন ঘোষণা করেছে যে, এই বছর দেশের প্রতিটি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজে এই হ্যাকাথন অনুষ্ঠিত হবে।

 

তবে আয়োজন শুধু প্রযুক্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; স্বাস্থ্য সচেতনতা ও মানসিক প্রশান্তির লক্ষ্যে বছরজুড়ে থাকবে ওয়াকথন, ম্যারাথন, আর্ট ও ফটোগ্রাফি এক্সিবিশন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ স্ট্যান্ডআপ কমেডি শো। প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির এই মেলবন্ধনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত দেখবে এক নতুন ভোরের স্বপ্ন।