ঢাকা ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ছাগলকাণ্ডে আলোচিত সাদিক এগ্রোর মালিক ইমরানের বাড়ি সিলেটে

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:১৬:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুন ২০২৪
  • / ২৩৮ বার পড়া হয়েছে

সদ্য বিদায়ী পবিত্র ঈদুল আযহায় ঘটে যাওয়া ছাগলকাণ্ড তোলপাড় ঘটিয়েছে দেশে। পরিবারসহ এনবিআর কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমানকে করেছে নিরুদ্দেশ। লাপাত্তা হয়েছেন সেই দামি ছাগলের মালিকও।

তোলপাড় করা এই ছাগলকাণ্ডে এবার জড়িয়ে গেছে  সিলেটের নাম। কারণ- আলোচিত-সমালোচিত ‘সাদিক এগ্রো’ নামক ফার্মের মালিক ইমরান হোসেনের বাড়ি সিলেটে। তবে  সিলেটে পৈত্রিক বাড়ি হলেও তাঁর জন্ম ও বেড়ে উঠা ঢাকায়। এছাড়া ইমরান হোসেনের নানার বাড়িও  সিলেটে বলে জানা গেছে।

পবিত্র ঈদুল আযহার দু সপ্তাহ আগে ‘সাদিক এগ্রোতে’ একটি গরুর দাম দেড় কোটি ও ছাগলের দাম ১৫ লাখ টাকা হাঁকার সংবাদ চাউর হওয়ার পর আলোচনায় আসেন এর মালিক ইমরান হোসেন। আলোচনা যখন তুঙ্গে- তখন (৮ জুন) ‘দ্য আরজে কিবরিয়া শো’-তে তাঁর দীর্ঘ একটি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এই সাক্ষাৎকারে ইমরান হোসেন বলেন- ‘আমার দাদার বাড়ি  সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও নানার বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলায়। আমরা ১০ ভাই-বোন। ৪ ভাই ও ৬ বোন। আমি ভাই-বোনদের মধ্যে ৯ নম্বর ও ভাইদের মধ্যে সবার ছোট। আমাদের সব ভাই-বোনের জন্ম ও বেড়ে উঠা ঢাকার কলাবাগানে। আমার বাবার স্টিলের ফ্যাক্টরি ছিলো। আমার পড়ালেখা ইংলিশ মিডিয়ামে। ২০০৭ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আমরা ৫ বন্ধু মিলে কুরবানির ঈদে পশুর ব্যবসা শুরু করি। একপর্যায়ে ‘সাদিক এগ্রো’ নামে খামার তৈরি করে চালু কই এই ব্যবসা।’

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর সূত্রে জানা যায়, কুরবানির ঈদ ঘিরে এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমানের ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাতের ছাগলকাণ্ডের পর একে একে গোমর ফাঁস হতে শুরু করে ‘গরু মাফিয়া’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ইমরান হোসেনের। অভিযোগ ছিলো- রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্রপুর খালের অনেকটাই দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে তার কথিত খামার। তবে এতদিন কোনো ব্যবস্থা না নিলেও ছাগলকাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। গত বৃহস্পতিবার একটি পে-লোডার, একটি হুইল এক্সক্যাভেটর ও তিনটি বেক-হো লোডার দিয়ে সাদিক এগ্রোতে পৌনে এক ঘণ্টাব্যাপী উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে দখল করা খালের কিছু অংশ উদ্ধার করে ডিএনসিসি। তবে অভিযানের আগেই খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে খামারে থাকা গরু-ছাগলের একটি বড় অংশই সরিয়ে নেয় সাদিক এগ্রোর কর্মচারীরা। সরানো হয় ১৫ লাখ টাকা দামের সেই আলোচিত ছাগলটিও। তবে অভিযান চলাকালীন সময়ে ফার্মের মালিক ইমরানের দেখা মেলেনি।

 

অভিযানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা হয় ইমরানের। এসময় দাবি করেন, তিনি ভাড়া করা জায়গায় খামার গড়েছেন। কোনো ভূমি বা খাল দখল করেননি। ফলে উচ্ছেদ অভিযানে তার কিছুই যায় আসে না।

 

সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ব্রাহমা প্রজাতির গরুসহ বিভিন্ন গরু-ছাগলকে অবিশ্বাস্য রকমের নাম ও দাম দিয়ে আলোচনায় থাকা ইমরান হোসেন গরু খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির পদধারী। ইমরানের বিরুদ্ধে তার কথা না শুনলে অন্য খামারিদের মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও আছে।

 

এনবিআর কর্মকর্তা মতিউরপুত্রের ছাগলকাণ্ডের পর আরও জানা যায়, সাদিক এগ্রোর কর্ণধার ইমরান চোরাই পথে আনা গরু সিন্ডিকেটেরও অন্যতম নিয়ন্ত্রক। কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে গরু আনার অভিযোগও আসছে তার বিরুদ্ধে।

 

মতিউরপুত্র ইফাতের কারণে আলোচিত সেই ছাগল নিয়েও মিথ্যা তথ্য দেন ইমরান। ১৫ লাখ টাকার সেই ছাগল নিয়ে যখন দেশব্যাপী তুলকালাম হয়। গুঞ্জন উঠে ছাগলটি দেশীয় জাতের। যশোরের একটি বাজার থেকে মাস দুয়েক আগে ১ লাখ টাকায় কিনে আনেন ইমরান।

 

তবে ঈদ সামনে রেখে সেটি বিদেশি ব্রিটল জাতের ছাগল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করেন মোহাম্মদ ইমরান হোসাইন। সাদিক অ্যাগ্রোর ইনচার্জ মো. শরীফও যশোর থেকে ছাগলটি কেনার তথ্য স্বীকার করেন।

 

এর আগে কোরবানি ঈদ উপলক্ষে এনবিআর কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমানের দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাত ১২ লাখে সাদিক অ্যাগ্রোর একটি ছাগল কেনার বায়না দিলে শুরু হয় আলোচনা। তখন সামাজিক যোগাযো মাধ্যমে নানারকম প্রশ্নের মুখে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের কথা বলতে শুরু করেন সাদিক অ্যাগ্রোর মালিক ইমরান ও এনবিআর কর্মকর্তা মতিউরের ছেলে ইফাত। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এমন ঘোলাটে হয় যে, সমালোচনার ভয়ে ইফাতকে নিজের ছেলে নয় বলে দাবি করে বসেন এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর। এরপর একে একে কেঁচো খুঁড়তে সাপের মতো বেরিয়ে আসে নানারকম চাঞ্চল্যকর তথ্য। একদিকে প্রকাশ্যে আসে ইফাতের বাবা মতিউর এবং তার পরিবারের সম্পদের পাহাড় গড়ার তথ্য। অন্যদিকে প্রকাশ পায় সাদিক অ্যাগ্রো এবং ‘গরু মাফিয়া’ ইমরানের গোমরও।

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ছাগলকাণ্ডে আলোচিত সাদিক এগ্রোর মালিক ইমরানের বাড়ি সিলেটে

আপডেট সময় ০৯:১৬:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুন ২০২৪

সদ্য বিদায়ী পবিত্র ঈদুল আযহায় ঘটে যাওয়া ছাগলকাণ্ড তোলপাড় ঘটিয়েছে দেশে। পরিবারসহ এনবিআর কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমানকে করেছে নিরুদ্দেশ। লাপাত্তা হয়েছেন সেই দামি ছাগলের মালিকও।

তোলপাড় করা এই ছাগলকাণ্ডে এবার জড়িয়ে গেছে  সিলেটের নাম। কারণ- আলোচিত-সমালোচিত ‘সাদিক এগ্রো’ নামক ফার্মের মালিক ইমরান হোসেনের বাড়ি সিলেটে। তবে  সিলেটে পৈত্রিক বাড়ি হলেও তাঁর জন্ম ও বেড়ে উঠা ঢাকায়। এছাড়া ইমরান হোসেনের নানার বাড়িও  সিলেটে বলে জানা গেছে।

পবিত্র ঈদুল আযহার দু সপ্তাহ আগে ‘সাদিক এগ্রোতে’ একটি গরুর দাম দেড় কোটি ও ছাগলের দাম ১৫ লাখ টাকা হাঁকার সংবাদ চাউর হওয়ার পর আলোচনায় আসেন এর মালিক ইমরান হোসেন। আলোচনা যখন তুঙ্গে- তখন (৮ জুন) ‘দ্য আরজে কিবরিয়া শো’-তে তাঁর দীর্ঘ একটি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এই সাক্ষাৎকারে ইমরান হোসেন বলেন- ‘আমার দাদার বাড়ি  সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও নানার বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলায়। আমরা ১০ ভাই-বোন। ৪ ভাই ও ৬ বোন। আমি ভাই-বোনদের মধ্যে ৯ নম্বর ও ভাইদের মধ্যে সবার ছোট। আমাদের সব ভাই-বোনের জন্ম ও বেড়ে উঠা ঢাকার কলাবাগানে। আমার বাবার স্টিলের ফ্যাক্টরি ছিলো। আমার পড়ালেখা ইংলিশ মিডিয়ামে। ২০০৭ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আমরা ৫ বন্ধু মিলে কুরবানির ঈদে পশুর ব্যবসা শুরু করি। একপর্যায়ে ‘সাদিক এগ্রো’ নামে খামার তৈরি করে চালু কই এই ব্যবসা।’

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর সূত্রে জানা যায়, কুরবানির ঈদ ঘিরে এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমানের ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাতের ছাগলকাণ্ডের পর একে একে গোমর ফাঁস হতে শুরু করে ‘গরু মাফিয়া’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ইমরান হোসেনের। অভিযোগ ছিলো- রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্রপুর খালের অনেকটাই দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে তার কথিত খামার। তবে এতদিন কোনো ব্যবস্থা না নিলেও ছাগলকাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। গত বৃহস্পতিবার একটি পে-লোডার, একটি হুইল এক্সক্যাভেটর ও তিনটি বেক-হো লোডার দিয়ে সাদিক এগ্রোতে পৌনে এক ঘণ্টাব্যাপী উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে দখল করা খালের কিছু অংশ উদ্ধার করে ডিএনসিসি। তবে অভিযানের আগেই খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে খামারে থাকা গরু-ছাগলের একটি বড় অংশই সরিয়ে নেয় সাদিক এগ্রোর কর্মচারীরা। সরানো হয় ১৫ লাখ টাকা দামের সেই আলোচিত ছাগলটিও। তবে অভিযান চলাকালীন সময়ে ফার্মের মালিক ইমরানের দেখা মেলেনি।

 

অভিযানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা হয় ইমরানের। এসময় দাবি করেন, তিনি ভাড়া করা জায়গায় খামার গড়েছেন। কোনো ভূমি বা খাল দখল করেননি। ফলে উচ্ছেদ অভিযানে তার কিছুই যায় আসে না।

 

সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ব্রাহমা প্রজাতির গরুসহ বিভিন্ন গরু-ছাগলকে অবিশ্বাস্য রকমের নাম ও দাম দিয়ে আলোচনায় থাকা ইমরান হোসেন গরু খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির পদধারী। ইমরানের বিরুদ্ধে তার কথা না শুনলে অন্য খামারিদের মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও আছে।

 

এনবিআর কর্মকর্তা মতিউরপুত্রের ছাগলকাণ্ডের পর আরও জানা যায়, সাদিক এগ্রোর কর্ণধার ইমরান চোরাই পথে আনা গরু সিন্ডিকেটেরও অন্যতম নিয়ন্ত্রক। কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে গরু আনার অভিযোগও আসছে তার বিরুদ্ধে।

 

মতিউরপুত্র ইফাতের কারণে আলোচিত সেই ছাগল নিয়েও মিথ্যা তথ্য দেন ইমরান। ১৫ লাখ টাকার সেই ছাগল নিয়ে যখন দেশব্যাপী তুলকালাম হয়। গুঞ্জন উঠে ছাগলটি দেশীয় জাতের। যশোরের একটি বাজার থেকে মাস দুয়েক আগে ১ লাখ টাকায় কিনে আনেন ইমরান।

 

তবে ঈদ সামনে রেখে সেটি বিদেশি ব্রিটল জাতের ছাগল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করেন মোহাম্মদ ইমরান হোসাইন। সাদিক অ্যাগ্রোর ইনচার্জ মো. শরীফও যশোর থেকে ছাগলটি কেনার তথ্য স্বীকার করেন।

 

এর আগে কোরবানি ঈদ উপলক্ষে এনবিআর কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমানের দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাত ১২ লাখে সাদিক অ্যাগ্রোর একটি ছাগল কেনার বায়না দিলে শুরু হয় আলোচনা। তখন সামাজিক যোগাযো মাধ্যমে নানারকম প্রশ্নের মুখে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের কথা বলতে শুরু করেন সাদিক অ্যাগ্রোর মালিক ইমরান ও এনবিআর কর্মকর্তা মতিউরের ছেলে ইফাত। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এমন ঘোলাটে হয় যে, সমালোচনার ভয়ে ইফাতকে নিজের ছেলে নয় বলে দাবি করে বসেন এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর। এরপর একে একে কেঁচো খুঁড়তে সাপের মতো বেরিয়ে আসে নানারকম চাঞ্চল্যকর তথ্য। একদিকে প্রকাশ্যে আসে ইফাতের বাবা মতিউর এবং তার পরিবারের সম্পদের পাহাড় গড়ার তথ্য। অন্যদিকে প্রকাশ পায় সাদিক অ্যাগ্রো এবং ‘গরু মাফিয়া’ ইমরানের গোমরও।