1. mrrahel7@gmail.com : Admin : Mahbubur Rahel
  2. samadpress96@gmail.com : Samad Ahmed : Samad Ahmed
জুড়ী উপজেলা চত্তরকে মুক্তিযোদ্ধা এম এ মুমিত আসুক চত্তর নামকরণ | moulvibazar24.com
বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ০২:৪৬ অপরাহ্ন

জুড়ী উপজেলা চত্তরকে মুক্তিযোদ্ধা এম এ মুমিত আসুক চত্তর নামকরণ

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১

সিরাজুল ইসলাম -ঃ মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা শহরের প্রবেশপথ, কুলাউড়া -বড়লেখা সড়কের জাঙ্গিরাই নাইট চৌমুরহনী(উপজেলা চত্তর) নামক স্হানের নতুন নাম “মুক্তিযোদ্ধা এম এ মুমিত আসুক চত্তর” নামকরণ করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
৭১ এর রণাঙ্গনের বীর সেনানী,মুক্তিযুদ্ধে ৪ নং সেক্টরের রাণীবাড়ী ক্যাম্পের সাব সেক্টর কমান্ডার,স্বাধীনতা পরবর্তীতে বাংলাদেশের একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্টিত ,বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক,জুড়ী উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এমএ মুমিত আসুক এর নামানুসারে এ নামকরণ করা হয়।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পত্তি শাখা গেজেট আকারে এ নামকরণের কাজ সম্পন্ন করে।

গতকাল সোমবার(১০ ই মে) ২০২১ খ্রীস্টাব্দে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, মৌলভীবাজার সরকারী এক গেজেটের আলোকে উক্ত স্হানে “মুক্তিযোদ্ধা এম এ মুমিত আসুক চত্ত্বর” নামফলক স্হাপন করে।

মুক্তিযোদ্ধা এম এ মুমিত আসুক জীবদ্দশায় শুধু একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, তিনি জুড়ী উপজেলার আপামর জনসাধারণের প্রাণের নেতা ছিলেন। ১৯৮৮ সাল থেকে জুড়ি উপজেলার পঃজুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের কাছে একজন জননেতা ছিলেন। দীর্ঘ ৩২ বছর তিনি রাজনীতির সাথে অপ্রতুলভাবে জড়িত থেকে একজন সফল জনপ্রতিনিধি হিসেবে মৃত্যুর পুর্বমূহুর্ত পর্যন্ত মানুষের সেবা করে গেছেন। পিছিয়ে পড়া জুড়ি এলাকার উন্নয়নে তার অবদান অনস্বীকার্য । জুড়ি উপজেলার রুপকার ও উন্নয়নের অগ্রদুত এ গুণিজন প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে অপরিসীম অবদানের জন্য ২০১২ বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে স্বর্ণপদক লাভ করেন।

জুড়ী উপজেলা গঠনের পুর্বেই অত্র এলাকার উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ১৯৯৪ সালে তিনি তার পরিবারের সকল ভাই বোন মিলে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ দান করে মায়ের নামে প্রতিষ্টা করেন উপজেলার সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্টান তৈয়বুননেছা খানম একাডেমি। যা সারাদেশে একটি মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্টান হিসেবে বর্তমানে সরকারি ডিগ্রি কলেজে রুপান্তর হয়েছে।এ ছাড়া তিনি তার পরিবারের সদস্যরা তাদের পিতার নামে মুছাওয়ীর দাখিল মাদ্রাসা,মুছাওয়ীর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা এবং মুক্তিযোদ্ধা এম এ মুমিত আসুক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্টান গড়ে তুলেন।
তিনি ২০১৪ সালে ২য় মেয়াদে আবার ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে জনপ্রিয়তার কারণে অসুস্হ শরীর নিয়ে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। শারিরিক অসুস্হতা দিন দিন বেড়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজ বাংলো বাড়ীতে ২২ শে নভেম্বর ২০১৪ সালে পরপারে পাড়ি দেন।

তাহার মৃত্যুতে ২০১৫ সালে উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে তার সুযোগ্য সহধর্মিণী, বর্তমান উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গুলশান আরা চৌধুরী মিলি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আসুক চেয়ারম্যান এর জনপ্রিয়তায় বিপুল ভোটে বিজয়ী হন।

বর্তমান উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্বা এম এ মোঈদ ফারুক তাহার আপন ছোট ভাই।তার আরেক ছোট ভাই ছিলেন,দেশের শীর্ষস্থানীয় ট্রাভেলস এজেন্সি সায়মন ওভারসীজ এর স্বত্বাধিকারী মরহুম বীরমুক্তিযোদ্বা এম এ মোহাইমীন সালেহ।
এম এ মুমিত আসুক,এম এ মোঈদ ফারুক ও এম এ মোহাইমিন সালেহ তারা তিন ভাই ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে নিজের জীবন বাজি রেখে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় পাক বাহিনীর সাথে লড়াই করেছেন।
জুড়ী উপজেলা সদর জনবহুল এলাকায় মুক্তিযোদ্বা এম এ মুমিত আসুক চত্তর নামকরণ করায় এলাকায় খুশির আমেজ দেখা যাচ্ছে।বিশেষ করে গতকাল সাইনবোর্ড লাগানোর সাথে সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সর্বস্হরের জনসাধারণ যথাযথ কর্তৃপক্ষ কে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে।
জায়ফরনগর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মাছুম রেজা বলেন, আমরা ইউনিয়ন পরিষদের সভায় প্রস্তাবটি রেজুলেশন আকারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট নামকরণের জন্য পাটিয়ে ছিলাম।আজ আমাদের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হওয়ায় আনন্দ লাগছে।
মুক্তিযোদ্বা আসুক এর সহধর্মিণী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গুলশান আরা মিলি বলেন,একজন মুক্তিযোদ্ধা ও এ অন্ঞ্চলের উন্নয়নের রুপকারের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য মুক্তিযোদ্ধা এম এ মুমিত আসুক চত্ত্বর নামকরণ করায় সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

এ সংক্রান্ত আরোও নিউজ