ঢাকা ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদকের বাসার কাজের মেয়ের মৃত্যুর সুষ্ট বিচারের দাবি চা-শ্রমিক বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:১০:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ২৪৯ বার পড়া হয়েছে

গত ৬ ফেব্রুয়ারি সকাল আটটার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে শাহজাহান রোডের একটি বহুতল ভবন থেকে পড়ে চা-শ্রমিকের সন্তান প্রীতি উরাং (১৫) নিহত হয়েছেন। তিনি ভবনটির নয়তলা থেকে পাশের দোতলা টিনশেডের ওপর পড়েন।

প্রীতি ঐ ভবনের নয় তলায় ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হকের বাসায় কাজ করতেন। ঘটনার পর আশফাকুল হক এবং তার স্ত্রী তানিয়া খন্দকারসহ ছয় জনকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

 

পরে হক এবং খন্দকারকে আসামি করে মামলা করেন প্রীতি উরাংয়ের বাবা লোকেশ উরাং।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট একই বাসা থেকে পড়ে ৯ বছর বয়সী এক গৃহকর্মী গুরুতর আহত হন, এবং ঐ গৃহকর্মীর অভিভাবক সৈয়দ আশফাকুল হক,তানিয়া খন্দকার, ও শিল্পী নামের এক মহিলার নামে মামলা করেন,কিন্তু অভিযোগ আছে আশফাকুল হক প্রভাবশালী সাংবাদিক হওয়ায় তখন কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় নি।

মিরতিংগা চা-বাগানের লোকেশ ওরাং এবং নমিতা ওরাং এর দুই ছেলে, দুই মেয়ে। প্রীতি সবার ছোট। বড় ছেলে আগেই অসুখে মারা যান। ছোট মেয়েটার রহস্যজনক(!) মৃত্যুতে মা-বাবা দিশেহারা। পরিবারের অভাব অনটনের কারণে ছোট মেয়েকে ঢাকার মোহাম্মদপুরে সৈয়দ আশফাকুল হকের বাসায় কাজে পাঠিয়েছিলেন।

চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি মাত্র ১৭০ টাকা। দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির এই বাজারে সংসারের জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে যায়। তাই বাধ্য হয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের এমনকি শিশু সন্তানদেরও কায়িক শ্রমের কাজের মাধ্যমে পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করতে হয়। অথচ প্রতি বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রেকর্ড পরিমাণ  চা উতপাদনের হলেও তার সুফল শ্রমিকরা পান না। ২০২৩- ২৪ সালে চা-শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কথা থাকলেও ১ বছর অতিক্রান্ত হলেও কোন পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তাই চরম দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন চা-বাগানের শ্রমিকদের পরিবার। যদি চা-শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি সহ অন্যান্য মৌলিক সুযোগ -সুবিধা  নিশ্চিত না করা হয় তাহলে শ্রমিকরা তাদের সন্তানদের ভরনপোষণের খরচ বহন করতে পারবেন না। ফলে প্রীতির মত আরও অনেক চা-বাগানের শিশু কিশোরদের বাধ্য হয়ে মানুষের বাড়িতে কাজে পাঠাতে বাধ্য হবেন চা-শ্রমিকরা।

চা-শ্রমিকেরা বাংলাদেশের সর্বাধিক অবহেলিত, নিপীড়িত এবং বঞ্চিত জনগোষ্ঠী। চা-শ্রমিকের শিশু সন্তানরা তাই প্রায়ই কঠিন এবং অনিরাপদ পরিবেশে শৈশবেই অর্থ উপার্জনে বাধ্য হোন। এমতাবস্থায় চা-শ্রমিকের ১০ দফা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি মনে করে প্রীতি উরাং এর মৃত্যু কখনোই দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে না। এই ঘটনায় গৃহকর্তার অবজ্ঞা এবং দুরভিসন্ধিমূলক কর্মকান্ডের স্পষ্ট লক্ষণ দৃশ্যমান। চা-শ্রমিকের ১০ দফা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন, সমণ্বয়ক এস এম শুভ এবং আহবায়ক সবুজ তাঁতী এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, অবিলম্বে প্রীতির রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। তদন্তকালীন সময়ে প্রীতির পরিবার যাতে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর চাপের মুখে না পরে সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে প্রীতির পরিবারের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

ভঙ্গুর রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থার এই দু:সময়ে ক্ষমতার চাপে চা-শ্রমিক সন্তান প্রীতি উরাং এর মৃত্যু যাতে চাপা না পরে সে ব্যপারে চা-জনগোষ্ঠীসহ বাংলাদেশের জনগণকে সোচ্চার থাকার আহবান জানায় চা-শ্রমিকের ১০ দফা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি।

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদকের বাসার কাজের মেয়ের মৃত্যুর সুষ্ট বিচারের দাবি চা-শ্রমিক বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির

আপডেট সময় ১০:১০:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

গত ৬ ফেব্রুয়ারি সকাল আটটার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে শাহজাহান রোডের একটি বহুতল ভবন থেকে পড়ে চা-শ্রমিকের সন্তান প্রীতি উরাং (১৫) নিহত হয়েছেন। তিনি ভবনটির নয়তলা থেকে পাশের দোতলা টিনশেডের ওপর পড়েন।

প্রীতি ঐ ভবনের নয় তলায় ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হকের বাসায় কাজ করতেন। ঘটনার পর আশফাকুল হক এবং তার স্ত্রী তানিয়া খন্দকারসহ ছয় জনকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

 

পরে হক এবং খন্দকারকে আসামি করে মামলা করেন প্রীতি উরাংয়ের বাবা লোকেশ উরাং।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট একই বাসা থেকে পড়ে ৯ বছর বয়সী এক গৃহকর্মী গুরুতর আহত হন, এবং ঐ গৃহকর্মীর অভিভাবক সৈয়দ আশফাকুল হক,তানিয়া খন্দকার, ও শিল্পী নামের এক মহিলার নামে মামলা করেন,কিন্তু অভিযোগ আছে আশফাকুল হক প্রভাবশালী সাংবাদিক হওয়ায় তখন কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় নি।

মিরতিংগা চা-বাগানের লোকেশ ওরাং এবং নমিতা ওরাং এর দুই ছেলে, দুই মেয়ে। প্রীতি সবার ছোট। বড় ছেলে আগেই অসুখে মারা যান। ছোট মেয়েটার রহস্যজনক(!) মৃত্যুতে মা-বাবা দিশেহারা। পরিবারের অভাব অনটনের কারণে ছোট মেয়েকে ঢাকার মোহাম্মদপুরে সৈয়দ আশফাকুল হকের বাসায় কাজে পাঠিয়েছিলেন।

চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি মাত্র ১৭০ টাকা। দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির এই বাজারে সংসারের জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে যায়। তাই বাধ্য হয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের এমনকি শিশু সন্তানদেরও কায়িক শ্রমের কাজের মাধ্যমে পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করতে হয়। অথচ প্রতি বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রেকর্ড পরিমাণ  চা উতপাদনের হলেও তার সুফল শ্রমিকরা পান না। ২০২৩- ২৪ সালে চা-শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কথা থাকলেও ১ বছর অতিক্রান্ত হলেও কোন পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তাই চরম দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন চা-বাগানের শ্রমিকদের পরিবার। যদি চা-শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি সহ অন্যান্য মৌলিক সুযোগ -সুবিধা  নিশ্চিত না করা হয় তাহলে শ্রমিকরা তাদের সন্তানদের ভরনপোষণের খরচ বহন করতে পারবেন না। ফলে প্রীতির মত আরও অনেক চা-বাগানের শিশু কিশোরদের বাধ্য হয়ে মানুষের বাড়িতে কাজে পাঠাতে বাধ্য হবেন চা-শ্রমিকরা।

চা-শ্রমিকেরা বাংলাদেশের সর্বাধিক অবহেলিত, নিপীড়িত এবং বঞ্চিত জনগোষ্ঠী। চা-শ্রমিকের শিশু সন্তানরা তাই প্রায়ই কঠিন এবং অনিরাপদ পরিবেশে শৈশবেই অর্থ উপার্জনে বাধ্য হোন। এমতাবস্থায় চা-শ্রমিকের ১০ দফা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি মনে করে প্রীতি উরাং এর মৃত্যু কখনোই দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে না। এই ঘটনায় গৃহকর্তার অবজ্ঞা এবং দুরভিসন্ধিমূলক কর্মকান্ডের স্পষ্ট লক্ষণ দৃশ্যমান। চা-শ্রমিকের ১০ দফা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন, সমণ্বয়ক এস এম শুভ এবং আহবায়ক সবুজ তাঁতী এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, অবিলম্বে প্রীতির রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। তদন্তকালীন সময়ে প্রীতির পরিবার যাতে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর চাপের মুখে না পরে সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে প্রীতির পরিবারের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

ভঙ্গুর রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থার এই দু:সময়ে ক্ষমতার চাপে চা-শ্রমিক সন্তান প্রীতি উরাং এর মৃত্যু যাতে চাপা না পরে সে ব্যপারে চা-জনগোষ্ঠীসহ বাংলাদেশের জনগণকে সোচ্চার থাকার আহবান জানায় চা-শ্রমিকের ১০ দফা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি।