ঢাকা ০৮:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ২১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নীলফামারীর সোনার ছেলেদের সাফল্যগাথা…এ্যাডজুটেন্ট আসাদ মিলন

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০২৩
  • / ৩৪৫ বার পড়া হয়েছে

গত ২১ মার্চ ২০২৩, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট -২০২২ এর ফাইনাল খেলা বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।ফাইনাল খেলায় জাতীয় পর্যায়ে রংপুর বিভাগের দল পূর্ব পঞ্চপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঢাকা বিভাগের একটি দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।একজন নীলফামারীয়ান হিসেবে নবীন লেখক এ্যাডজুটেন্ট আসাদ মিলন গর্বিত ও আনন্দিত। নীলফামারীর সোনার ছেলেরা দেশসেরা হয়েছে এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি গ্রহণ করেছে এর ফলে পুরো নীলফামারীবাসিকে তারা গর্বিত করেছে।

পঞ্চপুকুর নীলফামারীর একটি ইউনিয়ন এবং পঞ্চপুকুর কে ব্যাসবাক্য সহ সমাস করলে পাওয়া যায় পঞ্চ পুকুরের সমাহার অর্থাৎ দ্বিগু সমাস।কিন্তু নীলফামারীর মানুষ সাধারণত পঞ্চপুকুর কে রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় পচাপকর বলে উচ্চারণ করে যার অর্থ হচ্ছে আবর্জনাসহ পুকুর।কিন্তু আঞ্চলিক উচ্চারণের অর্থ যে বাস্তবিক অর্থে তাদের সাথে যায় না তা পূর্ব পঞ্চপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সোনার ছেলেরা দেশসেরা হয়ে প্রমাণ করেছে।যদি তর্কের খাতিরে আঞ্চলিক উচ্চারণ আমলে নেই তবু তারা গোবরে পদ্মফুল। তারা নীলফামারীর গর্ব ও মাথার মুকুট। তাদের সাফল্যে নীলফামারীর তরুণ সমাজ আলোকিত দিগন্তের পথে অগ্রসরমান হবে। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট -২০২২ উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাণী প্রদান করেছেন।

বাণীতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিশুর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও নৈতিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্বের বিষয়টা তুলে ধরেন।উল্লেখ্য যে,২০১০ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফুটবল গোল্ডকাপ এবং ২০১১ সাল থেকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ফুটবল গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট যাত্রা শুরু করে।ফাইনাল ম্যাচের পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে খেলাধুলা অনুরাগী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পরিবারের খেলাধুলার সাথে সংযোগের বিষয়টি তুলে ধরেন।শেখ কামালের হাত ধরেই আবাহনীর যাত্রা শুরু হয় এবং তার স্ত্রী সুলতানা কামাল বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা ক্রীড়াবিদ ‘ইউনিভার্সিটি ব্লু খেতাবপ্রাপ্ত।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে জানা যায়, “ আমার আব্বাও ভালো খেলোয়াড় ছিলেন।তিনি অফিসার্স ক্লাবের সেক্রেটারি ছিলেন।আমি মিশন স্কুলের ক্যাপ্টেন ছিলাম।আব্বার টিম আর আমার টিমের মধ্যে যখন খেলা হতো,তখন জনসাধারণ খুব উপভোগ করত।আমাদের স্কুল টিম খুব ভালো ছিল।মহকুমায় যারা ভালো খেলোয়াড় ছিল,তাদের এনে ভর্তি করতাম এবং বেতন ফ্রি করে দিতাম।১৯৪০ সালে আব্বার টিমকে আমার স্কুল টিম প্রায় সকল খেলায় পরাজিত করল।অফিসার্স ক্লাবের টাকার অভাব ছিল না।

খেলোয়াড়দের বাইরে থেকে আনত।সবাই নামকরা খেলোয়াড়। “ দেশের জঙ্গীবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে মোক্ষম হাতিয়ার হল খেলাধুলা। দেশের তরুণ সমাজের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ সুস্থ রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মানে অত্যন্ত সহায়ক।১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর পুত্রবধূ সুলতানা কামাল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের সাথে নিখিল ভারতে গ্রামীণ ক্রীড়ায় অংশ নিয়েছিলেন এবং দেশপ্রেমের মূর্ত প্রতীক এই ক্রীড়াবিদ ‘জয় বাংলা’ বলে লংজাম্প দিয়েছিলেন এবং সেবার তিনি দ্বিতীয় হয়েছিলেন।

দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র শেখ কামাল এবং সুলতানা কামালের যোগ্য উত্তরসূরী নীলফামারী পূর্ব পঞ্চপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সোনার ছেলেদের সাফল্যগাথা দেশের তরুণ সমাজকে পথ দেখাবে।

তাদের এ সাফল্যগাথা নীলফামারীর ইতিহাসে এক স্বর্ণালি অধ্যায়।

লেখক : উপ-সহকারী পরিচালক, র্যাব-৯ সুনামগঞ্জ ক্যাম্প।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নীলফামারীর সোনার ছেলেদের সাফল্যগাথা…এ্যাডজুটেন্ট আসাদ মিলন

আপডেট সময় ০৬:০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০২৩

গত ২১ মার্চ ২০২৩, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট -২০২২ এর ফাইনাল খেলা বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।ফাইনাল খেলায় জাতীয় পর্যায়ে রংপুর বিভাগের দল পূর্ব পঞ্চপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঢাকা বিভাগের একটি দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।একজন নীলফামারীয়ান হিসেবে নবীন লেখক এ্যাডজুটেন্ট আসাদ মিলন গর্বিত ও আনন্দিত। নীলফামারীর সোনার ছেলেরা দেশসেরা হয়েছে এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি গ্রহণ করেছে এর ফলে পুরো নীলফামারীবাসিকে তারা গর্বিত করেছে।

পঞ্চপুকুর নীলফামারীর একটি ইউনিয়ন এবং পঞ্চপুকুর কে ব্যাসবাক্য সহ সমাস করলে পাওয়া যায় পঞ্চ পুকুরের সমাহার অর্থাৎ দ্বিগু সমাস।কিন্তু নীলফামারীর মানুষ সাধারণত পঞ্চপুকুর কে রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় পচাপকর বলে উচ্চারণ করে যার অর্থ হচ্ছে আবর্জনাসহ পুকুর।কিন্তু আঞ্চলিক উচ্চারণের অর্থ যে বাস্তবিক অর্থে তাদের সাথে যায় না তা পূর্ব পঞ্চপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সোনার ছেলেরা দেশসেরা হয়ে প্রমাণ করেছে।যদি তর্কের খাতিরে আঞ্চলিক উচ্চারণ আমলে নেই তবু তারা গোবরে পদ্মফুল। তারা নীলফামারীর গর্ব ও মাথার মুকুট। তাদের সাফল্যে নীলফামারীর তরুণ সমাজ আলোকিত দিগন্তের পথে অগ্রসরমান হবে। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট -২০২২ উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাণী প্রদান করেছেন।

বাণীতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিশুর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও নৈতিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্বের বিষয়টা তুলে ধরেন।উল্লেখ্য যে,২০১০ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফুটবল গোল্ডকাপ এবং ২০১১ সাল থেকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ফুটবল গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট যাত্রা শুরু করে।ফাইনাল ম্যাচের পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে খেলাধুলা অনুরাগী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পরিবারের খেলাধুলার সাথে সংযোগের বিষয়টি তুলে ধরেন।শেখ কামালের হাত ধরেই আবাহনীর যাত্রা শুরু হয় এবং তার স্ত্রী সুলতানা কামাল বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা ক্রীড়াবিদ ‘ইউনিভার্সিটি ব্লু খেতাবপ্রাপ্ত।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে জানা যায়, “ আমার আব্বাও ভালো খেলোয়াড় ছিলেন।তিনি অফিসার্স ক্লাবের সেক্রেটারি ছিলেন।আমি মিশন স্কুলের ক্যাপ্টেন ছিলাম।আব্বার টিম আর আমার টিমের মধ্যে যখন খেলা হতো,তখন জনসাধারণ খুব উপভোগ করত।আমাদের স্কুল টিম খুব ভালো ছিল।মহকুমায় যারা ভালো খেলোয়াড় ছিল,তাদের এনে ভর্তি করতাম এবং বেতন ফ্রি করে দিতাম।১৯৪০ সালে আব্বার টিমকে আমার স্কুল টিম প্রায় সকল খেলায় পরাজিত করল।অফিসার্স ক্লাবের টাকার অভাব ছিল না।

খেলোয়াড়দের বাইরে থেকে আনত।সবাই নামকরা খেলোয়াড়। “ দেশের জঙ্গীবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে মোক্ষম হাতিয়ার হল খেলাধুলা। দেশের তরুণ সমাজের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ সুস্থ রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মানে অত্যন্ত সহায়ক।১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর পুত্রবধূ সুলতানা কামাল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের সাথে নিখিল ভারতে গ্রামীণ ক্রীড়ায় অংশ নিয়েছিলেন এবং দেশপ্রেমের মূর্ত প্রতীক এই ক্রীড়াবিদ ‘জয় বাংলা’ বলে লংজাম্প দিয়েছিলেন এবং সেবার তিনি দ্বিতীয় হয়েছিলেন।

দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র শেখ কামাল এবং সুলতানা কামালের যোগ্য উত্তরসূরী নীলফামারী পূর্ব পঞ্চপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সোনার ছেলেদের সাফল্যগাথা দেশের তরুণ সমাজকে পথ দেখাবে।

তাদের এ সাফল্যগাথা নীলফামারীর ইতিহাসে এক স্বর্ণালি অধ্যায়।

লেখক : উপ-সহকারী পরিচালক, র্যাব-৯ সুনামগঞ্জ ক্যাম্প।