ঢাকা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পাগলা কুকুরের আক্রমণে শিশুসহ আহত ২৯

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:৪৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ জুন ২০২৪
  • / ৩৬৭ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে জখম হয়ে ২৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। কুকুরের আক্রমণের শিকার আড়াই বছরের শিশু থেকে ৭০ বছরের বৃদ্ধ রয়েছেন। তাদের পা, হাত, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম হয়েছে কুকুরের কামড়ে।

 

শনিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন জায়গায় কুকুরটি আক্রমণ করে। পাগলা কুকুরকে আটক করতে শহরে তল্লাশি চালাচ্ছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। কুকুর থেকে সাবধান হতে চলছে মাইকিং।কুকুরের কামড়ে আহত হওয়া একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে তারা জানান, রাস্তার মধ্যে হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎই একটি কুকুর তাদের হাত, পা সহ শরীরের অন্যান্য জায়গায় কামড় বসিয়ে দেয়। কুকুরটির মুখ দিয়ে লালা ঝরছিল। কুকুরটি লাল রঙের।

কুকুরের কামড়ে আহত হওয়া ১০ বছরের শিশু রুহিত মিয়া জানায়, সে শুক্রবার সন্ধ্যার পর বাসা থেকে বের হয়ে মৌলভীবাজার রোডের একটি দোকানে পেনসিল কিনতে এসে হঠাৎ কুকুরের সামনে পড়ে। কোনো কিছু বোঝার আগেই কুকুরটি দৌড়ে এসে তার হাতে কামড় বসায়। তখন কোনোরকমে কুকুরকে শরীর থেকে সরিয়ে দৌড়ে এসে রেহাই পায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক ওয়ার্ড বয় বলেন, গতকাল হাসপাতালে এক করুণ অবস্থা দেখা গেছে। একসঙ্গে অনেকগুলো আহত রোগী এসেছেন। তারা সবাই কুকুরের কামড় খেয়ে এসেছেন। সাধারণ আমরা এ রকম বীভৎস রোগী দেখি না কুকুরের কামড়ের। কুকুর যেভাবে কামড় বসিয়েছে, কারও মুখ, কার হাত, পা মাংস বেরিয়ে এসেছিল। মনে হয়েছে বাঘের আক্রমণের শিকার হয়ে তারা চিকিৎসা নিতে এসেছেন।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. সুচিশ্রী সাহা বলেন, গত দুই দিনে কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে আমাদের হাসপাতালে মোট ২৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে একজনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও তিনজনকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের আমরা এখানেই চিকিৎসা দিয়েছি। আমরা প্রতিটি রোগীকে ভ্যাকসিন ও অন্যান্য ওষুধ দিয়েছি। তাদের মধ্যে জয়শ্রী সূত্রধর নামের আড়াই বছরের শিশু ছিল। তার অবস্থা খারাপ থাকা উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। গুরুতর আরও দুজনকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কর্ণ চন্দ্র মল্লিক বলেন, একটি কুকুরই সবাইকে কামড় দিচ্ছে। সম্ভবত কুকুরটি পাগল হয়ে গেছে। শহরে কুকুরটি থেকে সাবধানে থাকার জন্য ইতোমধ্যে সবাইকে সচেতন থাকার জন্য অনুরোধ করে মাইকিং করা হয়েছে। পাগল কুকুরটিকে ধরার চেষ্টা চলছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

পাগলা কুকুরের আক্রমণে শিশুসহ আহত ২৯

আপডেট সময় ০৯:৪৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ জুন ২০২৪

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে জখম হয়ে ২৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। কুকুরের আক্রমণের শিকার আড়াই বছরের শিশু থেকে ৭০ বছরের বৃদ্ধ রয়েছেন। তাদের পা, হাত, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম হয়েছে কুকুরের কামড়ে।

 

শনিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন জায়গায় কুকুরটি আক্রমণ করে। পাগলা কুকুরকে আটক করতে শহরে তল্লাশি চালাচ্ছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। কুকুর থেকে সাবধান হতে চলছে মাইকিং।কুকুরের কামড়ে আহত হওয়া একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে তারা জানান, রাস্তার মধ্যে হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎই একটি কুকুর তাদের হাত, পা সহ শরীরের অন্যান্য জায়গায় কামড় বসিয়ে দেয়। কুকুরটির মুখ দিয়ে লালা ঝরছিল। কুকুরটি লাল রঙের।

কুকুরের কামড়ে আহত হওয়া ১০ বছরের শিশু রুহিত মিয়া জানায়, সে শুক্রবার সন্ধ্যার পর বাসা থেকে বের হয়ে মৌলভীবাজার রোডের একটি দোকানে পেনসিল কিনতে এসে হঠাৎ কুকুরের সামনে পড়ে। কোনো কিছু বোঝার আগেই কুকুরটি দৌড়ে এসে তার হাতে কামড় বসায়। তখন কোনোরকমে কুকুরকে শরীর থেকে সরিয়ে দৌড়ে এসে রেহাই পায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক ওয়ার্ড বয় বলেন, গতকাল হাসপাতালে এক করুণ অবস্থা দেখা গেছে। একসঙ্গে অনেকগুলো আহত রোগী এসেছেন। তারা সবাই কুকুরের কামড় খেয়ে এসেছেন। সাধারণ আমরা এ রকম বীভৎস রোগী দেখি না কুকুরের কামড়ের। কুকুর যেভাবে কামড় বসিয়েছে, কারও মুখ, কার হাত, পা মাংস বেরিয়ে এসেছিল। মনে হয়েছে বাঘের আক্রমণের শিকার হয়ে তারা চিকিৎসা নিতে এসেছেন।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. সুচিশ্রী সাহা বলেন, গত দুই দিনে কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে আমাদের হাসপাতালে মোট ২৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে একজনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও তিনজনকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের আমরা এখানেই চিকিৎসা দিয়েছি। আমরা প্রতিটি রোগীকে ভ্যাকসিন ও অন্যান্য ওষুধ দিয়েছি। তাদের মধ্যে জয়শ্রী সূত্রধর নামের আড়াই বছরের শিশু ছিল। তার অবস্থা খারাপ থাকা উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। গুরুতর আরও দুজনকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কর্ণ চন্দ্র মল্লিক বলেন, একটি কুকুরই সবাইকে কামড় দিচ্ছে। সম্ভবত কুকুরটি পাগল হয়ে গেছে। শহরে কুকুরটি থেকে সাবধানে থাকার জন্য ইতোমধ্যে সবাইকে সচেতন থাকার জন্য অনুরোধ করে মাইকিং করা হয়েছে। পাগল কুকুরটিকে ধরার চেষ্টা চলছে।