ঢাকা ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফেব্রুয়ারি মাসে আসছে দুইটি শৈত্যপ্রবাহ

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:২৫:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ৪০৮ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজার২৪ ডেস্কঃ বৃষ্টিতে কুয়াশা কেটে সূর্যালোকের উত্তাপে গত তিন দিন ঢাকাসহ সারাদেশে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছিল। কনকনে শীতের তীব্রতা ক্ষানিকটা হ্রাস পাওয়ায় ফাগুনের নাতিশীতোষ্ণতা অনুভূত হচ্ছিল। গতকালও রাজধানীতে দিনভর ছিল রোদের উষ্ণতা। দুপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রংপুর-রাজশাহী বিভাগ বাদে দেশের অধিকাংশ এলাকায় সর্বনিম্ন-সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ব্যাবধান বড় মাত্রায় বেড়েছে।

অবশ্য উত্তরের জনপদের চিত্র ভিন্ন। দুই দিন শৈত্য প্রবাহ ছিল না। তাপমাত্রা বেড়ে কিছুটা স্বস্তির পরশ দিয়ে ফের গতকাল সকাল থেকে শীত দাপট দেখাতে শুরু করেছে। একদিনের ব্যবধানেই তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি কমে সকালে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ১৮ দশমিক ২ ডিগ্রি থেকে কমে হয়েছে ১৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে,এখনি শীতকে বিদায় বলার সময় আসেনি। আজ রবিবার থেকে আবারও সকালে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিন বিভাগের ২৮ জেলায় হালকা বৃষ্টি অথবা গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। গতকালও সিলেটসহ কয়েকটি জায়গায় সামান্য বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানান, সহসা শীত বিদায় নিচ্ছে না। এ মাসের প্রথমার্ধে দেশের উত্তর, পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এক থেকে দুটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এ সময় দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি বা ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা বা মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। মাসের শেষার্ধে দেশের কোথাও কোথাও এক-দুই দিন বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে ক্রমান্বয়ে বাড়বে দিন ও রাতের তাপমাত্রা। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা নেই।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান বলেন, শীতের তীব্রতা আর থাকবে না; তবে শীত একদম বিদায়ও নিচ্ছে না। ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে মৃদু শীত অনুভূত হবে।

কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ গতকাল জানান, আজ রবিবার থেকে আবারও দেশের অধিকাংশ অঞ্চলের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভোর ৬ টার মধ্যে সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলার ওপরে সামান্য পরিমাণে বৃষ্টি হবে। সকাল ৯ টার মধ্যে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সর্বদক্ষিণের উপকূলীয় এলাকার বেশিভাগ জেলার ওপরে হালকা থেকে মাঝারি ঘনত্বের কুয়াশা থাকার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। তিনি জানান, ১০-২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন আর একটি পশ্চিমা লঘুচাপ বাংলাদেশ ও ভারতের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে ১৫ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনিসংহ ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোতে বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

গতকাল আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী-অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহনে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।

এদিকে আবহাওয়ার জানুয়ারি মাসের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যাচ্ছে, এ মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিক অপেক্ষা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম ছিল। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও গড় তাপমাত্রা ছিল ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম।

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ফেব্রুয়ারি মাসে আসছে দুইটি শৈত্যপ্রবাহ

আপডেট সময় ১০:২৫:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

মৌলভীবাজার২৪ ডেস্কঃ বৃষ্টিতে কুয়াশা কেটে সূর্যালোকের উত্তাপে গত তিন দিন ঢাকাসহ সারাদেশে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছিল। কনকনে শীতের তীব্রতা ক্ষানিকটা হ্রাস পাওয়ায় ফাগুনের নাতিশীতোষ্ণতা অনুভূত হচ্ছিল। গতকালও রাজধানীতে দিনভর ছিল রোদের উষ্ণতা। দুপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রংপুর-রাজশাহী বিভাগ বাদে দেশের অধিকাংশ এলাকায় সর্বনিম্ন-সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ব্যাবধান বড় মাত্রায় বেড়েছে।

অবশ্য উত্তরের জনপদের চিত্র ভিন্ন। দুই দিন শৈত্য প্রবাহ ছিল না। তাপমাত্রা বেড়ে কিছুটা স্বস্তির পরশ দিয়ে ফের গতকাল সকাল থেকে শীত দাপট দেখাতে শুরু করেছে। একদিনের ব্যবধানেই তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি কমে সকালে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ১৮ দশমিক ২ ডিগ্রি থেকে কমে হয়েছে ১৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে,এখনি শীতকে বিদায় বলার সময় আসেনি। আজ রবিবার থেকে আবারও সকালে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিন বিভাগের ২৮ জেলায় হালকা বৃষ্টি অথবা গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। গতকালও সিলেটসহ কয়েকটি জায়গায় সামান্য বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানান, সহসা শীত বিদায় নিচ্ছে না। এ মাসের প্রথমার্ধে দেশের উত্তর, পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এক থেকে দুটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এ সময় দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি বা ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা বা মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। মাসের শেষার্ধে দেশের কোথাও কোথাও এক-দুই দিন বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে ক্রমান্বয়ে বাড়বে দিন ও রাতের তাপমাত্রা। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা নেই।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান বলেন, শীতের তীব্রতা আর থাকবে না; তবে শীত একদম বিদায়ও নিচ্ছে না। ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে মৃদু শীত অনুভূত হবে।

কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ গতকাল জানান, আজ রবিবার থেকে আবারও দেশের অধিকাংশ অঞ্চলের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভোর ৬ টার মধ্যে সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলার ওপরে সামান্য পরিমাণে বৃষ্টি হবে। সকাল ৯ টার মধ্যে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সর্বদক্ষিণের উপকূলীয় এলাকার বেশিভাগ জেলার ওপরে হালকা থেকে মাঝারি ঘনত্বের কুয়াশা থাকার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। তিনি জানান, ১০-২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন আর একটি পশ্চিমা লঘুচাপ বাংলাদেশ ও ভারতের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে ১৫ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনিসংহ ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোতে বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

গতকাল আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী-অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহনে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।

এদিকে আবহাওয়ার জানুয়ারি মাসের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যাচ্ছে, এ মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিক অপেক্ষা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম ছিল। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও গড় তাপমাত্রা ছিল ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম।