ঢাকা ০১:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৯৬ হাজার পশু:দামপাওয়া নিয়ে চিন্তায় খামারীরা

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:৫৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুন ২০২৪
  • / ৪৯৪ বার পড়া হয়েছে
মৌলভীবাজার২৪ ডেস্কঃ আগামী ১৭ জুন দেশব্যাপী পালিত হবে মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম ধমীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা। আর ঈদুল আজহার অন্যতম অনুষঙ্গ পশু কোরবানি ।
মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলায় ছোট-বড় ৩শতাদিক খামার গড়ে উঠেছে। ঈদকে ঘিরে ইতিমধ্যেই দেশে শুরু হয়েছে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয় চলছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বাজার ধরতে খামারিরা প্রস্তুত। প্রাকৃতিক উপায়ে বড় করা এসব গবাদিপশুর ভালো দামের আশা করছেন তারা।
এবারের ঈদুল আযহায় মৌলভীবাজার জেলায় মোট  ৯৬হাজার ৭শত ২৮টি গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যার বেশিরভাগই জোগান দেবেন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্থায়ী ও মৌসুমী খামারিরা।
গবাদিপশু কোরবানির এমন পরিসংখ্যান বিভিন্ন উপজেলা ও জেলার খামারিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে অনুযায়ী করা হয়েছে বলে জানায় জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
বর্তমানে ঈদকে সামনে রেখে খামারিরা নিজেদের সেরা ও স্বাস্থ্যবান গবাদিপশুটি হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন। এমনিতেই বাজারে গবাদি পশুর খাবারের দাম অনেক চড়া। খাবারের দাম বাড়ার অজুহাতে ব্যাপারীরাও বাড়িয়েছেন গরুর দাম। এমন পরিস্থিতিতে খামারিরাও ভাল দামের প্রত্যাশায় প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করণে ব্যস্ত। দেশীয় পদ্ধতিতে খড়, তাজা ঘাস ও ভুষিসহ পুষ্টিকর খাবার খাইয়ে মোটাতাজা করেছেন খামারিরা। তবে গরু মোটাতাজা করণে কোনো খামারিই ক্ষতিকর এন্টিবায়েটিক খাওয়াচ্ছেন না বলে নিশ্চিত করে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
জেলা সদরের মোস্তফাপুর, কামালপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকার খামার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ঈদুল আযহাকে ঘিরে খামারিদের ব্যস্ততা বেড়েছে আগের থেকে। তবে খামারিদের বড় শঙ্কা হচ্ছে ঈদকে সামনে রেখে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে চোরাই পথে গরু প্রবেশ নিয়ে। এটি বন্ধ না হলে ভাল দাম পাওয়া নিয়ে প্রভাব পড়বে বাজারে। এ বিষয়ে খামারিরা চান প্রশাসনের শক্ত অবস্থান আর সীমান্তে কঠোর নজরদারী।
সদর উপজেলার মোস্তফাপুরে শতাধিক দেশি-বিদেশি গবাদিপশু নিয়ে গড়ে তোলা আরিয়ান ডেইরি ফার্মের স্বত্ত্বাধিকারী ব্যবসায়ী সৈয়দ ফয়সল বলেন, গরুর খাবারের দাম এক বছরের ব্যবধানে দ্বিগুণ হয়েছে, তবুও ভাল দাম পাওয়ার প্রত্যাশা আমাদের। তিনি বলেন, অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে গরু চোরাচালান বন্ধে সরকার চেষ্ঠা করছে। তারপরও যদি ভারতীয় গরু বাজারে আসে তাহলে খামারিরা নিরুৎসাহিত হবে। আমার মতো অনেকে খামার বন্ধ হয়ে যাবে । তরুণ এই ব্যবসায়ীর ফার্মে সর্বোচ্চ আড়াই লাখ টাকা দামের গরু রয়েছে। এরইমধ্যে অনেক বড় বড় ষাঁড় বিক্রি হয়েছে বলে জানান তিনি।
সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আসিয়া মমরুজপুর আসিয়া এগ্রো ফার্ম স্বত্ত্বাধিকারী ব্যবসায়ী মোঃ রাফাত চৌধুরীর বলেন, আমার এখানে বিভিন্ন জাতের বড়জাতের গরু রয়েছে এক লবাষ থেকে সর্বোচ্চ আড়াই লাখ টাকা দামের গরু রয়েছে । তিনি আরও বলেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পশু লালন-পালন করে এ বছর কোরবানির উপযুক্ত করেছি।খাওয়ানো হচ্ছে ধানের কুড়া, খৈল, গমের ভুসি ও সবুজ ঘাস ইত্যাদি।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার জেলায় মোট  খামার রয়েছে ৫ হাজার ৩শ ৬৯টি। কোরবানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে  ৯৬হাজার ৭শত ২৮টি গবাদিপশু। আর ঘাটতি রয়েছে ১৪ হাজার ৭শ ৩০টি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান বলেন, ঘাটতি যেগুলো রয়েছে, সেগুলোকে ঘাটতি বলা যাবে না। কারণ, কোরবানির জন্য যে ঘাটতি রয়েছে তা ব্যক্তিগতভাবে লালন করা গবাদি পশু দ্বারা পূরণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ঈদকে সামনে রেখে সীমান্ত দিয়ে যাতে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য ইতোমধ্যে জেলার সর্বোচ্চ পর্যায়ে বৈঠক করা হয়েছে। ওই বৈঠকে সীমান্ত দিয়ে যাতে ভারতীয় গরু প্রবেশ করতে না পারে তা নিশ্চিতে কার্যক্রর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মৌলভীবাজারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৯৬ হাজার পশু:দামপাওয়া নিয়ে চিন্তায় খামারীরা

আপডেট সময় ০৫:৫৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুন ২০২৪
মৌলভীবাজার২৪ ডেস্কঃ আগামী ১৭ জুন দেশব্যাপী পালিত হবে মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম ধমীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা। আর ঈদুল আজহার অন্যতম অনুষঙ্গ পশু কোরবানি ।
মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলায় ছোট-বড় ৩শতাদিক খামার গড়ে উঠেছে। ঈদকে ঘিরে ইতিমধ্যেই দেশে শুরু হয়েছে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয় চলছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বাজার ধরতে খামারিরা প্রস্তুত। প্রাকৃতিক উপায়ে বড় করা এসব গবাদিপশুর ভালো দামের আশা করছেন তারা।
এবারের ঈদুল আযহায় মৌলভীবাজার জেলায় মোট  ৯৬হাজার ৭শত ২৮টি গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যার বেশিরভাগই জোগান দেবেন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্থায়ী ও মৌসুমী খামারিরা।
গবাদিপশু কোরবানির এমন পরিসংখ্যান বিভিন্ন উপজেলা ও জেলার খামারিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে অনুযায়ী করা হয়েছে বলে জানায় জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
বর্তমানে ঈদকে সামনে রেখে খামারিরা নিজেদের সেরা ও স্বাস্থ্যবান গবাদিপশুটি হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন। এমনিতেই বাজারে গবাদি পশুর খাবারের দাম অনেক চড়া। খাবারের দাম বাড়ার অজুহাতে ব্যাপারীরাও বাড়িয়েছেন গরুর দাম। এমন পরিস্থিতিতে খামারিরাও ভাল দামের প্রত্যাশায় প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করণে ব্যস্ত। দেশীয় পদ্ধতিতে খড়, তাজা ঘাস ও ভুষিসহ পুষ্টিকর খাবার খাইয়ে মোটাতাজা করেছেন খামারিরা। তবে গরু মোটাতাজা করণে কোনো খামারিই ক্ষতিকর এন্টিবায়েটিক খাওয়াচ্ছেন না বলে নিশ্চিত করে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
জেলা সদরের মোস্তফাপুর, কামালপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকার খামার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ঈদুল আযহাকে ঘিরে খামারিদের ব্যস্ততা বেড়েছে আগের থেকে। তবে খামারিদের বড় শঙ্কা হচ্ছে ঈদকে সামনে রেখে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে চোরাই পথে গরু প্রবেশ নিয়ে। এটি বন্ধ না হলে ভাল দাম পাওয়া নিয়ে প্রভাব পড়বে বাজারে। এ বিষয়ে খামারিরা চান প্রশাসনের শক্ত অবস্থান আর সীমান্তে কঠোর নজরদারী।
সদর উপজেলার মোস্তফাপুরে শতাধিক দেশি-বিদেশি গবাদিপশু নিয়ে গড়ে তোলা আরিয়ান ডেইরি ফার্মের স্বত্ত্বাধিকারী ব্যবসায়ী সৈয়দ ফয়সল বলেন, গরুর খাবারের দাম এক বছরের ব্যবধানে দ্বিগুণ হয়েছে, তবুও ভাল দাম পাওয়ার প্রত্যাশা আমাদের। তিনি বলেন, অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে গরু চোরাচালান বন্ধে সরকার চেষ্ঠা করছে। তারপরও যদি ভারতীয় গরু বাজারে আসে তাহলে খামারিরা নিরুৎসাহিত হবে। আমার মতো অনেকে খামার বন্ধ হয়ে যাবে । তরুণ এই ব্যবসায়ীর ফার্মে সর্বোচ্চ আড়াই লাখ টাকা দামের গরু রয়েছে। এরইমধ্যে অনেক বড় বড় ষাঁড় বিক্রি হয়েছে বলে জানান তিনি।
সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আসিয়া মমরুজপুর আসিয়া এগ্রো ফার্ম স্বত্ত্বাধিকারী ব্যবসায়ী মোঃ রাফাত চৌধুরীর বলেন, আমার এখানে বিভিন্ন জাতের বড়জাতের গরু রয়েছে এক লবাষ থেকে সর্বোচ্চ আড়াই লাখ টাকা দামের গরু রয়েছে । তিনি আরও বলেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পশু লালন-পালন করে এ বছর কোরবানির উপযুক্ত করেছি।খাওয়ানো হচ্ছে ধানের কুড়া, খৈল, গমের ভুসি ও সবুজ ঘাস ইত্যাদি।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার জেলায় মোট  খামার রয়েছে ৫ হাজার ৩শ ৬৯টি। কোরবানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে  ৯৬হাজার ৭শত ২৮টি গবাদিপশু। আর ঘাটতি রয়েছে ১৪ হাজার ৭শ ৩০টি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান বলেন, ঘাটতি যেগুলো রয়েছে, সেগুলোকে ঘাটতি বলা যাবে না। কারণ, কোরবানির জন্য যে ঘাটতি রয়েছে তা ব্যক্তিগতভাবে লালন করা গবাদি পশু দ্বারা পূরণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ঈদকে সামনে রেখে সীমান্ত দিয়ে যাতে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য ইতোমধ্যে জেলার সর্বোচ্চ পর্যায়ে বৈঠক করা হয়েছে। ওই বৈঠকে সীমান্ত দিয়ে যাতে ভারতীয় গরু প্রবেশ করতে না পারে তা নিশ্চিতে কার্যক্রর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।