ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজারে গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:৪২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • / ৯৫৪ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি: ১৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নের পূর্ব কদুপুর গ্রামে মৃত রাজকুমার পাশীর বাড়িতে চুরি করার সময় ধরা পরে স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে সায়েম মিয়া (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়।
ঘটনা পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে জনতার গণপিটুনিতে যুবক নিহত হয় শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ হলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এঘটনার একদিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সায়েমকে অপহরণ পূর্বক হত্যার অভিযোগ এনে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামী করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় নিহত সায়েম এর পিতা রিয়াজ মিয়া বাদী হয়ে মামলা (মামলা নং ২৭/১৬-২০২২) দায়ের করেছেন।

মামলায় আসামিরা হলেন, গিয়াসনগর ইউনিয়নের কদুপুর গ্রামের মৃত ছুরত মিয়ার ছেলে আতির মিয়া (৩০), একই ইউনিয়নের ইসমাইল মিয়ার ছেলে রবিন মিয়া (২৫), নিতেশ্বর গ্রামের মধুসূধন সিং এর ছেলে বিজয় সিং (২০), একই গ্রামের মঈন উদ্দিনের ছেলে ইমরান মিয়া (২৮), আশিদ মিয়ার ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (২৫), আব্দুল মন্নাফের ছেলে ইমন মিয়া (২৪), মৃত আখলিছ মিয়ার ছেলে আক্তার মিয়া (২৬), মৃত মোক্তার মিয়ার ছেলে মাহবুবুর রহমান লুদু ( ৪০), আব্দুর রশিদের ছেলে তানবির আহমদ (৩০), রনি মিয়া (৩০), মৃত আছদ্দর ডিলার ছেলে সাজ্জাদ আহমদ (৪৪), হালিম উল্লার ছেলে মো: জয়নুদ্দিনসহ অজ্ঞাত আরও ৬ থেকে ৭ জন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মৌলভীবাজার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমতিয়াজ সরকার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,বর্তমানে মামলা তদন্ত চলছে,তদন্ত শেষেই জানা যাবে ঘটনার প্রকৃত কারণ। তিনি বলেন, বর্তমানে এ ঘটনায় আতির মিয়া ও রবিন মিয়া নামে দু’জন জেল হাজতে রয়েছেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মৌলভীবাজার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়াসিনুল হক বলেন, মামলা হয়েছে তবে এ মামলায় কারো নাম যদি জড়িত না থাকার পরও চলে আসে তাহলে তদন্তের মাধ্যমে বেড়িয়ে আসবে। তিনি আরও বলেন,এ ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ।

এর আগে গত বুধবার ১৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১২ নং গিয়াসনগর ইউনিয়নের পূর্ব কদুপুর গ্রামে মৃত রাজকুমার পাশীর বাড়িতে সায়েমের নেতৃত্বে কয়েকজনের সংঘবদ্ধ চোর চক্র চুরির উদ্দেশ্যে হানা দেয় বলে জানা যায়। এসময় বাড়ির লোকজনের চিৎকারে গ্রামবাসীসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অন্যরা পালিয়ে গেলেও সায়েম জনতার হাতে ধরা পড়ে। এসময় ক্ষুব্ধ জনতা সায়েমকে গণপিটুনি দিলে সে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। পরে রাত ৩টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কিছু দূরের স¤্রাট এলপিজি ফিলিং স্টেশন থেকে সায়েমের মৃতদেহ উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে আসে। ওই ঘটনার পর স্থানীয়রা জানিয়েছিলেন ওই রাতে চুরি করতে গিয়ে জনতার গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলে সায়েমের মৃত্যু হয়। তাঁর বিরুদ্ধে চুরি ও ছিনতাইয়ের কয়েকটি মামলা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে এলাকায় অসংখ্য চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় সে জড়িত থাকলেও তাকে ধরা যায়নি। তার নেতৃত্বে গড়ে উঠা চোর চক্রের কারনে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ ছিলো।

এদিকে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, নিহত সায়েমের বিরুদ্ধে থানায় ৩টি চুরির মামলাসহ মোট ৪টি মামলার রেকর্ড রয়েছে। তবে এলাকাবাসী বলছেন তাঁর বিরুদ্ধে অসংখ্য চুরির অভিযোগ রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মৌলভীবাজারে গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের

আপডেট সময় ০৩:৪২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

বিশেষ প্রতিনিধি: ১৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নের পূর্ব কদুপুর গ্রামে মৃত রাজকুমার পাশীর বাড়িতে চুরি করার সময় ধরা পরে স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে সায়েম মিয়া (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়।
ঘটনা পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে জনতার গণপিটুনিতে যুবক নিহত হয় শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ হলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এঘটনার একদিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সায়েমকে অপহরণ পূর্বক হত্যার অভিযোগ এনে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামী করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় নিহত সায়েম এর পিতা রিয়াজ মিয়া বাদী হয়ে মামলা (মামলা নং ২৭/১৬-২০২২) দায়ের করেছেন।

মামলায় আসামিরা হলেন, গিয়াসনগর ইউনিয়নের কদুপুর গ্রামের মৃত ছুরত মিয়ার ছেলে আতির মিয়া (৩০), একই ইউনিয়নের ইসমাইল মিয়ার ছেলে রবিন মিয়া (২৫), নিতেশ্বর গ্রামের মধুসূধন সিং এর ছেলে বিজয় সিং (২০), একই গ্রামের মঈন উদ্দিনের ছেলে ইমরান মিয়া (২৮), আশিদ মিয়ার ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (২৫), আব্দুল মন্নাফের ছেলে ইমন মিয়া (২৪), মৃত আখলিছ মিয়ার ছেলে আক্তার মিয়া (২৬), মৃত মোক্তার মিয়ার ছেলে মাহবুবুর রহমান লুদু ( ৪০), আব্দুর রশিদের ছেলে তানবির আহমদ (৩০), রনি মিয়া (৩০), মৃত আছদ্দর ডিলার ছেলে সাজ্জাদ আহমদ (৪৪), হালিম উল্লার ছেলে মো: জয়নুদ্দিনসহ অজ্ঞাত আরও ৬ থেকে ৭ জন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মৌলভীবাজার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমতিয়াজ সরকার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,বর্তমানে মামলা তদন্ত চলছে,তদন্ত শেষেই জানা যাবে ঘটনার প্রকৃত কারণ। তিনি বলেন, বর্তমানে এ ঘটনায় আতির মিয়া ও রবিন মিয়া নামে দু’জন জেল হাজতে রয়েছেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মৌলভীবাজার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়াসিনুল হক বলেন, মামলা হয়েছে তবে এ মামলায় কারো নাম যদি জড়িত না থাকার পরও চলে আসে তাহলে তদন্তের মাধ্যমে বেড়িয়ে আসবে। তিনি আরও বলেন,এ ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ।

এর আগে গত বুধবার ১৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১২ নং গিয়াসনগর ইউনিয়নের পূর্ব কদুপুর গ্রামে মৃত রাজকুমার পাশীর বাড়িতে সায়েমের নেতৃত্বে কয়েকজনের সংঘবদ্ধ চোর চক্র চুরির উদ্দেশ্যে হানা দেয় বলে জানা যায়। এসময় বাড়ির লোকজনের চিৎকারে গ্রামবাসীসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অন্যরা পালিয়ে গেলেও সায়েম জনতার হাতে ধরা পড়ে। এসময় ক্ষুব্ধ জনতা সায়েমকে গণপিটুনি দিলে সে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। পরে রাত ৩টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কিছু দূরের স¤্রাট এলপিজি ফিলিং স্টেশন থেকে সায়েমের মৃতদেহ উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে আসে। ওই ঘটনার পর স্থানীয়রা জানিয়েছিলেন ওই রাতে চুরি করতে গিয়ে জনতার গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলে সায়েমের মৃত্যু হয়। তাঁর বিরুদ্ধে চুরি ও ছিনতাইয়ের কয়েকটি মামলা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে এলাকায় অসংখ্য চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় সে জড়িত থাকলেও তাকে ধরা যায়নি। তার নেতৃত্বে গড়ে উঠা চোর চক্রের কারনে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ ছিলো।

এদিকে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, নিহত সায়েমের বিরুদ্ধে থানায় ৩টি চুরির মামলাসহ মোট ৪টি মামলার রেকর্ড রয়েছে। তবে এলাকাবাসী বলছেন তাঁর বিরুদ্ধে অসংখ্য চুরির অভিযোগ রয়েছে।