ঢাকা ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজারে প্রবাসীর বাসা দখলের প্রতিবাদে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট’র বিরুদ্ধে মানববন্ধন

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৮:২৭:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ অগাস্ট ২০২২
  • / ৫৬০ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজার২৪ ডেস্ক:  মৌলভীবাজারের কাজিরগাওস্থ আমেরিকা প্রবাসী আফিয়া বেগমের বাসা দখল ও এলাকাবাসীদের হয়রানির প্রতিবাদে জেলার সাবেক ম্যাজিস্ট্রেট ফারুক আহমেদ’র বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বৃহস্পতিবার (৪আগস্ট) দুপুরে অত্যাচারে অতীষ্ট হয়ে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব মোড়ে মানববন্ধন ও রাস্তা অবরোধ করে রাখে ভুক্তভোগীরা ।

মানববন্ধনে  ভুক্তভোগীরা জানান আমরা সাধারণ মানুষ তার জন্য নিরাপদে বসবাস করতে পারি না,নিরাপদে চলাচল করতে পার না, ঘুমাতে পারি না, মামলা হামলার হুমকি দেখায় এমনকি আমাদের অনেককে জেলেও দিয়েছে।

কাজিরগাও এলাকার আফিয়া বেগমের বাসার কেয়ারটেকার মোহাম্মদ হেলাল বলেন, ফারুক আহমেদ আমাদেরকে ব্যবসা বাণিজ্য করতে দিচ্ছে না, আমাদের বাসা-বাড়িতে গিয়ে প্রতিনিয়ত মামলা হামলার হুমকি দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন যদি তোমরা আমার বিরুদ্ধে কিছু করো তাইলে আমি পুলিশ, র‌্যাব নিয়ে তোমাদেরকে গুম করে দিব।আরেক ভুক্তভোগী কাজিরগাওয়ের বাসিন্দা জুয়েল আহমদ বলেন,সে আমার দোকানে আমার দোকানে এসে আমাকে বিভিন্ন রকম হুমকি দেয় এমনকি সে আমাকে এক পর্যায়ে মেরে আমার হাটুতে আঘাত করে এতে জখম হয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে কথা বলায় আমার এলাকার অনেককেই তার মামলায় জেলে যেতে হয়েছে। আমি এখন শঙ্কায় আছি কখন জানি আমার উপরে তার বাহিনী হামলা চালায়।

মানববন্ধন চলাকালে এক পর্যায়ে ফারুক আহমেদ হাতে বোতল নিয়ে মানববন্ধন প্রতিহত করতে আসলে মানববন্ধনকারীরা একে এসিড বলে দাবী করেন এবং তাদের উপর ক্ষিপ্ত হন ।

এতে পুলিশ প্রশাসন তাকে নিরাপত্তা দিয়ে এখান থেকে সরিয়ে দেন।

অভিযুক্ত, সাবেক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও বর্তমানে ঢাকা সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বরত ফারুক আহমেদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমার ভাড়া পরিশোধ রয়েছে। লন্ডন প্রবাসী আফিয়া বেগমের স্বামী হারুন মিয়া তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বাসা বের হওয়ার জন্য হুমকি দেন। এ বিষয়ে তিনি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন, ওই মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে। আদালতে যেহেতু মামলা চলমান রয়েছে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাসা ত্যাগ করবো। তার হাতে থাকা মরিচ ও এসিড মিশ্রিত বোতলের বিষয়ে জানতে চাইলে ফারুক আহমদ বলেন, আমার হাতে এসিড থাকার প্রশ্নই আসে না। আমার হাতের বোতলে শরবত ছিল। আমি একজন ডায়বেটিক ও হার্টের রোগী, তাই আমি সবসময় শরবত সাথে রাখি। মানববন্ধনে হামলার অভিযোগ রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনুমতি না নিয়ে মানবন্ধন করায় তিনি জেলা প্রশাসক, পুলিশকে জানান। এবিষয়ে তারা কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় একজন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালনে মানববন্ধনস্থলে যাই ও পুলিশকে অনুরোধ করি যাতে এখানে কেউ মানবন্ধন না করে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান জানান, ঘটনা শুনেছে অত্যন্ত দু:খ জনক, আমরা এ বিষয়ে বিব্রত আছি। ফারুক আহমদ এই জেলার অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট ছিলেন, উনার বিরুদ্ধে একটি বিভাগীর মামলা চলছে।

 

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মৌলভীবাজারে প্রবাসীর বাসা দখলের প্রতিবাদে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট’র বিরুদ্ধে মানববন্ধন

আপডেট সময় ০৮:২৭:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ অগাস্ট ২০২২

মৌলভীবাজার২৪ ডেস্ক:  মৌলভীবাজারের কাজিরগাওস্থ আমেরিকা প্রবাসী আফিয়া বেগমের বাসা দখল ও এলাকাবাসীদের হয়রানির প্রতিবাদে জেলার সাবেক ম্যাজিস্ট্রেট ফারুক আহমেদ’র বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বৃহস্পতিবার (৪আগস্ট) দুপুরে অত্যাচারে অতীষ্ট হয়ে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব মোড়ে মানববন্ধন ও রাস্তা অবরোধ করে রাখে ভুক্তভোগীরা ।

মানববন্ধনে  ভুক্তভোগীরা জানান আমরা সাধারণ মানুষ তার জন্য নিরাপদে বসবাস করতে পারি না,নিরাপদে চলাচল করতে পার না, ঘুমাতে পারি না, মামলা হামলার হুমকি দেখায় এমনকি আমাদের অনেককে জেলেও দিয়েছে।

কাজিরগাও এলাকার আফিয়া বেগমের বাসার কেয়ারটেকার মোহাম্মদ হেলাল বলেন, ফারুক আহমেদ আমাদেরকে ব্যবসা বাণিজ্য করতে দিচ্ছে না, আমাদের বাসা-বাড়িতে গিয়ে প্রতিনিয়ত মামলা হামলার হুমকি দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন যদি তোমরা আমার বিরুদ্ধে কিছু করো তাইলে আমি পুলিশ, র‌্যাব নিয়ে তোমাদেরকে গুম করে দিব।আরেক ভুক্তভোগী কাজিরগাওয়ের বাসিন্দা জুয়েল আহমদ বলেন,সে আমার দোকানে আমার দোকানে এসে আমাকে বিভিন্ন রকম হুমকি দেয় এমনকি সে আমাকে এক পর্যায়ে মেরে আমার হাটুতে আঘাত করে এতে জখম হয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে কথা বলায় আমার এলাকার অনেককেই তার মামলায় জেলে যেতে হয়েছে। আমি এখন শঙ্কায় আছি কখন জানি আমার উপরে তার বাহিনী হামলা চালায়।

মানববন্ধন চলাকালে এক পর্যায়ে ফারুক আহমেদ হাতে বোতল নিয়ে মানববন্ধন প্রতিহত করতে আসলে মানববন্ধনকারীরা একে এসিড বলে দাবী করেন এবং তাদের উপর ক্ষিপ্ত হন ।

এতে পুলিশ প্রশাসন তাকে নিরাপত্তা দিয়ে এখান থেকে সরিয়ে দেন।

অভিযুক্ত, সাবেক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও বর্তমানে ঢাকা সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বরত ফারুক আহমেদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমার ভাড়া পরিশোধ রয়েছে। লন্ডন প্রবাসী আফিয়া বেগমের স্বামী হারুন মিয়া তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বাসা বের হওয়ার জন্য হুমকি দেন। এ বিষয়ে তিনি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন, ওই মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে। আদালতে যেহেতু মামলা চলমান রয়েছে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাসা ত্যাগ করবো। তার হাতে থাকা মরিচ ও এসিড মিশ্রিত বোতলের বিষয়ে জানতে চাইলে ফারুক আহমদ বলেন, আমার হাতে এসিড থাকার প্রশ্নই আসে না। আমার হাতের বোতলে শরবত ছিল। আমি একজন ডায়বেটিক ও হার্টের রোগী, তাই আমি সবসময় শরবত সাথে রাখি। মানববন্ধনে হামলার অভিযোগ রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনুমতি না নিয়ে মানবন্ধন করায় তিনি জেলা প্রশাসক, পুলিশকে জানান। এবিষয়ে তারা কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় একজন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালনে মানববন্ধনস্থলে যাই ও পুলিশকে অনুরোধ করি যাতে এখানে কেউ মানবন্ধন না করে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান জানান, ঘটনা শুনেছে অত্যন্ত দু:খ জনক, আমরা এ বিষয়ে বিব্রত আছি। ফারুক আহমদ এই জেলার অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট ছিলেন, উনার বিরুদ্ধে একটি বিভাগীর মামলা চলছে।