ঢাকা ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
মৌলভীবাজারে মাদক বিরোধী সেমিনার এসএসসি ২০২৪ ইং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদেরকে সোনার বাংলা আদর্শ ক্লাবের সংবর্ধনা প্রদান মৌলভীবাজারে অস্ত্র ও বিপুল পরিমান মাদকসহ একজন আটক  ৩০মে ন‍্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন মৌলভীবাজার এর উদ‍্যোগে ফ্রি হার্ট ক‍্যাম্প কলেজের একযুগ পূর্তি উপলক্ষ্যে বিশ্বায়ন-৩ এর প্রকাশনা উৎসব নিয়োগ পরিক্ষার  আগেই নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে বিএনপির ৩ নেতা মৌলভীবাজার কারাগারে ২১৭ নেতাকে বহিষ্কার করলো বিএনপি মৌলভীবাজারে মন্দিরভিত্তিক শিশু গণশিক্ষা কার্যক্রম শীর্ষক জেলা কর্মশালা কোটচাঁদপুর  ড্রাগন ফলের গাছ কেটে দিয়েছেন দূর্বৃত্তরা

মৌলভীবাজারে বৃক্ষ রোপণের শর্তে মুক্তি পেলেন আসামিরা

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:২৭:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ অগাস্ট ২০২২
  • / ৩৫২ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজার২৪ ডেস্ক: একশটি বৃক্ষ রোপণসহ বিভিন্ন শর্তে টানা সাত বছর আদালতে হাজির হওয়ায় অভিযুক্তদের কারাগারে না পাঠিয়ে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছে মৌলভীবাজার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

সোমবার (৮ আগস্ট) দুপুরে মৌলভীবাজার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ আলী আহসান ব্যতিক্রমী ও দৃষ্টান্তমূলক এ রায় দেন। আদালত উপস্থিত সকলের তিনি উদ্দেশ্যে বলেন, লঘুদণ্ডে অনেকেই কারাগারে গিয়ে আসামির সংস্পর্শে ভবিষ্যতে গুরুতর অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে। প্রবেশনের ফলে নিজেকে সংশোধন ও অপরাধ প্রবণতা থেকে বিরত থাকতে অভিযুক্তরা উৎসাহী হবে। দেশের কারাগারগুলোয় প্রায় প্রতিদিনই ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত আসামি রাখা হচ্ছে। প্রবেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লঘু শাস্তি প্রাপ্ত অপরাধীরা সমাজের মূল স্রোতধারায় ফিরে আসবে ও কারাগারগুলো মাত্রাতিরিক্ত কয়েদি হতে ভারমুক্ত হবে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১১ মার্চ মৌলভীবাজারের জুড়ী থানার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর চন্দন কুমার দাস বাদী হয়ে অভিযুক্ত কবির আহমদ ও মুহিবুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনকে আসামি করে মামলা (জি. আর ২৬/২০১৫-জুড়ী) দায়ের করেন। সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৩২৩ ধারার অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় তাদের প্রত্যেককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।

পরে অভিযুক্তদের জীবনে প্রথমবারের মতো অপরাধ বিবেচনায় ও তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গুরুতর না হওয়ায় এবং আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে প্রায় ৭ বছর নিয়মিত হাজিরা দেওয়ার কারণে আদালত তাদেরকে কারাগারে না পাঠিয়ে সংশোধনের সুযোগ দেয়।

প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিন্যান্সের ১৯৬০ এর অধীনে ১০০টি গাছ রোপণ, নতুন করে কোনো অপরাধে জড়িত না হওয়া, মাদক সেবন থেকে বিরত থাকা, শান্তি রক্ষা ও সদাচরণ করা, আদালতের নির্দেশমতো হাজির হওয়া ইত্যাদি শর্তে মুক্তি দেন আদালত। এই শর্তগুলো প্রতিপালনের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রবেশন কর্মকর্তাকে পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে আদালতকে অবহিত করবেন।

পাবলিক প্রসিকিউটর রাধাপদ দেব সজল বলেন, অধ্যাদেশটি অনেক পুরোনো হলেও প্রয়োগ ছিল না। উক্ত অধ্যাদেশটি বাস্তবায়নে প্রধান বিচারপতি মহোদয়ের নির্দেশনার আলোকে মৌলভীবাজার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে এর দৃশ্যমান প্রয়োগ শুরু হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মৌলভীবাজারে বৃক্ষ রোপণের শর্তে মুক্তি পেলেন আসামিরা

আপডেট সময় ০২:২৭:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ অগাস্ট ২০২২

মৌলভীবাজার২৪ ডেস্ক: একশটি বৃক্ষ রোপণসহ বিভিন্ন শর্তে টানা সাত বছর আদালতে হাজির হওয়ায় অভিযুক্তদের কারাগারে না পাঠিয়ে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছে মৌলভীবাজার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

সোমবার (৮ আগস্ট) দুপুরে মৌলভীবাজার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ আলী আহসান ব্যতিক্রমী ও দৃষ্টান্তমূলক এ রায় দেন। আদালত উপস্থিত সকলের তিনি উদ্দেশ্যে বলেন, লঘুদণ্ডে অনেকেই কারাগারে গিয়ে আসামির সংস্পর্শে ভবিষ্যতে গুরুতর অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে। প্রবেশনের ফলে নিজেকে সংশোধন ও অপরাধ প্রবণতা থেকে বিরত থাকতে অভিযুক্তরা উৎসাহী হবে। দেশের কারাগারগুলোয় প্রায় প্রতিদিনই ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত আসামি রাখা হচ্ছে। প্রবেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লঘু শাস্তি প্রাপ্ত অপরাধীরা সমাজের মূল স্রোতধারায় ফিরে আসবে ও কারাগারগুলো মাত্রাতিরিক্ত কয়েদি হতে ভারমুক্ত হবে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১১ মার্চ মৌলভীবাজারের জুড়ী থানার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর চন্দন কুমার দাস বাদী হয়ে অভিযুক্ত কবির আহমদ ও মুহিবুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনকে আসামি করে মামলা (জি. আর ২৬/২০১৫-জুড়ী) দায়ের করেন। সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৩২৩ ধারার অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় তাদের প্রত্যেককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।

পরে অভিযুক্তদের জীবনে প্রথমবারের মতো অপরাধ বিবেচনায় ও তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গুরুতর না হওয়ায় এবং আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে প্রায় ৭ বছর নিয়মিত হাজিরা দেওয়ার কারণে আদালত তাদেরকে কারাগারে না পাঠিয়ে সংশোধনের সুযোগ দেয়।

প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিন্যান্সের ১৯৬০ এর অধীনে ১০০টি গাছ রোপণ, নতুন করে কোনো অপরাধে জড়িত না হওয়া, মাদক সেবন থেকে বিরত থাকা, শান্তি রক্ষা ও সদাচরণ করা, আদালতের নির্দেশমতো হাজির হওয়া ইত্যাদি শর্তে মুক্তি দেন আদালত। এই শর্তগুলো প্রতিপালনের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রবেশন কর্মকর্তাকে পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে আদালতকে অবহিত করবেন।

পাবলিক প্রসিকিউটর রাধাপদ দেব সজল বলেন, অধ্যাদেশটি অনেক পুরোনো হলেও প্রয়োগ ছিল না। উক্ত অধ্যাদেশটি বাস্তবায়নে প্রধান বিচারপতি মহোদয়ের নির্দেশনার আলোকে মৌলভীবাজার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে এর দৃশ্যমান প্রয়োগ শুরু হয়েছে।