1. mrrahel7@gmail.com : Admin : Mahbubur Rahel
  2. samadpress96@gmail.com : Samad Ahmed : Samad Ahmed
শ্রীমঙ্গলস্থ বিটিআরআই এ শোভা পাচ্ছে বিরল প্রজাতির নাগলিঙ্গম | moulvibazar24.com
শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ০১:০৪ পূর্বাহ্ন

শ্রীমঙ্গলস্থ বিটিআরআই এ শোভা পাচ্ছে বিরল প্রজাতির নাগলিঙ্গম

  • আপডেট সময় সোমবার, ৫ এপ্রিল, ২০২১

মোঃ কাওছার ইকবাল: বিরল প্রজাতির ঔষধি এই গাছটি বাংলাদেশের একমাত্র চা গবেষনা ইন্সটিটিউট মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলস্থ বিটিআরআই এ শোভা পাচ্ছে।

ফুলের ঘ্রাণে গোটা এলাকা মোহিত হয়ে যায়। এটির বৈজ্ঞানিক নাম Couroupita Guianenensis. ইংরেজী নাম : Cannonball Tree. ফ্রান্সের উদ্ভিদ বিজ্ঞানী জে এফ আবলেট ১৯৫৫ সালে এটি আবিষ্কার করেন। নয়নাভিরাম ফুল, ফুল ও কুড়ি সমৃদ্ধ পাতাঝড়া এ গাছটি বিটিআরআই এর প্রাকৃতিক পরিবেশকে আরও আকর্ষনীয় করে তুলেছে।

বিশেষ করে পর্যটকদের কাছে এটি আকর্ষনীয় এক বিষয়। তিন হাজার বছর আগে থেকেই গাছটি ভারত উপমহাদেশে একটি পবিত্র উদ্ভিদ বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা শিব ও সর্প পূজায় নাগলিঙ্গম ফুল ব্যবহার করেন। ভারতে নাগলিঙ্গমকে ‘শিব কামান’ নামে ডাকা হয়। বৌদ্ধদের মন্দিরেও এই ফুলের যথেষ্ট কদর রয়েছে।

এ কারণে থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমারের বৌদ্ধ মন্দির প্রাঙ্গণে নাগলিঙ্গম গাছ বেশি দেখা যায়। তবে ভেষজ গুণাগুণ সম্পন্ন এই গাছটি সচারাচর দেখা মেলে না। স্থানীয়ভাবে এটিকে নাগলিঙ্গম বা হাতির জোলাপ বলা হয়। নাগলিঙ্গম বৃক্ষের আদি নিবাস মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বনাঞ্চল। নাগলিঙ্গম এক প্রকার বিশাল বৃক্ষ যার ফুলের নাম নাগলিঙ্গম ফুল। এই গাছে ফুল ধরার পর বেলের মতো গোল গোল ফল ধরে।

এগুলি দেখতে কামানের গোলার মত বলে এদের ইংরেজী নাম ক্যানন বল গাছ। আবার এই ফল গুলি হাতির খুবই প্রিয় খাবার বলে এই অঞ্চলে এর অন্য নাম হাতির জোলাপ গাছ। গাছটির উচ্চতা সাধারনত ৩৫ মিটার এবং ব্যাস ১৫ থেকে ২৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

এর গুচ্ছ পাতাগুলো খুব লম্বা, সাধারণভাবে ৮ থেকে ৩১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। বছরের প্রায় সব ঋতুতেই এই গাছের পাতা ঝরে এবং কয়েকদিনের মধ্যে আবার নতুন পাতা গজায়। প্রতি মৌসুমে কাষ্ঠল আবরণের চকলেট রঙ্গের ছোট বড় ফলে ৬০ থেকে ৬০০টি বীজ ধারণ করে থাকে। দ্রুত বর্ধনশীল নাগলিঙ্গম গাছে চারা রোপণের ১২ থেকে ১৪ বছর পর গাছে ফুল ধরে। গ্রীষ্মকাল এবং বর্ষাকালে ফুল ফোটে। গাছের কাণ্ড ভেদ করে বেরিয়ে আসে প্রায় ৭ ইঞ্চি দীর্ঘ অসংখ্য মঞ্জুরি। এক একটি মঞ্জরিতে ১০ থেকে ২০টি ফুল ক্রমান্বয়ে ফুটতে থাকে। মঞ্জরির একদিকে নতুন ফুল ফোটে অন্যদিকে পুরাতন ফুল ঝরে পড়ে। ফুলের রং অনেকটা লালচে কমলা বা লালচে গোলাপী হয়ে থাকে। ফুলে ৬টি মাংশল পুরু পাপড়ী থাকে। ফুলের মাঝে থাকে নাগের ফনা আকৃতির পরাগচক্র।

ধারনা করা হয় এর কারণেই এই ফুলের নাম হয়েছে নাগলিঙ্গম। বিশ্বের বিরল প্রজাতির ঔষধী এই গাছটি অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-বায়োফ্লিম গুণাগুণসম্পন্ন উদ্ভিদ। এর ফুল, ফল ও বাকল উচ্চ রক্তচাপ, টিউমার ও বিভিন্ন ধরণের ব্যাথার পথ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিটিআরআই এর পরিচালক ড. মোহাম্মদ আলী জানান, ১৯৯৩ সালের ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চা বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান বিগ্রেডিয়ার মোঃ আব্দুল্লাহ আল হেলাল নাগলিঙ্গম গাছের চারাটি রোপন করেন। যার ফলে পূর্ণ বয়স্ক এ নাগলিঙ্গম গাছটি ফুলে ফলে আকর্ষনীয় রূপ ধারণ করে বিটিআরআই ক্যাম্পাসে শোভা পাচ্ছে।

এছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বলদা গার্ডেন, রমনা পার্ক, তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বার্ডসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আনুমানিক ৫০ গাছের অস্তিত্ব রয়েছে বলে জানা গেছে বলে তিনি জানান।

এ সংক্রান্ত আরোও নিউজ