1. mrrahel7@gmail.com : Admin : Mahbubur Rahel
  2. samadpress96@gmail.com : Samad Ahmed : Samad Ahmed
শ্রীমঙ্গলে বেদে গোষ্ঠীর মানবেতর জীবনযাপন | moulvibazar24.com
বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০২:২৯ অপরাহ্ন

শ্রীমঙ্গলে বেদে গোষ্ঠীর মানবেতর জীবনযাপন

  • আপডেট সময় রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১

বিশেষ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অস্থায়ীভাবে বসতি ঘরে বসবাস করছে একদল রহস্যময় মানুষ। এরা মূলত আমাদের দেশে বাদিয়া বা বাইদ্যা নামে পরিচিত একটি ভ্রাম্যমাণ জনগোষ্ঠী। যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়ায় এখানে-ওখানে ওরা। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দেখা যায় এদের। দেশে দেশে বা অঞ্চলভেদে তাদের একেক নাম, আর বেঁচে থাকার জন্য বিচিত্রসব পেশা। নর-নারী, শিশুর অদ্ভুত তাদের চেহারা, অদ্ভুত তাদের কথাবার্তা। বেদে মানে ভ্রমণশীল বা ভবঘুরে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার দ্বারিকা পাল মহিলা ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন রেলের পাশে অবসরত বেদেদের মধ্যে দেশের কেউ সুনামগঞ্জ, কেউ ঢাকা সাভার, কেউ ছাতক, কেউ বা কুমিল্লা থেকে এসেছে। বসবাসরত বেদে ২৬ টি পরিবার আছে। এই ২৬টি পরিবারে ১২৫ জন সদস্য আছে। তবে, করোনাকালীন সময়ে বেদে গোষ্ঠীর ইনকাম না থাকায় অনেক কষ্টে জীবনযাপন পার করছে। এমনকি বেদে সম্প্রদায়ের ২৬টি পরিবার বাঁশ ও পলিথিনে তৈরি ছাউনী বানিয়ে বসবাস করছে। সেখানেই তারা তাদের বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে ঠাসাঠাসী করে বসবাস করছে। নেই স্বাস্থ্যবিধির কোন বালাই। তবে, বেদেরা সমাজের বিভিন্ন জনের দিকে তাকিয়ে আছে কিছু সাহায্যর পাবার আশায়।

 

বেদে নারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গ্রামের মানুষ এখন আর সাপ খেলা দেখতে চায়না। নেয়না ওদের চিকিৎসাও। কাউকে সাপে কাটলে এখন আর ডাক পড়ে না বেদেদের। আগের মতো ব্যবসা এখন আর হয় না। প্রায় বিলুপ্ত হতে বসেছে বেদে সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। আরো জানায়, এক সময় শুধুই নারীরা সাপ খেলা দেখিয়ে বা কবিরাজি করে অর্থ উপার্জন করতো। কিন্তু বর্তমানে নারী-পুরুষ উভয়েই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে গ্রাম-গঞ্জে ঘুরেও আগের মতো উপার্জন করতে পারে না। এছাড়াও আগের মত এখন আর সাপ পাওয়া যায় না। আমাদের চিকিৎসাও গ্রাম্য লোকজন আগের মত নেয় না।

 

বেদে মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, আমরা সাপুড়িয়া মানুষ। আমাদের বাব দাদা চৌদ্দ পুরুষ সাপ খেলা দেখিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। আমাদের মা বোনেরা সাপের খেলা দেখিয়ে চাল, টাকা পয়সা নিয়ে আসে। আমরাও আমাদের বাব দাদার ব্যবসায় নিয়োজিত। আমরা গরীব অসহায় মানুষ। আজকে লকডাউন থাকায়, আমাদের ইনকাম বন্ধু হয়ে গেছে। আমরা চার/পাঁচ দিন ধরে খুব অসহায় অবস্থায় আছি। আমাদের খাওয়া দাওয়ায় অনেক কষ্ট হচ্ছে। আমরা বাজারে উঠতে পারি না, উঠলে তাড়িয়ে দেয়, গ্রামেও যেতে পারছি না। এক গ্লাস পানি খাওয়ার জন্য চাইতে গেলেও মানুষ দেয় না! আমরা সরকারের অপেক্ষায় আছি, সরকার যদি আমাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করে তাহলে আমরা খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবো।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার দ্বারিকা পাল মহিলা ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন রেললাইন এর পাশে অস্থায়ী অবস্থানরত বেদে সম্প্রদায়ের পলিথিনের তৈরি অস্থায়ী কুঁড়ের ২৬ টি পরিবারের সর্দার মো. তোফাজ্জল হোসেন এর বক্তব্যে তাই হতাশার সুর। সর্দার বলেন, চার/পাঁচ দিন ধরে অনেকে ব্যাবসায় যেতে পারছে না। ব্যবসা বানিজ্য করতে পারছে না। খাওয়া দাওয়ার অসুবিধে হচ্ছে। এখন সাপের খেলা দেখাইতে গেলে, ঝাঁড়ফুঁক দিতে গেলে মানুষে বিভিন্ন মন্তব্য করে। করোনার কারণে এখন আমাদের ব্যবসা বানিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। করোনার কারণে সবকিছু বন্ধ, আমরা বাজারহাটে উঠতে পারছি না। গ্রাম গঞ্জে যেতে পারছি না। এসব কি আমাদের অপরাধ না কি? আমরা বেদে সমাজ গরীব হওয়া কি অপরাধ।

 

বর্তমানে আমরা এক প্রকার ভিক্ষা করেই দিন কাটাচ্ছি। গ্রাম-গঞ্জের বাড়িত বাড়িতে গিয়ে ভিক্ষুকের মতো চাই। কেউ দেয় চাল, তো কেউ নগদ টাকা দিয়ে থাকে। যা দিয়ে আমাদের পেট চলে। এর মধ্যে অনেকেই এই পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় জড়িত হয়েছে। আর যারা আমরা ধরে আছি, তারা শুধু জাতগত পেশাকে সম্মান জানাই বলে। জাতগত ব্যবসা ধরে রাখতেই দেশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়াই। তবে এর মধ্যেও অনেকে এই পেশা ছেড়ে দেওয়ার উপক্রম করছে। সরকার সহযোগিতা না করলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এদেশ থেকে হারিয়ে যাবে বেদে সম্প্রদায়।

এ সংক্রান্ত আরোও নিউজ