1. mrrahel7@gmail.com : Admin : Mahbubur Rahel
  2. samadpress96@gmail.com : Samad Ahmed : Samad Ahmed
স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম বৈঠক হয়েছিল তেলিয়াপাড়ায় | moulvibazar24.com
বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম বৈঠক হয়েছিল তেলিয়াপাড়ায়

  • আপডেট সময় রবিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২১

ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস আজ। ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোয় স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ঊর্ধ্বতন ২৭ সেনা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এ বৈঠকেই দেশকে স্বাধীন করার শপথ এবং যুদ্ধের রণকৌশল গ্রহণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনকে ভাগ করা হয় ১১টি সেক্টর ও তিনটি ব্রিগেডে। অস্ত্রের যোগান, আন্তর্জাতিক সমর্থনসহ গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এ সভায়।

প্রতিবছর ৪ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। এবারও দিনটিকে জাতীয় ভাবে তেলিয়াপাড়া দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে সকল কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।

১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেখানে উপস্থিত ছিলেন- মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্নেল আতাউল গণি ওসমানী, তৎকালীন মেজর সিআর দত্ত, মেজর জিয়াউর রহমান, কর্নেল এমএ রব, রব্বানী, ক্যাপ্টেন নাসিম, আব্দুল মতিন, মেজর খালেদ মোশাররফ, কমান্ডেন্ট মানিক চৌধুরী, ভারতের ব্রিগেডিয়ার শুভ্রমানিয়ম, মৌলানা আসাদ আলী, লে. সৈয়দ ইব্রাহীম, মেজর কেএম শফিউল্লাহ প্রমুখ।

জেনারেল এমএজি ওসমানীর নেতৃত্বে নেওয়া হয় মুক্তিযুদ্ধের সর্বাত্মক প্রস্তুতি। শপথ বাক্য পাঠ করানোর পর নিজের পিস্তল থেকে ফাঁকা গুলি ছোড়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার শপথের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন এম এ জি ওসমানী।

ওই সভায় ১০ এপ্রিল দ্বিতীয় বৈঠক ও সরকার গঠনের প্রস্তাবও করা হয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। ৩নং সেক্টর কমান্ডার মেজর কেএম শফিউল্লাহ তার হেড কোয়ার্টার স্থাপন করেন তেলিয়াপাড়া চা বাগানে। সড়ক ও রেলপথে বৃহত্তর সিলেটে প্রবেশের ক্ষেত্রে মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়ার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। এখান থেকে মুক্তি বাহিনী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা ছাড়াও তেলিয়াপাড়া চা বাগানে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প গড়ে উঠে।

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীসহ কয়েকটি সেক্টরের কমান্ডাররা বিভিন্ন সময়ে তেলিয়াপাড়া সফর করেন। ম্যানেজার বাংলোসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা ছিল মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সেনা নায়কদের পদচারণায় মুখরিত। ১৯৭১ সালের ২১ জুনের পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণের কারণে তেলিয়াপাড়া চা বাগানে স্থাপিত সেক্টর হেড কোয়ার্টার তুলে নেওয়া হয়।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২, ৩ ও ৪নং সেক্টরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে তেলিয়াপাড়া চা বাগান ম্যানেজার বাংলোর পাশে নির্মিত হয় বুলেট আকৃতির মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্মৃতিসৌধ। ১৯৭৫ সালের জুন মাসে এ স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ।

এদিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান হলেও এটি সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ ছিল না দীর্ঘদিন ধরে। ২০১১ সালের ৭ মে মুক্তিযোদ্ধাদের এক সমাবেশে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স করার কথা ঘোষণা করা হয়।

কিন্তু এখনও কোনো প্রকল্পই বাস্তবায়ন হয়নি। এরমধ্যে ন্যাশনাল টি কোম্পানি স্মৃতিসৌধকে পৃথক করে ঐতিহাসিক বাংলোটিকে বাউন্ডারি দিয়ে আলাদা করে ফেলেছে। এক সময় সেখানে বেড়া থাকলেও ছিল একটি পকেট গেট। কিন্তু বর্তমানে চারদিকে দেয়াল থাকায় কেউ দেখতে পারেন না বাংলোটি।

এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মাঝে রয়েছে চরম ক্ষোভ। বর্তমান সরকার দেশের সকল মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থানকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিচ্ছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তেলিয়াপাড়ায় কোনো কাজই হয়নি। ১০০ একর জমিতে কমপ্লেক্স করে বিভিন্ন ভাস্কর্য করার কথা ছিল। ন্যাশনাল টি কোম্পানির বাধার কারণে প্রকল্পটা বন্ধ রয়েছে।

facebook sharing button
twitter sharing button
pinterest sharing button
email sharing button
sharethis sharing button

এ সংক্রান্ত আরোও নিউজ