ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার  অঙ্গীকার দিয়ে   শুরু হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাম্পেইন 

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:৩৩:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / ৫১৪ বার পড়া হয়েছে

আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অগ্রযাত্রায় মৌলভীবাজার-রাজনগর সংসদীয় এলাকা থাকবে প্রথম সারিতে এই অঙ্গীকার নিয়ে হযরত শাহজালাল (রাঃ) এর মাজার জিয়ারত করে শুরু করেছেন মোহাম্মদ  জিল্লুর রহমান তার নির্বাচনী ক্যাম্পেইন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র,পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা মেট্রোরেল,চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১, সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল । আর তাই মহাকাশে সফলভাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ হয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের মানুষের জীবনযাত্রা পাল্টে দিয়েছে পদ্মা সেতু, রাজধানীর নাগরিক জীবনে স্বস্তি এনে দিয়েছে মেট্রোরেল। শিক্ষা, নারীশিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা, রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, পোশাকশিল্প,ওষুধশিল্প, রপ্তানি আয় বৃদ্ধিসহ সবকিছুতে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে দ্রুতগতিতে।বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে ঘোষণা এবং পরিকল্পনা করেছেন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার এবং তিনি তা ২০৪১ সালের ভিতরে সমাপ্ত করতে চান। এজন্য এই সরকার ইতিমধ্যে কাজ ও শুরু করে দিয়েছে । আর বাকি কাজ সমাপ্ত করতে হলে আবার নৌকা মার্কার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে সারা দেশে । এই কারণে এবারের নির্বাচন বেশ গুরুত্বপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখেনা । শেখ হাসিনা তার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সারা দেশে নবীন ও প্রবীনদের সমন্বয়ে একদল যোগ্য ও সম্ভাবনাময় নৌকার প্রার্থী নির্বাচন করেছেন। তারা যার যার এলাকায় নির্বাচন করে জয়লাভ করে আসতে পারবেন বলে এরকম খবরের ভিত্তিতে তিনি তাদেরকে নৌকার টিকিট দিয়েছেন । মৌলভীবাজার০৩ ও জাতীয় সংসদের ২৩৭ নং আসনে প্রার্থী দিয়েছেন মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানকে । এ কারণে জিল্লুর রহমানভাগ্যবান বলে অনেকে মনে করছেন। মৌলভীবাজারের অনেক মানুষ প্রবাসে থাকেন, বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে সহ বিশ্বের অনেক দেশেই এই এলাকার মানুষের বসবাস রয়েছে। তাই দেশে বিদেশে এখন শুধু নির্বাচনী আলাপ আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যে অনেক প্রবাসী নির্বাচনের কাজে দেশে চলে গেছেন এবং যাচ্ছেন।  লন্ডনে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে চলছেনৌকা মার্কার প্রচার প্রচারণা। অনেক জায়গাতে জিল্লুর রহমানের সমর্থনে চলছে সভা সমাবেশ। ভবিষ্যতে গ্রাম হবে নগর । সেই চিন্তা মাথায় রেখে জিল্লুর রহমান তার এলাকার প্রত্যেকটি গ্রামে নগরের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে শুরু করেছেন নির্বাচনী ক্যাম্পেইন। আসুন জিল্লুর রহমান সম্পর্কে একটু জানার চেষ্টা করি, মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান যুক্তরাজ্যের সিআইএস থেকে এমবিএ, বিএসসি ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনিআওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য ও আবাহনী সমর্থক ফোরামের চেয়ারম্যান, প্রতিভা বিকাশ বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান,শেখ রাসেল ইনডোর স্টেডিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি মৌলভীবাজার রাজনগরের তারাপাশা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি। খুব কম সময়ে নিজের দক্ষতায় বাংলাদেশের একজন তরুণ উদ্যোক্তা হয়ে উঠেন। তিনি বর্তমানে অলিলা গ্রুপের ব্যবস্হাপনাপরিচালক। তিনি বই প্রেমিক মানুষ। তার সার্বিক সহযোগিতায় “নেতা মোদের শেখ মুজিব”, “শিশুদের শেখ মুজিব” ও “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ সমগ্র” বই প্রকাশিত হয়েছে। গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, এই আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৫৬,৩৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,৩১,৮৪২ জন, নারী ভোটার ২,২৪,৫৪৭ জন ও হিজরা ভোটার ৩জন। আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা মার্কা নিয়ে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, ওয়ার্কাস পার্টি থেকে হাতুড়ি মার্কা নিয়ে তাপস কুমার ঘোষ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট থেকে মোমবাতি মার্কা নিয়ে আব্দুর রউফ, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট-মুক্তিজোট থেকে ছড়ি মার্কা নিয়ে ফাহাদ আলম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি থেকে আম মার্কা নিয়ে আবু বকর নির্বাচন করছেন। এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ করছে না তাই হয়তো তুলনামুলকভাবে অন্যান্য নির্বাচনের মতএই নির্বাচনে ভোটার উপস্হিতি কম হতে পারে । এই দিকে প্রার্থীদেরকে নজর রাখতে হবে । অতীতে দেখা গেছে দেশে অনেক নির্বাচনে ভোটার উপস্হিতি কম হওয়াতে আবার পুনরায় নির্বাচন করতে হয়েছে । এজন্য নির্বাচনকে উৎসবমুখর করার জন্য প্রার্থীদেরকে অনেক কাজ করতে হবে । ভোট কেন্দ্রে মানুষ কে নিয়ে আসার সুস্থ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এজন্য প্রশাসনকে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন এই নীতি অনুসরণ করতে হবে । তবে হয়তো ইদানীং মানুষের ভোট কেন্দ্র বিমুখী যে মানসিকতা তৈরি হয়েছে তা থেকে মানুষ ফিরে আসতে পারে বলে বিজ্ঞজন মনে করেন। আর জয় পরাজয়ের মাধ্যমে শেষ হবে জাতীয় নির্বাচন। বিগত দিনে এই আসনে নির্বাচন করেন আওয়ামী লীগ এর সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ন সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান, গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, এম নাসের রহমান ,সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযুদ্ধা সৈয়দ মহসিন আলী, সায়রা মহসিন , নেছার আহমদ প্রমুখ । উল্লেখ করা যেতে পারে রাজনগর ও কমলগঞ্জের একাংশ নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসনে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আলহাজ্ব তোয়াবুর রহিম ছিলেন নৌকার মাঝি এবং তিনি জয়লাভ করেন । তিনি রাজনগর উপজেলার বালিসহস্র গ্রামের সন্তান । পরবর্তীতে রাজনগর উপজেলার ভিতরে আর কোন প্রার্থী দেখা যায় নাই । বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী জিল্লুর রহমানকে নৌকার টিকিট দেওয়াতে রাজনগরের মানুষ খুব খুশি। এই নির্বাচনে আশা করা যাচ্ছে ভোট বিপ্লব ও ঘটতে পারে রাজনগরে। কিন্তু মৌলভীবাজারের মানুষের মাঝে কিছু অসাধু লোক অপপ্রচার চালালেও এখন সবাই জিল্লুর রহমানকে মেনে নিয়েছেন। এই কারণে আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড কে সতর্কে হতে হবে এবং এই বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে হবে। নতুবা নৌকার ডরাডুবি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে । সচেতন নাগরিকদের পরামর্শ হচ্ছে,আওয়ামী লীগকে মনে রাখতে হবে ঘরের শত্রু বিভীষণ । এই আসনের সাবেক সংসদসদস্য বৃন্দ বিভিন্ন কারণে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। তাই আজও মানুষ তাদেরকে সব সময় শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে । তিনিরা এলাকার অভূতপূর্ব উন্নয়ন করে গেছেন। আজিজুর রহমান দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন এবং রাজনীতি ও সমাজসেবা করতে গিয়ে বিয়ে-সংসার কোনটাই তিনি করেননি। তাই উনাকে সবাই শ্রদ্ধা করে জনতার আজিজ ভাই বলে ডাকতো। গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীও এই এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন আজীবন। এম সাইফুর রহমান এর উন্নয়ন মৌলভীবাজারবাসী আজীবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে । যদিও স্বাধীনতার পর এই আসন নৌকার বলে চিহ্নিত হলেও তার বিশাল উন্নয়নের জন্য বিএনপি থেকে তিনি প্রথম কোন সাংসদ এখানে নির্বাচিত হন। সৈয়দ মহসিন আলী ছিলেন একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজসেবক। তা তিনি ধরে রেখেছিলেন মরণের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত। তিনি মৌলভীবাজার পৌরসভার কয়েকবারের চেয়ারম্যান ও সাংসদ ছিলেন। তাই তিনি একাধারে ছিলেন জননেতা ও জনগণের সেবক । প্রবাদ আছে মহসিন আলীর দরবারে গেলে কেউ ফিরে না খালি । বর্তমানেও আওয়ামী রাজনীতির জন্য তার পরিবার কাজ করে যাচ্ছে । এম নাসের রহমান ও নিজস্ব ইমেজে কাজ করেছেন এই এলাকার জন্য । সায়রা মহসিন সৈয়দ মহসিন আলীর অসমাপ্ত কাজগুলি করেছেন অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে। সর্ব শেষ নেছার আহমদ যাকে শেখ হাসিনা সৎ বলে পরিচয় করে দিয়েছিলেন গত নির্বাচনের ক্যাম্পেইনে । তিনি একজন ন্যায় বিচারক ও মিষ্টভাষী মানুষ। তিনি চাওয়া পাওয়ার বেশি হিসাব করেন না । কাজ ও উন্নয়ন সাধন দুইটা ছিল তার স্বপ্ন । এই সব গুণী সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় জিল্লুর রহমানএর কাজ করার সুযোগ এসেছে। তাই উনাকে সতর্কতার সহিত কাজ করতে হবে । কাঙ্খিত সফলতা পেতে হলে উনাকে অনেক কাজ করে যেতে হবে বলে গুণীজন মনে করেন । উনাকে বুঝে শুনে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিতে হবে । যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিবেন সেটি ঠিকমত বাস্তবায়ন করার ক্ষমতা তার থাকতে হবে বা তৈরি করতে হবে। এলাকার ভোটারের অনেক চাওয়া পাওয়া রয়েছে । মৌলভীবাজারে মেডিকাল বিশ্ববিদ্যালয় নেই। এজন্য অনেক গুরুতর রোগীকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিতে নিতে রাস্তায় মারা যায় । হাসপাতালে যে সব যন্ত্রপাতি আছে এর মধ্যে অনেক যন্ত্রপাতি ঠিকমত কাজ করছে না। তা দেখার কেউ নেই। মৌলভীবাজার সদরে গ্যাস থাকলেও রাজনগরে গ্যাস নেই। এছাড়া জেলা সদরে দীর্ঘদিন ধরে নতুন কোন গ্যাসের সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। পাসপোর্ট অফিসে দালালি বন্ধ হচ্ছে না । পরিবহন ভাড়া অতিরিক্ত এটা সাধারণ মানুষের লাগামের বাহিরে চলে যাচ্ছে। পর্যটন এলাকা হলেও এই এলাকায় কোন পর্যটন ইন্ডাস্ট্রি গড়ে ওঠে নাই । এখানকার চা শ্রমিকরা অবহেলিত । তাদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের জন্য চিন্তা করা দরকার। তাই তাদের বাচ্চারা  যাতে পড়ালেখা করতে পারে সে জন্য স্কুল নির্মাণ ও মজুরি বৃদ্ধি করা দরকার।অভিযোগ আছে সব সময় বাড়তি বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় গ্রাহকদেরকে। এই সব সমস্যার সমাধান করার লক্ষ্যে যদি তিনি কাজ করেন বা প্রতিশ্রুতি দেন তবেই মানুষ এবং এলাকার অনেক উপকার হবে সুশীলরা মনে করেন এবং তার বিজয়ের পথ সহজ হতে পারে বলে তিনিরা মনে করেন।

 

লেখকঃ ড.আজিজুল আম্বিয়া , কলাম লেখক ও গবেষক। Email: azizul.ambya@yahoo.co.uk .

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার  অঙ্গীকার দিয়ে   শুরু হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাম্পেইন 

আপডেট সময় ০২:৩৩:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩

আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অগ্রযাত্রায় মৌলভীবাজার-রাজনগর সংসদীয় এলাকা থাকবে প্রথম সারিতে এই অঙ্গীকার নিয়ে হযরত শাহজালাল (রাঃ) এর মাজার জিয়ারত করে শুরু করেছেন মোহাম্মদ  জিল্লুর রহমান তার নির্বাচনী ক্যাম্পেইন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র,পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা মেট্রোরেল,চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১, সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল । আর তাই মহাকাশে সফলভাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ হয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের মানুষের জীবনযাত্রা পাল্টে দিয়েছে পদ্মা সেতু, রাজধানীর নাগরিক জীবনে স্বস্তি এনে দিয়েছে মেট্রোরেল। শিক্ষা, নারীশিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা, রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, পোশাকশিল্প,ওষুধশিল্প, রপ্তানি আয় বৃদ্ধিসহ সবকিছুতে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে দ্রুতগতিতে।বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে ঘোষণা এবং পরিকল্পনা করেছেন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার এবং তিনি তা ২০৪১ সালের ভিতরে সমাপ্ত করতে চান। এজন্য এই সরকার ইতিমধ্যে কাজ ও শুরু করে দিয়েছে । আর বাকি কাজ সমাপ্ত করতে হলে আবার নৌকা মার্কার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে সারা দেশে । এই কারণে এবারের নির্বাচন বেশ গুরুত্বপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখেনা । শেখ হাসিনা তার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সারা দেশে নবীন ও প্রবীনদের সমন্বয়ে একদল যোগ্য ও সম্ভাবনাময় নৌকার প্রার্থী নির্বাচন করেছেন। তারা যার যার এলাকায় নির্বাচন করে জয়লাভ করে আসতে পারবেন বলে এরকম খবরের ভিত্তিতে তিনি তাদেরকে নৌকার টিকিট দিয়েছেন । মৌলভীবাজার০৩ ও জাতীয় সংসদের ২৩৭ নং আসনে প্রার্থী দিয়েছেন মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানকে । এ কারণে জিল্লুর রহমানভাগ্যবান বলে অনেকে মনে করছেন। মৌলভীবাজারের অনেক মানুষ প্রবাসে থাকেন, বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে সহ বিশ্বের অনেক দেশেই এই এলাকার মানুষের বসবাস রয়েছে। তাই দেশে বিদেশে এখন শুধু নির্বাচনী আলাপ আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যে অনেক প্রবাসী নির্বাচনের কাজে দেশে চলে গেছেন এবং যাচ্ছেন।  লন্ডনে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে চলছেনৌকা মার্কার প্রচার প্রচারণা। অনেক জায়গাতে জিল্লুর রহমানের সমর্থনে চলছে সভা সমাবেশ। ভবিষ্যতে গ্রাম হবে নগর । সেই চিন্তা মাথায় রেখে জিল্লুর রহমান তার এলাকার প্রত্যেকটি গ্রামে নগরের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে শুরু করেছেন নির্বাচনী ক্যাম্পেইন। আসুন জিল্লুর রহমান সম্পর্কে একটু জানার চেষ্টা করি, মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান যুক্তরাজ্যের সিআইএস থেকে এমবিএ, বিএসসি ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনিআওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য ও আবাহনী সমর্থক ফোরামের চেয়ারম্যান, প্রতিভা বিকাশ বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান,শেখ রাসেল ইনডোর স্টেডিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি মৌলভীবাজার রাজনগরের তারাপাশা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি। খুব কম সময়ে নিজের দক্ষতায় বাংলাদেশের একজন তরুণ উদ্যোক্তা হয়ে উঠেন। তিনি বর্তমানে অলিলা গ্রুপের ব্যবস্হাপনাপরিচালক। তিনি বই প্রেমিক মানুষ। তার সার্বিক সহযোগিতায় “নেতা মোদের শেখ মুজিব”, “শিশুদের শেখ মুজিব” ও “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ সমগ্র” বই প্রকাশিত হয়েছে। গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, এই আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৫৬,৩৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,৩১,৮৪২ জন, নারী ভোটার ২,২৪,৫৪৭ জন ও হিজরা ভোটার ৩জন। আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা মার্কা নিয়ে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, ওয়ার্কাস পার্টি থেকে হাতুড়ি মার্কা নিয়ে তাপস কুমার ঘোষ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট থেকে মোমবাতি মার্কা নিয়ে আব্দুর রউফ, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট-মুক্তিজোট থেকে ছড়ি মার্কা নিয়ে ফাহাদ আলম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি থেকে আম মার্কা নিয়ে আবু বকর নির্বাচন করছেন। এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ করছে না তাই হয়তো তুলনামুলকভাবে অন্যান্য নির্বাচনের মতএই নির্বাচনে ভোটার উপস্হিতি কম হতে পারে । এই দিকে প্রার্থীদেরকে নজর রাখতে হবে । অতীতে দেখা গেছে দেশে অনেক নির্বাচনে ভোটার উপস্হিতি কম হওয়াতে আবার পুনরায় নির্বাচন করতে হয়েছে । এজন্য নির্বাচনকে উৎসবমুখর করার জন্য প্রার্থীদেরকে অনেক কাজ করতে হবে । ভোট কেন্দ্রে মানুষ কে নিয়ে আসার সুস্থ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এজন্য প্রশাসনকে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন এই নীতি অনুসরণ করতে হবে । তবে হয়তো ইদানীং মানুষের ভোট কেন্দ্র বিমুখী যে মানসিকতা তৈরি হয়েছে তা থেকে মানুষ ফিরে আসতে পারে বলে বিজ্ঞজন মনে করেন। আর জয় পরাজয়ের মাধ্যমে শেষ হবে জাতীয় নির্বাচন। বিগত দিনে এই আসনে নির্বাচন করেন আওয়ামী লীগ এর সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ন সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান, গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, এম নাসের রহমান ,সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযুদ্ধা সৈয়দ মহসিন আলী, সায়রা মহসিন , নেছার আহমদ প্রমুখ । উল্লেখ করা যেতে পারে রাজনগর ও কমলগঞ্জের একাংশ নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসনে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আলহাজ্ব তোয়াবুর রহিম ছিলেন নৌকার মাঝি এবং তিনি জয়লাভ করেন । তিনি রাজনগর উপজেলার বালিসহস্র গ্রামের সন্তান । পরবর্তীতে রাজনগর উপজেলার ভিতরে আর কোন প্রার্থী দেখা যায় নাই । বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী জিল্লুর রহমানকে নৌকার টিকিট দেওয়াতে রাজনগরের মানুষ খুব খুশি। এই নির্বাচনে আশা করা যাচ্ছে ভোট বিপ্লব ও ঘটতে পারে রাজনগরে। কিন্তু মৌলভীবাজারের মানুষের মাঝে কিছু অসাধু লোক অপপ্রচার চালালেও এখন সবাই জিল্লুর রহমানকে মেনে নিয়েছেন। এই কারণে আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড কে সতর্কে হতে হবে এবং এই বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে হবে। নতুবা নৌকার ডরাডুবি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে । সচেতন নাগরিকদের পরামর্শ হচ্ছে,আওয়ামী লীগকে মনে রাখতে হবে ঘরের শত্রু বিভীষণ । এই আসনের সাবেক সংসদসদস্য বৃন্দ বিভিন্ন কারণে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। তাই আজও মানুষ তাদেরকে সব সময় শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে । তিনিরা এলাকার অভূতপূর্ব উন্নয়ন করে গেছেন। আজিজুর রহমান দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন এবং রাজনীতি ও সমাজসেবা করতে গিয়ে বিয়ে-সংসার কোনটাই তিনি করেননি। তাই উনাকে সবাই শ্রদ্ধা করে জনতার আজিজ ভাই বলে ডাকতো। গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীও এই এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন আজীবন। এম সাইফুর রহমান এর উন্নয়ন মৌলভীবাজারবাসী আজীবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে । যদিও স্বাধীনতার পর এই আসন নৌকার বলে চিহ্নিত হলেও তার বিশাল উন্নয়নের জন্য বিএনপি থেকে তিনি প্রথম কোন সাংসদ এখানে নির্বাচিত হন। সৈয়দ মহসিন আলী ছিলেন একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজসেবক। তা তিনি ধরে রেখেছিলেন মরণের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত। তিনি মৌলভীবাজার পৌরসভার কয়েকবারের চেয়ারম্যান ও সাংসদ ছিলেন। তাই তিনি একাধারে ছিলেন জননেতা ও জনগণের সেবক । প্রবাদ আছে মহসিন আলীর দরবারে গেলে কেউ ফিরে না খালি । বর্তমানেও আওয়ামী রাজনীতির জন্য তার পরিবার কাজ করে যাচ্ছে । এম নাসের রহমান ও নিজস্ব ইমেজে কাজ করেছেন এই এলাকার জন্য । সায়রা মহসিন সৈয়দ মহসিন আলীর অসমাপ্ত কাজগুলি করেছেন অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে। সর্ব শেষ নেছার আহমদ যাকে শেখ হাসিনা সৎ বলে পরিচয় করে দিয়েছিলেন গত নির্বাচনের ক্যাম্পেইনে । তিনি একজন ন্যায় বিচারক ও মিষ্টভাষী মানুষ। তিনি চাওয়া পাওয়ার বেশি হিসাব করেন না । কাজ ও উন্নয়ন সাধন দুইটা ছিল তার স্বপ্ন । এই সব গুণী সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় জিল্লুর রহমানএর কাজ করার সুযোগ এসেছে। তাই উনাকে সতর্কতার সহিত কাজ করতে হবে । কাঙ্খিত সফলতা পেতে হলে উনাকে অনেক কাজ করে যেতে হবে বলে গুণীজন মনে করেন । উনাকে বুঝে শুনে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিতে হবে । যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিবেন সেটি ঠিকমত বাস্তবায়ন করার ক্ষমতা তার থাকতে হবে বা তৈরি করতে হবে। এলাকার ভোটারের অনেক চাওয়া পাওয়া রয়েছে । মৌলভীবাজারে মেডিকাল বিশ্ববিদ্যালয় নেই। এজন্য অনেক গুরুতর রোগীকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিতে নিতে রাস্তায় মারা যায় । হাসপাতালে যে সব যন্ত্রপাতি আছে এর মধ্যে অনেক যন্ত্রপাতি ঠিকমত কাজ করছে না। তা দেখার কেউ নেই। মৌলভীবাজার সদরে গ্যাস থাকলেও রাজনগরে গ্যাস নেই। এছাড়া জেলা সদরে দীর্ঘদিন ধরে নতুন কোন গ্যাসের সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। পাসপোর্ট অফিসে দালালি বন্ধ হচ্ছে না । পরিবহন ভাড়া অতিরিক্ত এটা সাধারণ মানুষের লাগামের বাহিরে চলে যাচ্ছে। পর্যটন এলাকা হলেও এই এলাকায় কোন পর্যটন ইন্ডাস্ট্রি গড়ে ওঠে নাই । এখানকার চা শ্রমিকরা অবহেলিত । তাদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের জন্য চিন্তা করা দরকার। তাই তাদের বাচ্চারা  যাতে পড়ালেখা করতে পারে সে জন্য স্কুল নির্মাণ ও মজুরি বৃদ্ধি করা দরকার।অভিযোগ আছে সব সময় বাড়তি বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় গ্রাহকদেরকে। এই সব সমস্যার সমাধান করার লক্ষ্যে যদি তিনি কাজ করেন বা প্রতিশ্রুতি দেন তবেই মানুষ এবং এলাকার অনেক উপকার হবে সুশীলরা মনে করেন এবং তার বিজয়ের পথ সহজ হতে পারে বলে তিনিরা মনে করেন।

 

লেখকঃ ড.আজিজুল আম্বিয়া , কলাম লেখক ও গবেষক। Email: azizul.ambya@yahoo.co.uk .