গ্যাস সংযোগ, বেহাল সড়ক ও বন্যা সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি আহমদ বিলালের
- আপডেট সময় ০৬:০৯:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৯ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত ও দেয়ালঘড়ি মার্কার প্রার্থী মাওলানা আহমদ বিলাল বলেছেন, মৌলভীবাজার শহর ও আশপাশের এলাকার নাগরিক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত রয়েছে। পৌরসভার অধিকাংশ রাস্তার বেহাল অবস্থা, বিশুদ্ধ পানির সংকট, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং বন্যার ঝুঁকি এখন সাধারণ মানুষের প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ।
সোমবার সকালে মৌলভীবাজার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডসহ শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা আহমদ বিলাল বলেন, মৌলভীবাজার পৌরসভার আওতাধীন বহু সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। একই সঙ্গে অনেক এলাকায় নিরাপদ পানির সংকটও প্রকট।
তিনি বলেন, “আমরা ক্ষমতায় গেলে এসব সমস্যা সমাধানে পৌর কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং এলজিইডি মৌলভীবাজারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা আর না থাকে।”
গ্যাস সংযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের বহু এলাকায় নতুন করে বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। “আমরা ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি বাসা-বাড়িতে গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে,”—বলেন তিনি।
বন্যা ও নদীভাঙন প্রসঙ্গে মাওলানা আহমদ বিলাল বলেন, মনুনদী দু’পারের বাঁধ মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ এসেছিল। কিন্তু তিন বছর পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত কাজ হয়নি। এর ফলে প্রতি বছর বর্ষা এলেই মৌলভীবাজারবাসী বন্যার আশঙ্কায় দিন কাটান।
তিনি বলেন, “এই অবহেলার কারণে মানুষ বারবার ক্ষতির মুখে পড়ছে। ইনশা আল্লাহ আমরা ক্ষমতায় গেলে মনুনদীর বাঁধসহ সব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টেকসই বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো, যাতে বর্ষা মৌসুমে আর বন্যা না হয়।”
তিনি আরও বলেন, মৌলভীবাজার জেলা দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত। শহর ও গ্রাম—উভয় এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা নাজুক। ক্ষমতায় গেলে পাকা রাস্তাগুলো সংস্কার এবং কাঁচা রাস্তাগুলো পাকাকরণ করা হবে। একই সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।
চিকিৎসা ও শিক্ষাব্যবস্থার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মৌলভীবাজারে কোনো মেডিকেল কলেজ না থাকায় চা বাগানের নারী শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। ক্ষমতায় গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মৌলভীবাজারে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি মৌলভীবাজার সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর এবং একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গণসংযোগকালে তিনি বলেন, “আমরা হানাহানি চাই না, আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে পরিচ্ছন্ন ও সৎ মানুষকে সংসদে পাঠাতে হবে।” তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনাদের আমানত ভোটের খেয়ানত করবো না। সরকারি অফিসে হয়রানি কমবে এবং দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ সময় গণসংযোগে অংশ নেওয়া নারী কর্মীরা বলেন, মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার প্রতিটি এলাকায় গিয়ে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, যাতে নারী ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে দেয়ালঘড়ি মার্কায় ভোট প্রদান করেন।
দেয়ালঘড়ি মার্কার প্রার্থী মাওলানা আহমদ বিলালের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— বাদ মাগরিব: নলদাড়িয়ায় উঠান বৈঠক এবং বাদ এশা: বুদ্ধিমন্তপুরে উঠান বৈঠক।









