ঢাকা ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
রশিদিয়া এতিমখানা হিফজুল কুরআন মাদরাসায় বিদায়ী সংবর্ধনা ও দস্তারবন্দী অনুষ্ঠিত পৌর বিএনপি ৩নং ওয়ার্ড আহ্বায়ক কমিটি গঠন ও কর্মীসভা অনুষ্ঠিত বিছানার উপর সাপ দেশের মানুষই হচ্ছে প্রধান বিচারক, এই দেশের মালিক জনগণ – তারেক রহমান পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের প্রহসনের নির্বাচন বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন দল করে কমিটি বানালেই কি জনগণ ভোট দিবে,তাদের তো কেউ চিনে না জানে না – মোস্তফাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনে এম নাসের রহমান রাজনগরে মাদক,জুয়া,চুরি ইভটিজিং বন্ধে সচেতনতামূলক সভা পদত্যাগ করেছেন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান মারা গেছেন পৌর বিএনপি ১নং ওয়ার্ড আহ্বায়ক কমিটি গঠন ও কর্মীসভা অনুষ্ঠিত

বন্যায় টমেটোর চারার ক্ষয়ক্ষতি দেড় কোটি টাকা

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:৫৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • / ২৫৩ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে ‘গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটোর চারা উৎপাদনের। বন্যায় পানিতে ১২০শতক জায়গার ফলনকৃত দেড় কোটি টাকার গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটোর চারা তলিয়ে যায়। ফলে ব্যাংকের ঋণের টাকা পরিশোধের চিস্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। চারা উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত থাকা শতাধিক শ্রমিক রয়েছেন বেকার।
আদমপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামে ‘গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটোর চারা উৎপাদনে’ সফল উদ্যোক্তা আং করিমের ক্ষতির সংবাদ জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসন কৃষি জমি পরিদর্শন করেন।
জানা যায়, টানা বর্ষন ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীর ১৪টি স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। বন্যায় উপজেলার ১৪৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েন। বন্যার পানিতে কৃষি, মৎস্য, রাস্তা-ঘাট ও ঘরবাড়ি সহ কয়েকশত কোাট টাকার ক্ষতি ধান ও সবজী ক্ষেতসহ মৌসুমী ফসলের চারা বিনষ্ট হয়েছে। বৃহৎ মৌসুমী সবজী চারা উৎপাদনকারীদের মধ্যে শান্তিতে জাতিসংঘ পদকপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আং করিম চাকরির সময়সীমা পার হওয়ার পর চলে আসেন অবসরে। কর্মঠ উদ্যামী করিম চাকুরী থেকে অবসর নিলেও কাজ থেকে তার অবসর নেননি আজও।

 

আং করিম নিজ আর্থায়নে ও কৃষি বিভাগের পরামর্শক্রমে তিনি হয়ে উঠেন উপজেলার একজন ‘গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটোর চারা উৎপাদনে’ সফল উদ্যোক্তা। এক সময় আং করিম নিজে একাই গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটোর চারা উৎপাদন করা শুরু করেন। এখন তিনি নিজে স্বাবলম্বীতো হয়ে প্রায় শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থানও গড়ে তুলেন। প্রায় অর্ধশত কৃষক রয়েছেন গ্রাফটিং করা চারা ব্যবহার করে টমেটোর চাষ করছেন। অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আং করিম জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় জীবন শেষ করে দিয়েছে। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেকার হয়ে পড়েছে আমার কৃষি খেতে কাজ করা শতাধিক শ্রমিক। প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ব্যাংক ঋণসহ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে এখন অসহায়ের মতো বসে আছি। ঋণের চিন্তায় রাতে ঘুম আসেনা।

 

তিনি আরো জানান, এই গ্রাফটিং করা টমেটো গাছ পানি সহনীয়। ভারি বৃষ্টিতেও এই টমেটোগাছ নষ্ট হয় না। তাই বাজারে গ্রাফটিং চারার চাহিদা বেশী। চারা নিজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের আরো আট থেকে দশটি জেলায় সরবরাহ করেছিলাম। অনেকেই মৌসুম শুরুর আগেই চারার সংখ্যা জানিয়ে অর্ডার দিয়েছিলেন। বন্যায় চারা বিনষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাদেরকে সময়মতো সরবরাহ করতেও পারবো না। চারা উৎপাদন করবোতো দুরের কথা এখন বেকার সময় পার করছি।

আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবদাল হোসেন জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে টমেটো চাষীকে সব ধরনের সহযোগীতা করা হবে।  উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়নাল আবেদীন জানান, টমেটো চাষী আং করিমের ক্ষতি হওয়া গ্রাফটিং করা চারার খামারগুলো পরিদর্শন করেছি। উপজেলা প্রশাসন থেকে সার্বিক সহযোগীতা করা হবে।

 

উল্লেখ্য,সাবেক এ সেনা সদস্য আং করিম ২০০২ সালে অবসরে এসে টমেটো চাষ শুরু করলে উৎপাদনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। টমেটো চাষে সফল চাষী হিসেবে তিনি ২০০৫ সালে পেয়েছিলেন জাতীয় কৃষি পুরষ্কার। এরপর থেকে এই উৎসাহকে কাজে লাগিয়ে হয়েছেন তিনি সফল কৃষক।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বন্যায় টমেটোর চারার ক্ষয়ক্ষতি দেড় কোটি টাকা

আপডেট সময় ০৯:৫৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে ‘গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটোর চারা উৎপাদনের। বন্যায় পানিতে ১২০শতক জায়গার ফলনকৃত দেড় কোটি টাকার গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটোর চারা তলিয়ে যায়। ফলে ব্যাংকের ঋণের টাকা পরিশোধের চিস্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। চারা উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত থাকা শতাধিক শ্রমিক রয়েছেন বেকার।
আদমপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামে ‘গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটোর চারা উৎপাদনে’ সফল উদ্যোক্তা আং করিমের ক্ষতির সংবাদ জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসন কৃষি জমি পরিদর্শন করেন।
জানা যায়, টানা বর্ষন ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীর ১৪টি স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। বন্যায় উপজেলার ১৪৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েন। বন্যার পানিতে কৃষি, মৎস্য, রাস্তা-ঘাট ও ঘরবাড়ি সহ কয়েকশত কোাট টাকার ক্ষতি ধান ও সবজী ক্ষেতসহ মৌসুমী ফসলের চারা বিনষ্ট হয়েছে। বৃহৎ মৌসুমী সবজী চারা উৎপাদনকারীদের মধ্যে শান্তিতে জাতিসংঘ পদকপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আং করিম চাকরির সময়সীমা পার হওয়ার পর চলে আসেন অবসরে। কর্মঠ উদ্যামী করিম চাকুরী থেকে অবসর নিলেও কাজ থেকে তার অবসর নেননি আজও।

 

আং করিম নিজ আর্থায়নে ও কৃষি বিভাগের পরামর্শক্রমে তিনি হয়ে উঠেন উপজেলার একজন ‘গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটোর চারা উৎপাদনে’ সফল উদ্যোক্তা। এক সময় আং করিম নিজে একাই গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটোর চারা উৎপাদন করা শুরু করেন। এখন তিনি নিজে স্বাবলম্বীতো হয়ে প্রায় শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থানও গড়ে তুলেন। প্রায় অর্ধশত কৃষক রয়েছেন গ্রাফটিং করা চারা ব্যবহার করে টমেটোর চাষ করছেন। অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আং করিম জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় জীবন শেষ করে দিয়েছে। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেকার হয়ে পড়েছে আমার কৃষি খেতে কাজ করা শতাধিক শ্রমিক। প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ব্যাংক ঋণসহ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে এখন অসহায়ের মতো বসে আছি। ঋণের চিন্তায় রাতে ঘুম আসেনা।

 

তিনি আরো জানান, এই গ্রাফটিং করা টমেটো গাছ পানি সহনীয়। ভারি বৃষ্টিতেও এই টমেটোগাছ নষ্ট হয় না। তাই বাজারে গ্রাফটিং চারার চাহিদা বেশী। চারা নিজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের আরো আট থেকে দশটি জেলায় সরবরাহ করেছিলাম। অনেকেই মৌসুম শুরুর আগেই চারার সংখ্যা জানিয়ে অর্ডার দিয়েছিলেন। বন্যায় চারা বিনষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাদেরকে সময়মতো সরবরাহ করতেও পারবো না। চারা উৎপাদন করবোতো দুরের কথা এখন বেকার সময় পার করছি।

আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবদাল হোসেন জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে টমেটো চাষীকে সব ধরনের সহযোগীতা করা হবে।  উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়নাল আবেদীন জানান, টমেটো চাষী আং করিমের ক্ষতি হওয়া গ্রাফটিং করা চারার খামারগুলো পরিদর্শন করেছি। উপজেলা প্রশাসন থেকে সার্বিক সহযোগীতা করা হবে।

 

উল্লেখ্য,সাবেক এ সেনা সদস্য আং করিম ২০০২ সালে অবসরে এসে টমেটো চাষ শুরু করলে উৎপাদনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। টমেটো চাষে সফল চাষী হিসেবে তিনি ২০০৫ সালে পেয়েছিলেন জাতীয় কৃষি পুরষ্কার। এরপর থেকে এই উৎসাহকে কাজে লাগিয়ে হয়েছেন তিনি সফল কৃষক।