ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
বিশ্বাসঘাতকদের ইতিহাস মানুষ ঘৃণাভরে স্মরণ করে: জাকারিয়া হোসেন জাকি নূরানী হিফজুল কোরআন মাদ্রাসায় পবিত্র রমজান উপলক্ষে ‘দারুল ক্বেরাত’ জামায়াত আমিরের সমাবেশস্থল পরিদর্শন করলেন এসপি নির্বাচনের নিরাপত্তায় কুলাউড়ায় বিজিবির ব্যাপক প্রস্তুতি যে দল কর্মজীবী নারীদের ‘বেশ্যা’ বলে, তাদের মন থেকে মুছে ফেলতে হবে” : নাসের রহমান বিএনপি প্রার্থী আলহাজ্ব শওকতুল ইসলাম শকুর সাথে হাজীপুর দলীয় নেতাকর্মীদের সাক্ষাৎ তারেক রহমান পালিয়ে যাননি, ইতিহাস বিকৃত করছে জামায়াত—এম নাসের রহমান গ্যাস সংযোগ, বেহাল সড়ক ও বন্যা সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি আহমদ বিলালের তারেক রহমান ইস্যুতে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখোমুখি অবস্থানে বিএনপি–জামায়াত প্রার্থীর স্বজনদের সরব উপস্থিতিতে জমে উঠেছে নির্বাচনি প্রচারণা

বিশ্বাসঘাতকদের ইতিহাস মানুষ ঘৃণাভরে স্মরণ করে: জাকারিয়া হোসেন জাকি

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৮:৩৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজার: ইতিহাস কখনো বিশ্বাসঘাতকদের সম্মান দেয় না—মানুষ নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে স্মরণ করে শ্রদ্ধার সঙ্গে আর মীর জাফরকে স্মরণ করে ঘৃণাভরে। তেমনি বর্তমান সময়েও যারা জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিশ্বাসঘাতকতা করছে, ইতিহাস তাদের একইভাবে মূল্যায়ন করবে—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল জাকারিয়া হোসেন জাকি।

মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় মৌলভীবাজার শহরের রুমেল কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক ওলামা সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাকারিয়া হোসেন জাকি বলেন, ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশের নেতৃত্বে ছিলেন মীর জাফর। যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিনি বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে নিষ্ক্রিয় থেকে ইংরেজদের বিজয়ের পথ সুগম করেন। এমনকি বৃষ্টিতে নবাবের বারুদ ভিজে গেলে যুদ্ধ বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়ে নবাবকে বিভ্রান্ত করেন। এর ফলেই বাংলাসহ পুরো ভারতবর্ষ প্রায় ২০০ বছরের জন্য স্বাধীনতা হারায়।

তিনি বলেন, “মীর জাফর সাময়িকভাবে ক্ষমতা পেলেও ছিলেন ব্রিটিশদের হাতের পুতুল। ইতিহাস তাকে ‘ক্লাইভের গাধা’ হিসেবেই চিহ্নিত করেছে। পক্ষান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে আজও সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা হয়—এমনকি ব্রিটিশ ইতিহাসেও।”

তিনি আরও বলেন, “ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বিশ্বাসঘাতকরা কখনো সম্মান পায় না। তারা সাময়িক লাভবান হলেও শেষ পর্যন্ত ঘৃণার পাত্র হয়। ঠিক তেমনি আজ ১১ দলীয় জোটের যেসব বিদ্রোহী জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করছে, ভবিষ্যতে মানুষ তাদের ঘৃণাভরে স্মরণ করবে।”

তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “নবাব সিরাজউদ্দৌলার মতোই মানুষ মাওলানা আহমদ বিলালকে স্মরণ করবে একজন নীতিবান ও সাহসী নেতৃত্ব হিসেবে।”

ওলামা সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা ফখরুল ইসলাম নোমানী। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত মৌলভীবাজার-৩ আসনের দেয়ালঘড়ি মার্কার প্রার্থী মাওলানা আহমদ বিলাল।

অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিস জেলা উপদেষ্টা শাখার আব্দুর রহিম, সহসভাপতি ফজলুর রহমান, সহসভাপতি হাফিজ আসাদ আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি মুফতি হাবিবুর কাশেমী, সহসভাপতি লুৎফুর রহমান কামালী, সহসভাপতি মুফতি হাবিবুর রহমান শামিম, সহ সাধারণ সম্পাদক ইসলাম উদ্দিন এবং বরুনা মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস সাইফুর রহমান মাক্কী।

বক্তারা বলেন, জোটের ঐক্য ও নৈতিক অবস্থান রক্ষাই এই নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে জোটের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বাসঘাতকদের ইতিহাস মানুষ ঘৃণাভরে স্মরণ করে: জাকারিয়া হোসেন জাকি

আপডেট সময় ০৮:৩৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মৌলভীবাজার: ইতিহাস কখনো বিশ্বাসঘাতকদের সম্মান দেয় না—মানুষ নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে স্মরণ করে শ্রদ্ধার সঙ্গে আর মীর জাফরকে স্মরণ করে ঘৃণাভরে। তেমনি বর্তমান সময়েও যারা জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিশ্বাসঘাতকতা করছে, ইতিহাস তাদের একইভাবে মূল্যায়ন করবে—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল জাকারিয়া হোসেন জাকি।

মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় মৌলভীবাজার শহরের রুমেল কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক ওলামা সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাকারিয়া হোসেন জাকি বলেন, ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশের নেতৃত্বে ছিলেন মীর জাফর। যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিনি বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে নিষ্ক্রিয় থেকে ইংরেজদের বিজয়ের পথ সুগম করেন। এমনকি বৃষ্টিতে নবাবের বারুদ ভিজে গেলে যুদ্ধ বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়ে নবাবকে বিভ্রান্ত করেন। এর ফলেই বাংলাসহ পুরো ভারতবর্ষ প্রায় ২০০ বছরের জন্য স্বাধীনতা হারায়।

তিনি বলেন, “মীর জাফর সাময়িকভাবে ক্ষমতা পেলেও ছিলেন ব্রিটিশদের হাতের পুতুল। ইতিহাস তাকে ‘ক্লাইভের গাধা’ হিসেবেই চিহ্নিত করেছে। পক্ষান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে আজও সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা হয়—এমনকি ব্রিটিশ ইতিহাসেও।”

তিনি আরও বলেন, “ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বিশ্বাসঘাতকরা কখনো সম্মান পায় না। তারা সাময়িক লাভবান হলেও শেষ পর্যন্ত ঘৃণার পাত্র হয়। ঠিক তেমনি আজ ১১ দলীয় জোটের যেসব বিদ্রোহী জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করছে, ভবিষ্যতে মানুষ তাদের ঘৃণাভরে স্মরণ করবে।”

তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “নবাব সিরাজউদ্দৌলার মতোই মানুষ মাওলানা আহমদ বিলালকে স্মরণ করবে একজন নীতিবান ও সাহসী নেতৃত্ব হিসেবে।”

ওলামা সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা ফখরুল ইসলাম নোমানী। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত মৌলভীবাজার-৩ আসনের দেয়ালঘড়ি মার্কার প্রার্থী মাওলানা আহমদ বিলাল।

অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিস জেলা উপদেষ্টা শাখার আব্দুর রহিম, সহসভাপতি ফজলুর রহমান, সহসভাপতি হাফিজ আসাদ আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি মুফতি হাবিবুর কাশেমী, সহসভাপতি লুৎফুর রহমান কামালী, সহসভাপতি মুফতি হাবিবুর রহমান শামিম, সহ সাধারণ সম্পাদক ইসলাম উদ্দিন এবং বরুনা মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস সাইফুর রহমান মাক্কী।

বক্তারা বলেন, জোটের ঐক্য ও নৈতিক অবস্থান রক্ষাই এই নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে জোটের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।