ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
বিশ্বাসঘাতকদের ইতিহাস মানুষ ঘৃণাভরে স্মরণ করে: জাকারিয়া হোসেন জাকি নূরানী হিফজুল কোরআন মাদ্রাসায় পবিত্র রমজান উপলক্ষে ‘দারুল ক্বেরাত’ জামায়াত আমিরের সমাবেশস্থল পরিদর্শন করলেন এসপি নির্বাচনের নিরাপত্তায় কুলাউড়ায় বিজিবির ব্যাপক প্রস্তুতি যে দল কর্মজীবী নারীদের ‘বেশ্যা’ বলে, তাদের মন থেকে মুছে ফেলতে হবে” : নাসের রহমান বিএনপি প্রার্থী আলহাজ্ব শওকতুল ইসলাম শকুর সাথে হাজীপুর দলীয় নেতাকর্মীদের সাক্ষাৎ তারেক রহমান পালিয়ে যাননি, ইতিহাস বিকৃত করছে জামায়াত—এম নাসের রহমান গ্যাস সংযোগ, বেহাল সড়ক ও বন্যা সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি আহমদ বিলালের তারেক রহমান ইস্যুতে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখোমুখি অবস্থানে বিএনপি–জামায়াত প্রার্থীর স্বজনদের সরব উপস্থিতিতে জমে উঠেছে নির্বাচনি প্রচারণা

মৌলভীবাজারের ৪৮ শিক্ষক বরখাস্ত

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:০৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১৩৭৮ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় মৌলভীবাজারের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৮ শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন তারা। এতে শিক্ষক-সংকটে ভুগছে জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো।

মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত এই ৪৮ জন সহকারী শিক্ষককে পলায়নের অভিযোগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৬ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধে পলায়ন ও অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, যাঁরা বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, তাঁদের বড় অংশ নারী।

সূত্র জানিয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে বিভিন্নভাবে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে প্রাথমিক শিক্ষকদের। শিক্ষকেরা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে প্রথমে ছুটি নেন। পরে তাঁরা বিদেশে চলে যান। তখন সরকারিভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। যত দিন যাচ্ছে, এই সংখ্যা তত বেড়ে চলছে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, জেলায় ১ হাজার ৬১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

এর মধ্যে সরকারি ১ হাজার ৫২টি। জেলায় কর্মরত প্রধান শিক্ষক ৭৭৬ জন। শূন্য পদ রয়েছে ২৭৪টি। এ ছাড়া এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ৫ হাজার ১৫৬ জন। সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ২২৩টি। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকেরা দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় সংকট আরও বাড়ছে।

যা ঘটছে

পতনঊষার বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা খানম বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ সায়মা আজিজ কোনো ছুটি ছাড়া বিদেশে চলে গেছেন। শুনেছি, তিনি যুক্তরাজ্যে গেছেন। তাঁর বদলে কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শিক্ষক-সংকট নিয়েই বিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে।’

এমন ঘটনা ঘটেছে মাইজগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস খান বলেন, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইসরাত জেরিন প্রায় ১১ বছর চাকরি করেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এক মাসের ছুটি নেন। পরে শোনা যায়, তিনি বিদেশে চলে গেছেন। তাঁর পরিবর্তে অন্য বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষক দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি এখনো যোগদান করেননি। ফলে সংকট কাটছে না।

রাজনগর উপজেলার চাটুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাবেরী রানী দেব। তিনি ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত চিকিৎসার কথা বলে ছুটি নেন। নির্ধারিত ছুটি শেষ হওয়ার পর তিনি আর চাকরিতে যোগদান করেননি। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানতে পারেন, তিনি বিদেশে চলে গেছেন। বিষয়টি পরে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়। ঠিক একইভাবে চাকরিচ্যুত শিক্ষকেরা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ছুটি নিয়ে আর আসেননি বিদ্যালয়ে।

এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন কমলগঞ্জের কাউয়ারগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমরজিৎ স্বর্ণকার, সতিঝিরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নোভা নাওয়ার, সদর উপজেলার আগনসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্যামলী খানম, মৌলভীবাজার সদর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তাহমিদা ইসলাম এবং রাজনগর উপজেলার চাটুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাবেরী রানী দেব।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউল আলম বলেন, ‘আমি যোগদান করার পর চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ২৯ জনকে পলায়নের অভিযোগে বরখাস্ত করেছি। এ ছাড়া চারজনকে বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৪৮ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আরও অনেকের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। বেশির ভাগ শিক্ষক ছুটি নিয়ে বিদেশে চলে গেছেন। যাঁদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাঁরা আর চাকরিতে ফিরতে পারবেন না।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মৌলভীবাজারের ৪৮ শিক্ষক বরখাস্ত

আপডেট সময় ১০:০৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় মৌলভীবাজারের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৮ শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন তারা। এতে শিক্ষক-সংকটে ভুগছে জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো।

মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত এই ৪৮ জন সহকারী শিক্ষককে পলায়নের অভিযোগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৬ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধে পলায়ন ও অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, যাঁরা বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, তাঁদের বড় অংশ নারী।

সূত্র জানিয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে বিভিন্নভাবে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে প্রাথমিক শিক্ষকদের। শিক্ষকেরা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে প্রথমে ছুটি নেন। পরে তাঁরা বিদেশে চলে যান। তখন সরকারিভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। যত দিন যাচ্ছে, এই সংখ্যা তত বেড়ে চলছে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, জেলায় ১ হাজার ৬১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

এর মধ্যে সরকারি ১ হাজার ৫২টি। জেলায় কর্মরত প্রধান শিক্ষক ৭৭৬ জন। শূন্য পদ রয়েছে ২৭৪টি। এ ছাড়া এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ৫ হাজার ১৫৬ জন। সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ২২৩টি। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকেরা দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় সংকট আরও বাড়ছে।

যা ঘটছে

পতনঊষার বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা খানম বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ সায়মা আজিজ কোনো ছুটি ছাড়া বিদেশে চলে গেছেন। শুনেছি, তিনি যুক্তরাজ্যে গেছেন। তাঁর বদলে কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শিক্ষক-সংকট নিয়েই বিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে।’

এমন ঘটনা ঘটেছে মাইজগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস খান বলেন, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইসরাত জেরিন প্রায় ১১ বছর চাকরি করেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এক মাসের ছুটি নেন। পরে শোনা যায়, তিনি বিদেশে চলে গেছেন। তাঁর পরিবর্তে অন্য বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষক দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি এখনো যোগদান করেননি। ফলে সংকট কাটছে না।

রাজনগর উপজেলার চাটুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাবেরী রানী দেব। তিনি ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত চিকিৎসার কথা বলে ছুটি নেন। নির্ধারিত ছুটি শেষ হওয়ার পর তিনি আর চাকরিতে যোগদান করেননি। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানতে পারেন, তিনি বিদেশে চলে গেছেন। বিষয়টি পরে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়। ঠিক একইভাবে চাকরিচ্যুত শিক্ষকেরা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ছুটি নিয়ে আর আসেননি বিদ্যালয়ে।

এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন কমলগঞ্জের কাউয়ারগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমরজিৎ স্বর্ণকার, সতিঝিরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নোভা নাওয়ার, সদর উপজেলার আগনসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্যামলী খানম, মৌলভীবাজার সদর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তাহমিদা ইসলাম এবং রাজনগর উপজেলার চাটুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাবেরী রানী দেব।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউল আলম বলেন, ‘আমি যোগদান করার পর চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ২৯ জনকে পলায়নের অভিযোগে বরখাস্ত করেছি। এ ছাড়া চারজনকে বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৪৮ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আরও অনেকের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। বেশির ভাগ শিক্ষক ছুটি নিয়ে বিদেশে চলে গেছেন। যাঁদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাঁরা আর চাকরিতে ফিরতে পারবেন না।’