মৌলভীবাজারে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা
- আপডেট সময় ১০:০১:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজার২৪ ডেস্কঃ মৌলভীবাজারের শেরপুর উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ‘পৌষ সংক্রান্তি’ বা ‘মকর সংক্রান্তি’ উপলক্ষে দুইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা শেরপুরে শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেল থেকে এ মেলা শুরু হয়।

মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানান, ১৮১৪-১৮১৮ সালের দিকে জমিদার থাকাবস্থায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সত্রস্বতী বাসিন্দা ও পরগনার শ্রী রাজেন্দ্রনাথ দাম ওরফে মথুর বাবু পৌষসংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসব উপলক্ষে এ মাছের মেলার প্রচলন করেছিলেন। তবে ঠিক কত সালে এ মেলার প্রচলন হয়েছিল, সেটির কোন সাল পাওয়া না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এ মেলাটির বয়স প্রায় দুইশ বছরের অধিক। জমিদার শ্রী রাজেন্দ্রনাথ দাম ওরফে মথুর বাবু, মৌলভীবাজার শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দুরে হবিগঞ্জ-সিলেট-মৌলভীবাজার এই তিন জেলার মোহনায় এ মেলার প্রচলন করেন। যা এখনো এই মাছের মেলা চলমান রয়েছে।
তারা আরও জানান, প্রতি বছরের মেলায় বড় মাছ ছাড়াও বেত-বাঁশ, কাঠ, লোহা, মাটির তৈরি নানা রকমের পণ্য, শিশুদের খেলনা, নকশীকাঁথা, শীতলপাটি, টাঙ্গাইলের জামদানী শাড়ি, বগুড়ার দই, সবজি, লোকজ পণ্য, কাঠের ফার্নিচার, কৃষি পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, মুড়ি-মুড়কি, নানা জাতের দেশীয় খাবারের দোকান থাকে মেলায়।
আবহমান বাংলার নানা ঐতিহ্যবাহী পণ্য সামগ্রীর প্রায় দেড় হাজার দোকান নিয়ে ব্যবসায়ীরা এ বছর মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়াও মেলায় মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্য রয়েছে নাগরদোলা, মোটরসাইকেল রেস, চড়কিসহ নানা ধরণের শিশু খেলনা।
এ মেলায় বৃহত্তর সিলেট অঞ্চল ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসেছেন মাছসহ নানা পণ্য নিয়ে। একসময় শুধু সিলেট অঞ্চলের নদী ও হাওরের মাছ নিয়ে এ মেলা বসলেও, এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বড় মাছ নিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। মৎস্য ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, শুধু বৃহত্তর সিলেটের নয়, এ মেলা পুরো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মাছের মেলা।
সরজমিনে দেখা যায়, মেলা প্রাঙ্গণ লোকারণ্য। মেলা উপলক্ষে চলছে উৎসাহ উদ্দীপনা। কেউ কেউ মেলা থেকে মাছসহ নানা পণ্য কিনছেন। আবার কেউ কেউ মুঠোফোনে দেখা-অদেখা বড় মাছের ছবি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত।

মেলায় বৃহত্তর সিলেটের কুশিয়ারা নদী, সুরমা নদী ও মনু নদী নদী, হাকালুকি হাওর, কাওয়াদিঘি হাওর, হাইল হাওর ও টাংগুয়ার হাওর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মৎস্য ব্যবসায়ীরা বাঘাইড়, রুই, বোয়াল, আড়ই, কাতলা, মৃগেল, চিতল, গজারসহ নানা জাতের দেশীয় প্রজাতির বিশাল বিশাল মাছ নিয়ে পসরা সাজিয়েছে বিক্রি করছেন। বড় মাছের সঙ্গে মেলায় রয়েছে ছোট মাছের দোকানও। মেলায় ছোট আকারের মাছের দাম ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা, মাঝারি সাইজের মাছের দাম ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং বড় সাইজের মাছের দাম ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত হাঁকানো হচ্ছে। এবারের মেলায় একটি বাঘাইড় মাছের দাম হাকানো হয় আড়াই লাখ টাকা। যার ওজন ১২৩ কেজি।
বিক্রেতা বলেন, ‘মাছটি দেখতে তার দোকানে ভিড় করছেন শত শত মানুষ। তিনি মাছটি দেড় লাখ টাকার কমে বিক্রয় করবেন না।’
















