ঢাকা ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান মৌলভীবাজার কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ এর বার্ষিক খেলাধুলা ও পুরস্কার বিতরন মৌলভীবাজারে চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে পাথর নিক্ষেপ যাত্রীরা হতাশ মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সভাপতি মিজানুর রহমান সাধারণ সম্পাদক জয়নুল হক পবিত্র রমজান উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গ্রামীণফোন ও মাস্টারকার্ডের পার্টনারশিপ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্ধন্দীতায় নিয়ামুল হক বিজয়ী অনিয়ম-বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা… এম নাসের রহমান মৌলভীবাজার ৪টি আসনে ১৪ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষ্যে বিএনসিসি এর দায়িত্ব পালন

লন্ডনের আকাশে অশ্রুর স্রোত,স্মৃতির মশালে এম সাইফুর রহমান

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:৩৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ২৯৫ বার পড়া হয়েছে

লন্ডনের ব্যস্ত শহরের হৃদয়ে এক সন্ধ্যায় ভেসে বেড়াচ্ছিল স্মৃতির আবেশ। ৯ই সেপ্টেম্বর, The Atrium-এ জড়ো হয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে আগত অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশি। উদ্দেশ্য একটাই—বাংলাদেশের অর্থনীতির রূপকার, সাবেক সফল অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানকে স্মরণ করা।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন স্মৃতি পরিষদের সভাপতি সাইদুর রহমান রেনু, পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. অদুদ আলম। শুরুতেই কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করেন সাবেক ছাত্রদল নেতা দেলোয়ার হোসেন আহাদ। সেই সুরেলা কণ্ঠে যেন মিলনায়তনের প্রতিটি মানুষ গভীর নীরবতায় ডুবে গেলেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাঁরই সন্তান, সাবেক সংসদ সদস্য ও পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এম নাসের রহমান। আবেগে ভরা কণ্ঠে তিনি বললেন—
“আমার বাবা শুধু একজন অর্থমন্ত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অর্থনীতির স্থপতি। তাঁর স্বপ্ন ছিল একটি আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ।

প্রবাসী নেতৃবৃন্দ একে একে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
ড. হাসনাত হোসেন এমবিই বললেন— “বাংলাদেশের উন্নয়নের ইতিহাস সাইফুর রহমান ছাড়া লেখা সম্ভব নয়।”
এম এ মালিক মনে করিয়ে দিলেন— “তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।”
ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন ও প্রফেসর শাহগির বখত ফারুক একসাথে বলেন— “প্রবাসীদের শক্তিকে কিভাবে দেশের সম্পদে রূপান্তর করা যায়, তা তিনি পথ দেখিয়েছিলেন।”
নজরুল ইসলাম বাসন অনুভব প্রকাশ করলেন— “তিনি শুধু রাজনীতিক ছিলেন না, ছিলেন ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়।”
তাইসির মাহমুদ যোগ করলেন— “বাংলাদেশের গণমাধ্যমও তাঁর দূরদর্শী ভাবনার ঋণী।

সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে যখন মঞ্চে ওঠেন নাতনী আমেরা রহমান। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন—
“দাদু আজও আমার পথপ্রদর্শক। তাঁর স্বপ্ন আমাদের প্রেরণার বাতিঘর হয়ে আছে।

এছাড়াও বক্তব্য দেন— এম শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপন: “তাঁর উন্নয়ন দর্শন প্রবাসীদের হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে।”
নুরুল ইসলাম: “তিনি দেশকে অর্থনৈতিক মুক্তির পথে নিয়ে গেছেন, যা চিরকাল স্মরণীয়।
আব্দুল মুহিত খান বাদশা: “তাঁর প্রজ্ঞা আজও আমাদের কাছে আলোকবর্তিকা।
সায়কুল হাসান সেকুল: “ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতি—প্রতিটি স্তরে তিনি ছিলেন অনুপ্রেরণা।”
সোয়ালেহীন করিম চৌধুরী: “বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো তাঁর পরিকল্পনার ভিত্তিতেই দাঁড়িয়ে আছে।”
রিয়াদ আহাদ: “প্রবাসীদের হৃদয়ে তিনি চিরজাগ্রত এক আস্থার নাম।”

অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয় এম সাইফুর রহমানের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের উপর নির্মিত দুটি প্রামাণ্যচিত্র। প্রতিটি দৃশ্যে ভেসে উঠছিল তাঁর সংগ্রামী পথচলা, উন্নয়নের সোপান, আর দেশের প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসা। উপস্থিত দর্শকের চোখে অশ্রু ঝলমল করছিল—ইতিহাস যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছিল পর্দায়।

শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা নজরুল ইসলাম, খতিব, ব্রিকলেন জামে মসজিদ। তাঁর কণ্ঠে দোয়া উচ্চারিত হয়—
“হে আল্লাহ, এই মহান মানুষটির রুহকে শান্তি দাও।”

নৈশভোজের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি হলেও, উপস্থিত সবার মনে যেন একটাই উপলব্ধি স্পষ্ট হয়ে উঠল—
এম সাইফুর রহমান নেই, তবুও তিনি আছেন।
তিনি আছেন তাঁর স্বপ্নে, তাঁর দর্শনে, তাঁর অর্থনৈতিক মুক্তির নকশায়।
যেমন নক্ষত্র অস্ত যায়, অথচ আলো ছড়িয়ে থাকে রাতের আকাশে—
তেমনই তিনি, বাংলাদেশের অর্থনীতির চিরভাস্বর নক্ষত্র।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

লন্ডনের আকাশে অশ্রুর স্রোত,স্মৃতির মশালে এম সাইফুর রহমান

আপডেট সময় ০৭:৩৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

লন্ডনের ব্যস্ত শহরের হৃদয়ে এক সন্ধ্যায় ভেসে বেড়াচ্ছিল স্মৃতির আবেশ। ৯ই সেপ্টেম্বর, The Atrium-এ জড়ো হয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে আগত অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশি। উদ্দেশ্য একটাই—বাংলাদেশের অর্থনীতির রূপকার, সাবেক সফল অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানকে স্মরণ করা।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন স্মৃতি পরিষদের সভাপতি সাইদুর রহমান রেনু, পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. অদুদ আলম। শুরুতেই কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করেন সাবেক ছাত্রদল নেতা দেলোয়ার হোসেন আহাদ। সেই সুরেলা কণ্ঠে যেন মিলনায়তনের প্রতিটি মানুষ গভীর নীরবতায় ডুবে গেলেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাঁরই সন্তান, সাবেক সংসদ সদস্য ও পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এম নাসের রহমান। আবেগে ভরা কণ্ঠে তিনি বললেন—
“আমার বাবা শুধু একজন অর্থমন্ত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অর্থনীতির স্থপতি। তাঁর স্বপ্ন ছিল একটি আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ।

প্রবাসী নেতৃবৃন্দ একে একে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
ড. হাসনাত হোসেন এমবিই বললেন— “বাংলাদেশের উন্নয়নের ইতিহাস সাইফুর রহমান ছাড়া লেখা সম্ভব নয়।”
এম এ মালিক মনে করিয়ে দিলেন— “তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।”
ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন ও প্রফেসর শাহগির বখত ফারুক একসাথে বলেন— “প্রবাসীদের শক্তিকে কিভাবে দেশের সম্পদে রূপান্তর করা যায়, তা তিনি পথ দেখিয়েছিলেন।”
নজরুল ইসলাম বাসন অনুভব প্রকাশ করলেন— “তিনি শুধু রাজনীতিক ছিলেন না, ছিলেন ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়।”
তাইসির মাহমুদ যোগ করলেন— “বাংলাদেশের গণমাধ্যমও তাঁর দূরদর্শী ভাবনার ঋণী।

সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে যখন মঞ্চে ওঠেন নাতনী আমেরা রহমান। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন—
“দাদু আজও আমার পথপ্রদর্শক। তাঁর স্বপ্ন আমাদের প্রেরণার বাতিঘর হয়ে আছে।

এছাড়াও বক্তব্য দেন— এম শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপন: “তাঁর উন্নয়ন দর্শন প্রবাসীদের হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে।”
নুরুল ইসলাম: “তিনি দেশকে অর্থনৈতিক মুক্তির পথে নিয়ে গেছেন, যা চিরকাল স্মরণীয়।
আব্দুল মুহিত খান বাদশা: “তাঁর প্রজ্ঞা আজও আমাদের কাছে আলোকবর্তিকা।
সায়কুল হাসান সেকুল: “ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতি—প্রতিটি স্তরে তিনি ছিলেন অনুপ্রেরণা।”
সোয়ালেহীন করিম চৌধুরী: “বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো তাঁর পরিকল্পনার ভিত্তিতেই দাঁড়িয়ে আছে।”
রিয়াদ আহাদ: “প্রবাসীদের হৃদয়ে তিনি চিরজাগ্রত এক আস্থার নাম।”

অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয় এম সাইফুর রহমানের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের উপর নির্মিত দুটি প্রামাণ্যচিত্র। প্রতিটি দৃশ্যে ভেসে উঠছিল তাঁর সংগ্রামী পথচলা, উন্নয়নের সোপান, আর দেশের প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসা। উপস্থিত দর্শকের চোখে অশ্রু ঝলমল করছিল—ইতিহাস যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছিল পর্দায়।

শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা নজরুল ইসলাম, খতিব, ব্রিকলেন জামে মসজিদ। তাঁর কণ্ঠে দোয়া উচ্চারিত হয়—
“হে আল্লাহ, এই মহান মানুষটির রুহকে শান্তি দাও।”

নৈশভোজের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি হলেও, উপস্থিত সবার মনে যেন একটাই উপলব্ধি স্পষ্ট হয়ে উঠল—
এম সাইফুর রহমান নেই, তবুও তিনি আছেন।
তিনি আছেন তাঁর স্বপ্নে, তাঁর দর্শনে, তাঁর অর্থনৈতিক মুক্তির নকশায়।
যেমন নক্ষত্র অস্ত যায়, অথচ আলো ছড়িয়ে থাকে রাতের আকাশে—
তেমনই তিনি, বাংলাদেশের অর্থনীতির চিরভাস্বর নক্ষত্র।