মৌলভীবাজারে আন্তর্জাতিক শানে মোস্তফা (সা:) মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত

0 1,158

রাসূলে পাক (সা.) এর মর্যাদা আল্লাহ তাআলা নিজেই সমুন্নত করেছেন প্রফেসর জামাল ছাক্বার আল হোসাইনী রাসুল (সা.)-এর ৪১তম বংশধর লেবাননের বৈরুত ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক প্রফেসর জামাল ছাক্বার আল হোসাইনী বলেছেন মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন নিশ্চয়ই আমি মুহাম্মদ (সা.) কে বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে পাঠিয়েছি, তাই বিশ্বনবী (সা.) এর মর্যাদা অন্যান্য সবকিছুর উর্ধ্বে। এ বিশ্বজগতে তাঁর মত আর কেউ এত সম্মানিত ও মর্যাদাবান হতে পারেনা।

সবমিলিয়ে নবী প্রেমিকদের এক মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিল মৌলভীবাজারের কাশিনাথ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ।

তিনি বলেন, আল্লাহ পাক রাসূলের এমন কোন দিক বাকি রাখেননি, যেটি নিয়ে তিনি আলোচনা করেননি। যেখানেই আল্লাহ পাকের আলোচনা হয়, যিকির হয়, আজানে, ইক্বামতে, নামাযে সব জায়গায় আল্লাহ পাক রাসূলের মর্যাদাও তাঁর সাথে উন্নীত করেছেন। সারা পৃথিবী জুড়েই প্রতিটি মুহূর্তে, প্রতি সেকেন্ডে আমার নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.) কে নিয়ে আলোচনা হয়, হচ্ছে এবং আগামীতেও হবে। তিনি মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, রাসুলে পাক (সা.) এর প্রেম ও তাঁর প্রদত্ত আদর্শ থেকে দূরে থাকার কারণেই মুসলিম সমাজে আজ নবীদ্রোহী জঙ্গিবাদী বাতেল ফেরকা সমূহের আবির্ভাব হয়েছে। যারা মুসলমানদের ঈমান, ধর্ম ও অস্তিত্বের প্রতি হুমকি সৃষ্টি করে চলেছে। এহেন পরিস্থিতিতে দুজাহানের প্রকৃত মুক্তি ও সফলতার জন্য আমাদের সবার উচিত রাসুলে পাক (সা.) এর প্রেমে ইসলাম ধর্র্মের মূলধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আক্বিদা ও আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দ্বীনের মূল পরিচয়কে স্বীয় জীবনে, পরিবারে ও সমাজে ফিরিয়ে আনতে হবে।প্রফেসর  মৌলভীবাজারে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শানে মোস্তফা (সা.) মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

শাহজালাল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট মৌলভীবাজার আয়োজিত আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আল্লামা শিহাবুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী, আল্লামা কমরুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী, ঘানা থেকে আগত শায়েখ আহমদ তিজানী বিন ওমর বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন মীলান্নবী সা. উদযাপন মাহফিল জেনে খুশি হয়েছি। মীলাদুন্নবী পালন হচ্ছে রাসুলের প্রতি ভালবাসার প্রমান। তাঁর ভালবাসা ছাড়া কেউই বিচারদিনে পার হতে পারবেন না।তিনি সকল শ্রোতাদেরকে আওলিয়ায়ে কেরামের সাথে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কারণ আওলিয়ায়ে কেরাম হচ্ছেন রাসুলের উত্তরসূরী। আহমদ তিজানী আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রহ) সর্ম্পকে বলেন, তিনি সত্যিকারের একজন ওলী ছিলেন। তিনি যে সকল মিশন করে গেছেন তাহার সুনাম আমি সুদূর ঘানা থেকে শোনে তাহা অবলোকন করার জন্য আমি বাংলাদেশে এসেছি। আমি উনাকে আরিফ বিল্লাহ বা কামিল ইনসান হিসেবে আখ্যায়িত করি। আমি চাই সমস্ত পৃথিবীর মানুষ বাংলাদশে আসুক এবং দেখুক ফুলতলী ছাহেব কিবলা যে কাজ-কর্ম করে গেছেন তা নি:সন্দেহে কল্যানমুলক। ট্রাস্ট সভাপতি হাফিজ মাওলানা আলাউর রহমান টিপুর সভাপতিত্বে ও সহ-সভাপতি হাফিয কাওছার আহমদ, সেক্রেটারী ওয়ালিউর রহমান সানীর যৌথ পরিচালনায় সম্মলনে আরো বিশেষ অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ, মাও. আব্দুল কাইয়ূম সিদ্দিকী, মাও. সালমান আহমদ চৌধুরী ফুলতলী, কেন্দ্রীয় আল ইসলাহ সহ-সভাপতি মাও. সারওয়ারে জাহান, মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও. মুফতি শামছুল ইসলাম, মাও. মুফতি শাহ আলম ।তাছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি নেছার আহমদ, ট্রাস্টের উপদেষ্ঠা সিরাজুল ইসলাম সিদ্দিকী, এখলাছুর রহমান, আকিল আহমদ, দিলদার হোসেন, জেলা আল ইসলাহ সহ-সভাপতি মাও. মকবুল হোসাইন খান, মাও: মুহিবুর রহমান, মাও: শফিকুর রহমান, জেলা বিএনপি সভাপতি ওয়ালি সিদ্দিকী, সাবেক পৌর মেয়র এম ফয়জুল করিম ময়ূন, জেলা আল ইসলাহ সাধারণ সম্পাদক মাও: এম এ আলীম, দক্ষিন সুরমা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ইমাদ উদ্দিন নাসিরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক হাফিয এনামুল হক, মাও: সৈয়দ ইউনুছ আলী, মাও: ইসহাক আহমদ, কেন্দ্রীয় তালামীযের তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মুহিত রাসেল, সহ-শিক্ষা সম্পাদক খন্দকার ওজিউর রহমান আসাদ, কেন্দ্রীয় সদস্য মো: তৌরিছ আলী, জেলা সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামাল উদ্দিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাও: বশির আহমদ, অর্থ সম্পাদক, হাফিয বজলুর রহমান, শিক্ষা ও সাংস্কৃতি সম্পাদক মাও: সিরাজুল ইসলাম মাসুক, শহর আল ইসলাহ সভাপতি মাও: কাজী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ট্রাস্টের সহ-সভাপতি মোস্তফা আহমদ, জাকির আহমদ জবলু, সদর সভাপতি মাও: আব্দুল মুকতাদির, সাধারণ সম্পাদক মাও: লিয়াকত হোসাইন, শহর আল ইসলাহ সাধারণ সম্পাদক মাও: আব্দুল গফ্ফার, জেলা তালামীয সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ কাদের আল হাসান, জেলা তালামীযের প্রচার সম্পাদক রাজন আহমদ, অর্থ সম্পাদক কাওছার আহমদ, শহরের কাশিনাথ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে সকাল ১১ টা থেকে শুরু হওয়া এ সম্মেলনে বেলা বাড়ার সাথে সাথে জনশ্রোত ছিল চোখে পড়ার মত। বাদ মাগরীব শুরু হয় মূল অধিবেশন, এসময় বিশাল প্যান্ডাল মানুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় ভরে গেলে আশপাশেও মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.