আট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দফতর বণ্টন-রদবদল

0 223

নতুন নিয়োগ পাওয়া চারমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে দপ্তর বন্টন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরনো মন্ত্রীদের মধ্যে কয়েকজনের দপ্তর পুনর্বন্টন করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর বুধবার ( ০৩ জানুয়ারি )দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে দেয়া হয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। আর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে।

এদিকে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা রাশেদ খান মেননকে দেয়া হয়েছে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়্ত্বি। আর পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নতুন নিয়োগ পাওয়া এ কে এম শাজাহান কামালকে।

আর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা নুরুজ্জামান আহমেদ এখন থেকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। মন্ত্রিসভার পুরনো সদস্যদের মধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে নতুন শপথ নেয়া নারায়ণ চন্দ্র চন্দকে দেয়া হয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রীর দায়িত্ব। এছাড়া, মোস্তাফা জব্বারকে ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং কাজী কেরামত আলীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

২০১৫ সালের ১৪ জুলাই মন্ত্রিসভায় রদবদল আনা হয়। তখন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা নুরুল ইসলাম বিএসসিকে পূর্ণমন্ত্রী করা হয়। আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য তারানা হালিম ও লালমনিরহাট-২ এর সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান আহমেদ। আর ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে দপ্তরবিহীন করা হয়।

পরে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে এলজিআরডিমন্ত্রী করা হয় ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী ও একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন মারা যান। এরপর ২০১৬ সালের ১৯ জুন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান নুরুজ্জামান আহমেদ। এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ সরকার।
পরে ওই বছরের ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। তখন অধিকাংশ পুরনো মন্ত্রীকে বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত নতুন ও আগের সরকারের সময় দলের বাদ পড়া জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে সরকার গঠন করা হয়। ওই বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আরেক দফা মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সে সময় আবুল হোসেন মাহমুদ আলীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নজরুল ইসলামকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

হজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য ২০১৪ বছরের ১২ অক্টোবর আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে অপসারিত হন। ৭২ বছর বয়সি নারায়ণ চন্দ্র চন্দ খুলনা-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনবার। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় দফায় সরকার গঠন করলে তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। নতুন মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পরিচিত উদ্যোক্তা। আনন্দ প্রিন্টার্স এবং আনন্দ মুদ্রায়ণের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। ৬৮ বছর বয়সি জব্বার ২০০৭ সালের ২৬ মার্চ ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা নিয়ে একটি নিবন্ধ লেখেন।

পরের বছর আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার যুক্ত করে নেওয়া হয়। মন্ত্রিসভার আরেক নতুন মুখ শাহজাহান কামাল লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সাংসদ। ৭২ বছর বয়সি এ রাজনীতিক লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন। তার ভাই অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি। ৬৩ বছর বয়সি কাজী কেরামত আলী গত নির্বাচনে রাজবাড়ী-১ আসন থেকে চতুর্থবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন

Leave A Reply

Your email address will not be published.