৫ রাজাকারের দণ্ডে আনন্দে ভাসছে মৌলভীবাজার

0 4,207

ষ্টাফ রিপোর্টার::  মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৌলভীবাজারের ৫ রাজাকারের ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দণ্ড প্রদানে আনন্দ প্রকাশ করেছেন মৌলভীবাজারের সর্বস্তরের জনগণ।

সাজাপ্রাপ্তদের নিজ উপজেলা রাজনগর এই রায় নিয়ে কৌতূহলী ছিল। বুধবার রায় ঘোষণার সংবাদ আসার পরেই মৌলভীবাজারে সর্ব ক্ষেত্রে আলোচনার বিষয় ছিল ৫ মানবতাবিরোধী অপরাধীর রায়, সবাই অপেক্ষা করছিল রায় প্রকাশের মুহূর্তের জন্য।

বুধবার (১০ জানুয়ারি) বেলা পৌনে ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় প্রকাশ করলে স্বস্তি আসে জনমনে।

ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত ওজায়ের আহমেদ চৌধুরীর গ্রাম রাজনগর উপজেলার গোয়াসপুরবাসী এই রায়ে আনন্দিত। গোয়াসপুর গ্রামের রহমত মিয়া বলেন, যারা মুক্তিযোদ্ধাদের মেরেছে তাদের বিচার হয়েছে এটা আনন্দের সংবাদ। আনন্দ প্রকাশ করেছেন রাজাকার ইউনুস মিয়ার গ্রাম সোনাটিকিবাসী। তারা দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

রায় নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান। তিনি জানান, এ রায়ে আমরা মৌলভীবাজারবাসী কলঙ্কমোচন করেছি। জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে এর রায় পেয়ে আমরা আনন্দিত। বর্বরোচিত এই রাজাকারদের ফাঁসির রায়ে মৌলভীবাজারবাসী আনন্দিত।

৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার অভিযুক্ত পাঁচজনের মধ্যে ২ জনকে ফাঁসির আদেশ ও ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)।

এর মধ্যে নেছার আলী ও ওজায়ের আহমেদের ফাঁসি এবং শামসুল হোসেন তরফদার, মোবারক মিয়া ও ইউনুসকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ইউনুস আহমেদ ও ওজায়ের আহমেদ চৌধুরী গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন, বাকিরা পলাতক।

২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার শামসুল হোসেন তরফদারসহ পাঁচ রাজাকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে এ মামলায় বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, আটক, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়।

এর আগে ২০১৬ সালের নভেম্বরে এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। একই বছরের ২৬ মে এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে তদন্ত সংস্থা।

২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে ওইদিন বিকেলেই রাজনগর উপজেলার গয়াসপুর গ্রামের ওজায়ের আহমেদ চৌধুরীকে (৬০) মৌলভীবাজার শহরের চৌমোহনা থেকে ও সোনাটিকি গ্রামের মৌলভি ইউনুছ আহমদকে (৭০) তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এরপর গতবছরের ২০ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.