কুলাউড়ার স্কুল ছাত্রী তসলিমার লাশ কবর থেকে তোলা হবে

1,245

insurance news more article

মৌলভীবাজার২৪ ডট কমঃ মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় স্কুল ছাত্রী কুলসুমা বেগম তসলিমা(১৭)-এর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে আজ (বৃহস্পতিবার) কবর থেকে তার লাশ উত্তোলন করবে পুলিশ।

ময়না তদন্তের জন্য তসলিমার লাশ উত্তোলন করা হবে বলে জানিয়েছেন কুলাউড়া থানার ওসি (তদন্ত) সঞ্জয় চক্রবর্তী।

তিনি বলে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে বৃহস্পতিবার সকালে কবর থেকে তসলিমার লাশ উত্তোলন করা হবে। এসময় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থাকবেন।

গত ৪ জুলাই মারা যায় কুলসুমা বেগম তসলিমা। এই মৃত্যু নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। প্রেমঘটিত কারণে পরিবারের লোকজনের নির্যাতনে তসলিমা মারা যেতে পারেন বলে ধারণা স্থানীয়দের। যদিও পরিবারের সদস্যরা একে স্বাভাবিক মৃত্যু বলেই দাবি করছেন। ময়না তদন্ত ছাড়াই তসলিমার দাফন করেন তারা।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লিটন দাস (২৫) নামের কাঠমিস্ত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তসলীমা। তসলিমাকে পেতে মাস ছয়েক পূর্বে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন লিটন দাস। এরপর থেকে তার নাম হয় আব্দুল আজিজ।

আব্দুল আজিজ কুলাউড়ার বরমচাল ইউনিয়নের টিকরা গ্রামের গ্রামের বাসিন্দ। আর একই ইউনিয়নের মহলাল (রফিনগর) গ্রামের জহুর উদ্দিনের মেয়ে কুলসুমা বেগম তসলিমা উপজেলার বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। তার মা কয়েক বছর আগে মারা যান। তাসলিমারা দুই বোন ও এক ভাই।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুলাই সকাল আনুমানিক ১১টায় স্কুলড্রেস পরিহিত অবস্থায় তাসলিমা বরমচালস্থ কালামিয়ার বাজারের পাশে আব্দুল আজিজের বাসায় তার সাথে দেখা করতে যায়। তখন বাজারের ব্যবসায়ীরা সন্দেহবশত গ্রাম পুলিশ কয়ছর মিয়াকে সাথে নিয়ে ওই বাসায় যান। বাসায় গিয়ে স্কুলছাত্রীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যবসায়ীরা গ্রাম পুলিশ কয়ছর মিয়াকে দিয়ে তাসলিমাকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

মহলাল (রফিনগর) এলাকার লোকজন জানান, সকালের ঘটনার পর বিকাল আনুমানিক ৫টায় একটি সিএনজি অটোরিক্সায় করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ির লোকজন তাসলিমাকে নিয়ে বেরিয়ে যান। রাতে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে আবার ফেরত আসেন। আসার পর এলাকার মানুষকে পরিবারের সদস্যরা জানান, তাসলিমার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ (স্ট্রোক) হয়ে মারা গেছেন। পরদিন শুক্রবার সকাল ১১টায় তাসলিমার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

insurance news more article

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাসলিমার লাশ গোসলের দায়িত্বে থাকা এক নারী জানান, তাসলিমার গালে আঁচড় এবং গলায় আঙুল দেবে যাওয়ার চিহ্ন ছিলো। তবে দাফনের আগে বিষয়টি কেউ পুলিশকে অবহিত করেনি।