দেশকে এবারো রক্ষা করলো সুন্দরবন

163

শনিবার (৯ নভেম্বর) রাতে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হেনেছে বাংলাদেশে। বাড়িঘর, গাছগাছালিসহ সম্পদের ক্ষতি হয়েছে, তবে তা ব্যাপকভাবে হয়নি।

এর প্রধান কারণ, ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে এগিয়ে আসা ঘূর্ণিঝড়টির সামনে অনেকটা বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায় সুন্দরবন। ফলে ‘বুলবুলের’ গতি কমে অনেকটা দুর্বল হয়ে খুলনা উপকূলে আঘাত হানে।

ঝড়টি সুন্দরবন না হয়ে বরিশাল এলাকা দিয়ে আসলে অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতি হতো বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মান্নান। তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়টি প্রথমে ভারতীয় অংশের সুন্দরবনের সাগরদ্বীপে আঘাত করে।

এরপর এটি বাংলাদেশের সুন্দরবনের খুলনা অংশে ঢুকে পড়ে। দুই দেশের সুন্দরবনের গাছপালায় বাধা পেয়ে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে বাংলাদেশের মানুষ বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়।

রোববার (১০ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আবহাওয়াবিদ মান্নান বলেন, চলতি বছর যতগুলো ঘূর্ণিঝড় হয়েছে, তার অধিকাংশই সুন্দরবন কেন্দ্রিক হওয়ায় রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশ। এর মূল কারণ সুন্দরবন অতিক্রম করে ঘূর্ণিঝড় বেশিদূর এগোতে পারে না। তার আগেই ঘূর্ণিঝড়গুলো দুর্বল হয়ে যায়।

তিনি বলেন, বুলবুল যে গতিতে আসার কথা ছিল, সেই গতিতে আসেনি। যখন ঘূর্ণিঝড় জলভাগের ওপর দিয়ে চলে, সেই জলভাগ ঘূর্ণিঝড়ের ওপর তেমন শক্তি প্রয়োগ করতে পারে না।

কিন্তু স্থলভাগে গাছ, স্থাপনা দাঁড়ানো থাকে। এগুলোর সঙ্গে সবসময় সংঘর্ষে লিপ্ত হয় ঘূর্ণিঝড়, বাধাপ্রাপ্ত হয়; এ কারণে ওর মধ্যে রিটার্নিং ফোর্সের (বিরোধী শক্তি) কারণে গতি আস্তে আস্তে কমে যায়।

আবহাওয়াবিদ বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের তিন দিকেই সুন্দরবন জুড়ে ছিল। যেহেতু ঘূর্ণিঝড় উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, সুন্দরবনের কারণে তার অবস্থানের পরিবর্তন কমে এসেছে। ঘূর্ণিঝড়ের নিজস্ব শক্তিও কমে আসে। এ কারণে উপকূল অতিক্রম করতে গিয়ে ঘূর্ণিঝড়ের দীর্ঘক্ষণ সময় লেগেছে।’

এর আগে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলা একইভাবে সুন্দরবনে বাধা পেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তবে তখন ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির পরিমাণ আরও অনেক বেশি ছিল।