আমি আপনার বর্তমান অফিসের সাবেক একজন সহকারী

44

আমি আপনার বর্তমান অফিসের সাবেক একজন সহকারী। আমার সাথে আরো ১১ জন যারা চাকুরী শুরু করেছিলেন তারা অনেকে চাকরী ছেড়ে বিদেশে চলে গেছেন, আমি ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। এখনো শক্তি পদ সাহা, বাশাহ মিয়া প্রমুখ আপনার অধীনে বর্তমানে কর্মরত আছেন। আমি স্বল্প সময়ে সাবকে উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী (সর্বশেষ প্রধান মন্ত্রীর মূখ্য সচিব (সিনিয়র সচিব হিসাবে অবসরপ্রাপ্ত) সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেলোয়ার হোসেন স্যারদের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি এ.কে.এম নুরুল ইসলাম (আইন মন্ত্রণালয় এর দায়িত্ব প্রাপ্ত) এর উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, শ্রীমঙ্গল পরিদর্শন এর সময় উনাকে নকলকারক(কপিস্ট) হিসাবে নথি দেখিয়েছি ও উনার কাছে কাজের প্রশংসা পেয়েছি অবশ্য এতে ডিসি স্যারের সাহস প্রদান ও ভুমিকা মুখ্য ছিলো। চাকুরী ছাড়ার পিছনে ইচ্ছের বাইরে উৎকোচ প্রাপ্তি, পেশকার, পিয়ন ও এডভোকেটদের সহকারীদের অমানবিক আচরণ বিশেষভাবে কাজ করেছিলো। সে বেশ অনেক কাল আগের কথা মৌলভীবাজার এর ২য় ডিসি জনাব রেজোয়ানুল হক স্যার এর সময় আমরা ১২জন সার্টিফিকেট সহকারী হিসাবে চাকুরীতে যোগদান করি। তাই স্যার আজ পর্যন্ত ডিসি অফিস কে নিজের অফিস এবং ডিসি মহোদয় কে নিজের স্যার মনেকরি। আমরা যখন যোগদান করি তখন এই সুন্দর কাঠামো ছিলোনা তবে ব্রিটিশ নৈপুণ্য নির্ভর পুরাতন বিল্ডিং খানা সুশীতল টিলার উপর ছায়াঘেরা আপন গাম্ভীর্যপূর্ণই ছিলো। আজকে ম্যাডাম আপনার কাছে শেয়ার এর মাধ্যমে সদাশয় সরকার বাহাদুর এর কাছে যে বিষয়টি তুলে ধরতে চাই তা হচ্ছে, এই যে পিয়াজ, লবন ও চাল নিয়ে যে হঠকারিতা সৃষ্টি করা হচ্ছে তা নিয়ে আমার ভাবনা তুলে ধরবো। প্রথমে পিয়াজ প্রসঙ্গ : ছোটবেলা থেকে আমরা দেখতেছি আশ্বিন থেকে অগ্রহায়ণ মাস পর্যন্ত তিন মাসে চাহিদার তুলনায় পিয়াজ সরবরাহ কম থাকে, ফলে পেয়াজ এর দাম কিছু বাড়ে। যেহেতু নূতন পিয়াজ বের হতে ২/৩ মাস বাকি থাকে- তাই স্বাভাবিক নিয়মে দাম বাড়ে। ছোটবেলা নিজে দেখেছি মা চাচিরা আঙিনার পাশে, রান্নাঘর এর পাশে, কলাগাছে কুপ দিয়ে- কিছু সামান্য পিয়াজ লাগাতেন এই নিদান এর কথা বিবেচনা করে। আমরা সবাই জানি (সকল বাংলাদেশি) পিয়াজে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। আর আামাদের শিক্ষা, অর্থনীতি, প্রবৃদ্ধি, ক্রয়ক্ষমতা অনেক বেড়েছে কিন্তু বর্তমান পিয়াজ কান্ড দেখে মনে হলোনা জাতির প্রকৃত মনন ও নৈতিক শিক্ষার উন্নতি হয়েছে। দাম বাড়লে ব্যবহার কমবে কিন্তু মনেহয় সবগেলো, সবশেষ এই বলে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে। অতি মুনাফাখোর ব্যবসায়ী বৃন্দ পিয়াজ পচিয়ে ফেলতেছে তবু সরবরাহ করছেনা। আমার বুজে আসেনা যতো সরবরাহ কম থাকুক যে পিয়াজ আমদানি সহ অন্যান্য খরচে যদি ধরি ৬০/ ৭০ টাকাও খরচ হয় তা ঘণ্টায়, এক রাতে কিভাবে দুশো টাকার উপরে হয়? লবন এর প্রাচুর্য বর্তমানে। ৫৮ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশী উৎপাদন, মজুত পর্যাপ্ত তারপরো গুজব ছড়ানো হয় আর আমরা গুজবে কানদিয়ে লংকা কান্ড করি। বাঙালী বীরের জাতি কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এসব কান্ডে মাথা কাটা পড়ে।😢 চাল এর বিষয়টি তো খুবী দুঃখজনক। আপনার খেয়াল আছে নিশ্চয় ২৫/ ৩০ বছর আগে গ্রামে গঞ্জে চাউল কল ছিলো। সাড়া বছর চাল ভাঙ্গানোর শব্দে গ্রাম জনপদ মুখর থাকতো। এতে আমরা ধানের তোষ ও গো খাদ্য হিসাবে কোড়া (আামাদের এখানে ধানের গুড়া) পাওয়া যেতো। এখন আমার গ্রাম গুলিতে একটি চাল কল খুঁজে পাইনা। সব এখন অটো রাইছ মিল কিংবা চার কল!!😯 যারফলে এসব মিলাররা ধানের মৌসুমে সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে উৎপাদন খরচের চেয়ে ধান কম মূল্যে কিনে নিচ্ছে, আবার এখন কৃষক এর হাতে এখন কোন ধান নেই তাই এই সিন্ডিকেট ধান এর দাম বেড়ে গেছে কাল্পনিক ভাবে চালের দাম কেজিতে ৬/৭ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। এদের কাছে(চক্র) কৃষক জিম্মি। কৃষক ধান বিক্রি না করেতো উপায় নাই। সে স্থানীয় ভাবে ধান ভাঙিয়ে চাল করতে পারবেনা। আগামী জানুয়ারি তে ডিসি সম্মেলনে আপনি সরকার এর কাছে বিশেষত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, খাদ্য, বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রীজির কাছে তুলে ধরবেন। টিসিবি কে আরো শক্তিশালী জেলায়, উপজেলায় বিস্তৃত করে ব্যবসার নামে এসব অতি মুনাখোর ও রাষ্ট্রকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানোদের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে। বীর মুক্তি যুদ্ধাদের আত্মার শান্তি হোক! জয় বাংলা! মুক্তির সংগ্রাম সফল হোক!! 🙏

আপনার বিশ্বস্ত! আহমদুর রহমান

এক্সিম ব্যাংক

মৌলভীবাজার শাখা।