অভাব একজন সাইফুর রহমানের!

1,138

insurance news more article

সম্ভবত ২০০২ সাল। চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায়। তৎকালীন সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান এক সকালে কয়েকটি সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন কুলাউড়া ও জুড়ি উপজেলায়। প্রয়াত মন্ত্রীর গাড়িবহরে কুলাউড়ার তৎকালীন এমপি এম এম শাহীনের গাড়ি ছিলো।সেই গাড়িতে আমি নিজেও ছিলাম। আমরা কুলাউড়া পৌর শহরের প্রবেশদ্বার কাপুয়া নদীর ব্রিজ অতিক্রম করবো এমনি সময়ে আমাদের গাড়ি থেমে গেলো।আমরা সকলেই উদ্বিগ্ন । কি হয়েছে ? বাইরে চেয়ে দেখি সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং দলীয় নেতৃবৃন্দ রীতিমত দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। আমরাও গাড়ি থেকে নেমে সামনে এগুতেই দেখি মন্ত্রী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে খোজাখুজি করছেন। পেছন থেকে দ্রুত আসলেন নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল খালিক। প্রয়াত মন্ত্রী তাকে প্রশ্ন করলেন, আপনি কি এই রাস্তা দিয়ে যাওয়া আসা করেন না? তাহলে এতো বড় রাস্তায় এতো ছোট ব্রিজ কেনো?উত্তর দিন। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলী নির্বাক!!মুখ থেকে কোনো উত্তর বেরিয়ে আসেনি!! পরে মন্ত্রী নির্দেশ দিলেন এক সপ্তাহের মধ্যে এই ব্রিজের প্রাক্কলন চাই। পরে কিছু দিনের মধ্যেই ব্রিজের পাশ দিয়ে নতুন ব্রিজের কাজ শুরু হলো। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কুলাউড়া আসবেন। তখনও নতুন ব্রিজের কাজ শেষ হয়নি। ফলে পুরাতন সেতু দিয়েই প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর কুলাউড়ায় আসার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। প্রটোকলের দায়িত্ব যাদের তারা সেভাবেই সব গুছিয়ে এনেছেন। কিন্তু প্রোগ্রামের দুইদিন পূর্বে একটি সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকের ওজনে পুরাতন সেতুটি ভেঙে পড়ে। সকলেই হতবাক। অবশ্য বিকল্প পথে প্রধানমন্ত্রী কুলাউড়া এসেছিলেন। কয়েকদিন পরই নতুন সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছিলো। যদি মন্ত্রী সেদিন না নামতেন তাহলে পরে কয়বছরে সেতুটি হতো আমি জানি না। কারণ পুরাতন সেতুটি ভেঙে পড়ার ৩ মাসের মাথায় দেশে ওয়ান ইলেভেন শুরু হয়েছিলো।
হাজীপুরের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি প্রায় সাড়ে ৩ বছর হলো । মৌলভীবাজার থেকে শমসেরনগর রোড দিয়ে মাঝে মাঝে আসা যাওয়া করতে হয়। গত দুবছর ধরে যেনো মরণফাঁদ। সিলেটের অন্য এলাকার রাস্তাঘাট কেমন -সামাজিক যোগাযোগ ও গণমাধ্যমে দেখি। আর আমার নিজ এলাকার রনচাপ, চক রণচাপ, গাজীপুর ইসমাইলপুর আলীপুর মাদানগর, চান্দগাও, পাবই, ভাঙারপার,হরিচক , উত্তর পল্কী, কটারকোনা, কাউকাপন, কেওলাকান্দি, বিলেরপার, দাউদপুর, ভুইগাও,মজমপুর এসব এলাকায় বর্ষায় কাদার জন্য আমি নিজেও ঢুকতে পারিনা। প্রতিবছর কিছু এডিপি এলজিএসপি পাই জোর ৩০/৩২ লাখ টাকা। নীতিমালা অনুযায়ী এই টাকা দিয়ে যোগাযোগ, জনস্বাস্থ্য,স্যানিটেশন, শিক্ষা,বৃক্ষরোপণ সবধরনের প্রকল্প নিতে হয়। অথচ এক লাখ টাকায় ইটসলিং করা যায় মাত্র ২১৮ ফুট মানে ৭২/৭৩ গজ। ১৭৬০ গজে মানে ৫২৮০ ফুট সমান এক মাইল।যা ইটসলিং করতে প্রয়োজন পড়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকা। তাই জন দুর্ভোগের কোনো সমাধানও করতে পারছি না। এখন যে দিকে যাই শুধু মনে পড়ে প্রয়াত এম সাইফুর রহমানের সেদিনের গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার কথা। যার কাছে কেউ উন্নয়ন দাবি করতে হতো না। তিনি নিজে খুজে খুজে সিলেটের উন্নয়ন করতেন। আর আমি সাড়ে ৩ বছর দাবি করেও মনু হসপিটাল – চক রণচাপ রাস্তাটি পাকা করাতে পারিনি। অনেক হয়তোবা জানেনই না উনি মন্ত্রী থাকাবস্থায় আমি সিলেট ও মৌলভীবাজার দুই জাগায় সাংবাদিকতা করেছি। আমার মনে হয়না বৃহত্তর সিলেটে এমন কোনো এলাকা আছে যেখানে এম সাইফুর রহমানের হাতের উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। তাই প্রতিদিনের বাস্তবতায় ভাবি আজ প্রয়োজন ছিলো একজন সাইফুর রহমানের। যার অভাব হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে সিলেটের মানুষ।
পরবর্তী এক’শ বছরেও সিলেটবাসী আরেকজন এম সাইফুর রহমানের দেখা পাবে এমন বিশ্বাস অন্য অনেকের থাকুক অন্তত আমি ক্ষুদ্র মানুষের আর নেই।
হে আল্লাহ উনাকে জান্নাতের উচ্চ আসনে আসীন করুন, দশম মৃত্যুবার্ষিকীতে এই দোয়া করি।

আব্দুল বাছিত বাচ্চু
চেয়ারম্যান, হাজীপুর ইউপি, কুলাউড়া।
প্রাক্তন বার্তা সম্পাদক, দৈনিক শ্যামল সিলেট, সিলেট ও মানব ঠিকানা, কুলাউড়া।

insurance news more article