ধর্ষিতা নারীর সংবাদ সম্মেলন পৌর মেয়র ও ক্লিনিক মালিকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

649

মঈন খান.কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ)ঃ ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে কোটচাঁদপুর নাসির্ং হোম ক্লিনিকের মালিক ও পৌর মেয়রসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে কোটচাঁদপুর থানা মামলাটি এজাহার হিসাবে গ্রহণ করে। এদিকে এ মামলার এজাহার নামীয় আসামী ক্লিনিকের আয়া গুলবানুকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

এদিকে ধর্ষিতা এ নারী ঘটনার সঠিক তদন্ত করে ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বুধবার বিকাল ৫টার দিকে কোটচাঁদপুর স্থানীয় জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন। সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষিতা শেফালী খাতুনের স্বজন রাকিবুল হাসান, ঈসরাফিল হাসান ও গোলাম রসুল ছাড়াও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মামলার এজাহারে উল্লেখপূর্বক মহেশপুর উপজেলার ঘুগরি পান্তাপাড়া গ্রামের একদিল মোল্যার কন্যা শেফালী খাতুন (৩৬) লিখিত বক্ত্যবে বলেন, বছর খানেক আগে অসুস্থতা নিয়ে আমি কোটচাঁদপুর নার্সিং হোম ক্লিনিকে ভর্তি হয়। চিকিৎসা চলাকালে ক্লিনিক মালিক আজাদের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে আমার উপর। নানা অজুহাত দেখিয়ে সে আমার মোবাইল নম্বর নেয় এবং চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পরও আজাদ মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে থাকে এবং ফোনে প্রেমালাপ শুরু করে।
আমি প্রেমে সাড়া না দেওয়ায় বিয়ের প্রস্তাবসহ বিভিন্ন লোভ-লালসা ও ক্লিনিকের শেয়ার দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে আজাদ পর্যায়ক্রমে ৭ লক্ষ টাকা গ্রহণ করে।
ঘটনাক্রমে গত বছর ২১ ফেব্রুয়ারী ক্লিনিকে ডেকে নিয়ে মৌলভী দিয়ে আজাদ আমাকে ভূয়া কাবিনে বিয়ে করেন। এমনকি তার সাথে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখার পরামর্শ দেয়। এরপর থেকে প্রায়ই নার্সিং হোমে আমার সাথে আজাদের স্বামী-স্ত্রী হিসাবে শারীরিক সম্পর্ক হয়। এভাবে ৪-৫ মাস ধরে প্রায়ই আসামী আজাদ নার্স রুমা ও আয়া গোলবানুর সহযোগিতায় যৌন মিলনে লিপ্ত হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে আমি আসামী আজাদকে ঘরে তোলার জন্য চাপ সৃষ্টি করি।

গেল বছর ২৬ আগষ্ট বিকালে আজাদের সাথে দেখা করতে আমি নার্সিং হোমে আসি। এ সময় বাগ-বিতন্ডা হলে এক পর্যায়ে আজাদ মোবাইল ফোনে স্থানীয় পৌর মেয়র জাহিদুল ইসলামকে ক্লিনিকে ডেকে আনেন। আসামী রুমা ও গোলবানু আমাকে একটি কক্ষে আটক রাখে। ঘটনার শিকার শিফালী খাতুন বলেন, মেয়র জাহিদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি জানার জন্য আমার রুমে প্রবেশ করেন। এসময় আজাদ, রুমা ও গোলবানু বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। মেয়র জাহিদ একপর্যায় আমাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের বিষয়টি আজাদ ও ক্লিনিকের আয়া ও নার্সদের জানালে তারা উত্তেজিত হয়ে আমাকে মারপিট করে আমার বাম পায়ের গোড়ালি হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাড়ভাঙ্গাসহ গুরতর জখম করে।

এবং এই ঘটনার কথা কাউকে জানালে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়। পরে একটি এ্যাম্বুলেন্সে করে মহেশপুরের ভৈরবা বাজারের বাগান মাঠ এলাকার একটি নির্জন স্থানে আমাকে নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে ভ্যান যোগে আমি মহেশপুর হাসপাতালে ভর্তি হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমার শারিরীক অবস্থার অবনতি দেখে তাৎক্ষনিকভাবে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর ঘটনার বিবরণ জানিয়ে কোটচাঁদপুর থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে মামলা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও থানা পুলিশ শেষ পর্যন্ত তা গ্রহণ করেনি। পরে ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি আমলে নিয়ে কোটচাঁদপুর থানা অফিসার ইনচার্জকে মামলাটি এজাহার হিসাবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। পুলিশ গত ১২ জানুয়ারি মামলাটি এজাহার হিসাবে গ্রহণ করে। যার নং-১২(১)২০২০। ধারা: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০(সংশোধনী/০৩) এর ৯(১)/৩০ ধারাসহ প্যানাল কোর্ডের ৩২৩/৩২৫।
এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুল আলম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ভিকটিমের ডাক্তারী পরীক্ষা চলমান। ওসি জানান, মামলা দায়েরের পর থেকে অন্য আসামীরা পলাতক রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে পৌর মেয়র জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। একটি মহল আমাকে সমাজে হেয় প্রতিপূর্ণ করার জন্য এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে মামলায় জড়ানো হয়েছে।