লাউয়াছড়া ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টারের বেহাল দশা

157

 মৌলভীবাজার২৪ ডেস্ক: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বন্যপ্রাণীর নিরাপদ অভয়ারণ্য লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টারটি নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে।

রেসকিউ সেন্টারে বন্যপ্রাণী থাকলেও তাদের চিকিৎসা প্রদানের জন্য নেই কোনো চিকিৎসক।
লাউয়াছড়া বনের অস্তিত্ব ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি ভ্রমণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত বনের প্রায় ১,২৫০ হেক্টর এলাকাকে ১৯৯৬ সালের ৭ জুলাই জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এই বনে রয়েছে ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ বন্যপ্রাণী ও গাছপালা। এর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর, ৬ প্রজাতির সরিসৃপ, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী ও ২৪৬ প্রজাতির পাখি।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,  বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সিলেটের আওতাধীন এই বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বনের জানকিছড়া ক্যাম্পের ভেতরে তৈরি করা হয় ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টার।
রেসকিউ সেন্টারটি দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেন্টারটির ভবনগুলোর চারদিক ঝোঁপে আচ্ছাদিত রয়েছে। অনেকটাই ভুতুড়ে অবস্থা।
প্রাণীগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৪-৫ জন লোকের প্রয়োজন থাকলেও  দু’জন দিয়েই কাজ চালানো হচ্ছে। একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জুনিয়র ওয়াউল্ড লাইফ স্কাউট ও অন্যজন বনপ্রহরী।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জুনিয়র ওয়াউল্ড লাইফ স্কাউট ঋষু বড়ুয়া সেখানে থাকা বন্যপ্রাণীদের দেখাশুনা করেন। তবে তার অবর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকেন তার সহকারি বনপ্রহরী মো. ইব্রাহিম।
অপরিস্কার-অপরিচ্ছন্নতার মধ্যেই রেসকিউ সেন্টারটিতে বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া ২টি মেছোবাঘ, ৫টি বানর ও ছোট-বড় ৩টি বার্মিজ অজগর সাপ রয়েছে।
সেন্টারটিতে আক্রান্ত-অসুস্থ প্রাণীকে উদ্ধার করে সুস্থ করে তোলার পর আবার বনের নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করার কথা। তবে প্রাণী চিকিৎসক না থাকায় আক্রান্ত প্রাণীর ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় এ কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষকদের।
এক্ষেত্রে তারা পার্শ্ববর্তী পশুসম্পদ চিকিৎসা কেন্দ্রের সহায়তা নেন। গত তিন বছর ধরে চিকিৎসক ছাড়াই চলছে এই রেসকিউ সেন্টারটি।
জনবল ও চিকিৎসক সংকটের কারণে শ্রীমঙ্গলের বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন নামক একটি বেসরকারি সংগঠনের কর্মীরা বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে সেবা শুশ্রুষা করছেন।

এ বিষয়ে লাউয়াছড়া বনবিটের রেঞ্জার মোনাইম হোসেন বলেন, জনবল সংকটের কারণে রেসকিউ সেন্টারটির কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ তিন বছর ধরে চিকিৎসক নেই। জনবল নিয়োগ দিলেই পুনরায় প্রাণ ফিরে পাবে সেন্টারটি।

কমলগঞ্জ জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আহাদ মিয়া বলেন, বণ্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের অনেক প্রাণী খাদ্যের জন্য লোকালয়ে গেলে স্থানীয়দের হাতে এমনকি মাঝে মধ্যে শিকারিদের হাতে আটকা পড়ে।
পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না থাকার পরও বন বিভাগ এসব প্রাণী উদ্ধার করে নিয়ে আসেন লাউয়াছড়া রেসকিউ সেন্টারে। কিন্তু উদ্ধার হওয়া আহত প্রাণীগুলোর চিকিৎসার জন্য নেই কোনো পশু চিকিৎসক।
বন্যপ্রাণীর স্বার্থে যত দ্রুত সম্ভব লাউয়াছড়া রেসকিউ সেন্টারে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল ও চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন