মৌলভীবাজারে বাংলাদেশ  কালেক্টরেট সহকারী সমিতির দাবী আদায়ে  কর্মবিরতি

785

মৌলভীবাজার২৪ ডট কমঃ বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির (বাকাসস) এর বিভিন্ন দাবী আদায়ের লক্ষ্যে গৃহীত ও বাস্তবায়িতব্য কর্মসূচীর অংশ হিসেবে মৌলভীবাজারে ২ ঘন্টা কর্মবিরতি  পালন করেছেন।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মুর্খে সকাল ৯ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত এ কর্মবিরতি চলে।

কর্মবিরতিতে বক্তব্য  রাখেন, বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারি সমিতি মৌলভীবাজার শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ কে সেলিম,সহ সভাপতি বিশ্বজিৎ ভট্রাচার্য্য,সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুশফিকুর রহমান,যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক তপন কান্তি ধর। সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সিতু বকত প্রমুখ।

কর্ম বিরতিতে জানানো হয়,২০ থেকে ২১ জানুয়ারী সকাল ৯টায় হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে ১১টা পর্যন্ত কর্মবিরতি,অফিস চত্বরে অবস্থান এবং সভা সমাবেশ। ২২ থেকে ২৩ জানুয়ারী সকাল ৯টায় হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি, অফিস চত্বরে অবস্থান এবং সভা সমাবেশ। ২৪ থেকে ২৬ জানুয়ারী বিভিন্ন কর্মসূচী। ২৭ থেকে ২৮ জানুয়ারী সকাল ৯ থেকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে ৪ ঘন্টা কর্মবিরতি, অফিস চত্বরে অবস্থান এবং সভা সমাবেশ। ২৯ জানুয়ারী থেকে ২৪ ফেব্র“য়ারী মহান ২১ শে ফেব্র“য়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বিভিন্ন প্রদক্ষেপ গ্রহন। ২৫ থেকে ২৭ ফেব্র“য়ারী সকাল ৯টায় হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি, অফিস চত্বরে অবস্থান এবং সভা সমাবেশ। ২৮ ফেব্র“য়ারী থেকে ২৭ মার্চ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী বাঙ্গালী সূর্য সন্তান, বীর শহীদদের প্রতি এবং মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বিভিন্ন কর্মসূচী। এর মধ্যে দাবী বাস্তবায়ন না হলে ২৮ মার্চ ঢাকা প্রেসক্লাবে মহা সমাবেশের মাধ্যমে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে। নেতৃবৃন্দরা জানান- মাঠ পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ও সহকারী কমিশনার ( ভূমি) এর কার্যালয়ে কর্মরত ৩য় শ্রেণীর  কর্মচারীদের পদবী পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি ২০০১ সাল থেকে দাবী করে আসলেও অধ্য পর্যন্ত পদবী পরিবর্তন হয়নি। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বিগত ১৯/০৬/২০১১ সালে পদবী পরিবর্তন সংক্রান্ত সার সংক্ষেপ অনুমোধন দিলেও তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছেনা। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলনে ৮বার প্রস্তাব গৃহিত হলেও এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় কর্তৃক গঠিত স্থায়ী কমিঠির বিভিন্ন সময়ে সুপারিশ থাকা সত্তেবও উক্ত কার্যালয়ের ১৩তম গ্রেডের অফিস সুপার, সিএ কাম ইউডিএ, প্রধান সহকারী, টেজারী হিসাব রক্ষক ও উচ্চমান সহকারীদেরকে ১০ গ্রেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে, ১৬তম গ্রেডের প্রাপ্ত অফিস সহকারী ও সমপদধারীদেরকে পদবী পরিবর্তন করে ১১তম গ্রেডের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে উন্নীতকরণ করা হয়নি। বার বার আশ্বাষ দিয়ে দাবী আদায় না হওয়ায় আমরা এ পৃথক পৃথক কর্মসূচী ঘোষনা করেছি। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত নেতৃবৃন্দরা জানান- ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাঠ প্রশাসনে জনগণের প্রত্যাশিত সেবা প্রদানে গতিশীলতা আনায়ন, কাজের সাথে সমন্বয় ও ডিজিটাল অফিস ব্যবস্থাপনাকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কাজ করছেন। মাঠ প্রশাসনের ব্যাপক এ বিশাল কর্মযজ্ঞের সিংহভাগ কাজ করেন সহকারীগণ। জেলা প্রশাসনে নিয়োগের পর সহকারীগণকে ম্যাজিস্ট্রেটদের সাথে বুদ্ধিমত্তা, মেধা, দক্ষতা ও বেশি শ্রম দিয়ে এসব কাজ করে কোনো পদোন্নতি না পেয়ে একই পদে থেকে অবসরে যাচ্ছেন। মাঠ প্রশাসনে কর্মরত ৩য় শ্রেনির কর্মচারীদের বেতন গ্রেড অনুযায়ী প্রতিটি পদের নাম পরিবর্তন অথবা মাঠ প্রশাসনে কর্মরত ৩য় শ্রেণির কর্মচারীদেরকে সচিবালয়ের ন্যায় পদোন্নতি প্রদানের বিষয়টি যৌক্তিক মর্মে বাস্তবায়নের মধ্যে সকল বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় ও সকল জেলা প্রশাসক মহোদয় সুপারিশ করেছেন। ইতোমধ্যে প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ করার পর মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন বিভাগ, দপ্তর, অধিদপ্তরের তৃতীয় শ্রেনির কর্মচারীদের পদবী পরিবর্তন করা হলেও মাঠ পর্যায়ে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের গৃহীত সিদ্ধান্ত সমূহ অদ্যাবধি বাস্তবায়িত না হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।