মানুষের অধিকার ফাউন্ডেশন ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে স্বারকলিপি প্রদান

1,101

বিশেষ প্রতিনিধি:  শিশু এবং সাবলম্ভিদের ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধের লক্ষ্যে   মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ,   মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ  সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য  সৈয়দ জহুরা আলা উদ্দিন, জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন,  পুলিশ সুপার মো: ফারুক আমেদ পিপিএম (বার), পৌর মেয়র মো: ফজলুর রহমান, সদর উপেজেলা চেয়ারম্যান মো: কামাল হোসেনসহ এ   স্বারকলিপি প্রদান করা হয়।

সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট প্রিতম দত্ত সজিব, ভাইস চেয়ারম্যান সাকির আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ মোস্তাকিম আহমেদ ও এড. ইজাজুল ইসলাম, জেনারেল মেম্বার মাহবুবুর রহমান রাহেল, মোবাশির আলী,সদস্য রিয়াদ আহমেদ, রুবেল আহমেদ, জামাল মিয়া, সালেহ আহমেদ, আরজু মিয়া,তায়েফ আহমেদ প্রমুখ।

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্টাতা চেয়ারম্যান, এডভোকেট নিযামুল হক বলেন, সম্প্রতি মৌলভীবাজার শহরে অধ শতাধিক শিশু যাহাদের বয়স ২-১৫ বছর পড়াশোনা থেকে বিরত থেকে শহরের বিশেষ বিশেষ স্থানে ভিক্ষাবৃত্তি কাজে নিয়োজিত আছে, এবং পাশাপাশি স্বাবলম্ভি পেশাগত ভিক্ষুকের সংখ্যাও বেড়েছে, যাহা কোনভাবেই কাম্য হইতে পারেনা। ভিক্ষাবৃত্তি সমাজের অভিশাপ।

 

একটি শিশুর শৈশবকাল ভিক্ষাবৃত্তিতে অতিবাহিত হতে পারে না। আমাদের কারোর এটা কাম্য নয়। এটি মানবাধিকার ও শিশু অধিকারের লঙ্ঘন। দেশ ক্রমান্বয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে যাচ্ছে। অথচ সমাজের অসংখ্য শিশু ভিক্ষা করে জীবন ধারণ করছে। শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তি এখনই বন্ধ হওয়া উচিত।

শিশু ভিক্ষাবৃত্তি কারোরই পেশা হতে পারে না। এই কাজ যখন শিশু বয়স থেকে শুরু হয়, তখন আমরা বুঝতে পারি সমাজে শিশুদের প্রতি কত অবহেলা। আমরা দেখেছি, অসংখ্য শিশু ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত।

এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। শিশুরা সমাজের অনিয়ম ও বৈষম্যের শিকার। শিশুদের মানসিকভাবে বিকাশের সুযোগের বৈষম্য রয়েছে। দেশে লাখ লাখ কর্মজীবী শিশু রয়েছে। তাদের ৫৫ শতাংশ শুধু ঢাকা শহরে কাজ করে। কর্মজীবী শিশুদের ৯ শতাংশ ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত; বাংলাদেশের জনসংখ্যার হিসাবে একটি বড় অংশ। তাই এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে গভীরভাবে ভাবতে হবে।

যে বয়সে কোমলমতি শিশুরা স্কুলে যাবার কথা সে সয়সে তাহারা ভিক্ষার কাজে নিয়োজিত আছে। শিশুরা জাতীর ভবিষ্যত, এসকল শিশুরা শিক্ষা, সংস্কুতি, মননশীলতা থেকে বন্চিত। শিশুর অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্য সকল শিশুকে স্কুলের ব্যবস্থা গ্রহনসহ শিশুরা যাহাতে ভিক্ষার কাজে জরীত না হতে পারে সেই লক্ষ্য রাষ্ট্রের/আপনার প্রশাসন হইতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গহন অতীব জরুরী।

তাছাড়া শহরে অধিকাংশ সাবলম্ভি ভিক্ষুক আছে যারা কাজ না করে ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসাবে গ্রহন করেছে। প্রতিনিয়ত মানুষকে তারা বিরক্ত করে, বিশেষ করে প্রবাসীদের কাছে তাদের কারনে আমাদের শহরের বিরুপ মনোভাব তৈরী হচ্ছে। সেহেতু মৌলভীবাজার শহর থেকে শিশু ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে এবং সাবলম্ভি ভিক্ষুকদের এবং শিশুদেরকে দিয়ে যারা ভিক্ষাবৃত্তি করাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তারা এই স্বারকলিপি প্রদান করেছেন।