তারেক রহমান পালিয়ে যাননি, ইতিহাস বিকৃত করছে জামায়াত—এম নাসের রহমান
- আপডেট সময় ০৭:১১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ২ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধিঃ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি; বরং ওয়ান–ইলেভেনের সময় সেনা সমর্থিত সরকারের চাপের মুখে তাঁকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বিদেশে পাঠানো হয়েছিল—এমন মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বক্তব্যকে ইতিহাস বিকৃতি বলে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার–৩ (সদর–রাজনগর) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এম নাসের রহমান।
শনিবার রাতে মৌলভীবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।
এম নাসের রহমান বলেন, ওয়ান–ইলেভেনের সময় তৎকালীন সেনা সমর্থিত মইন ফখরুদ্দিন সরকারের অধীনে সেনা গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্ত হিসেবে তারেক রহমানকে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার সামনে একাধিক শর্ত দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে গুরুতর অসুস্থ ছেলের কথা বিবেচনা করে একটি শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হন।
নাসের রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পান এবং পরদিন পিজি হাসপাতালে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর পরের দিনই গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তারেক রহমানকে বিদেশে পাঠানো হয়। তিনি অভিযোগ করেন, প্লেনে ওঠানোর সময় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা তাঁকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করতে চাপ দেন—রাজনীতি করবেন না মর্মে। “এটি কোনো স্টাম্প পেপারের চুক্তি ছিল না, কোনো আইনগত ভিত্তিও ছিল না,” বলেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে এম নাসের রহমান বলেন, “যদি তারেক রহমান পালিয়ে যেতেন, তাহলে আজ তাঁর জনসভায় লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি দেখা যেত কি? মানুষের ভালোবাসা কি ইতিহাস বিকৃত করে পাওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের একটি অংশ অতীতে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও ইউরোপে অবস্থান করেছেন। “তাহলে পালিয়ে যাওয়ার প্রশ্নে একতরফা বক্তব্য দেওয়ার নৈতিকতা কোথায়—সে প্রশ্ন জনমনে থেকেই যায়,” বলেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমদ এবং সঞ্চালনা করেন পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সারওয়ার মজুমদার ইমন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্যসচিব আব্দুর রহিম রিপন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সাবেক সহসভাপতি আব্দুল মুকিত, আয়াছ আহমেদ, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ফখরুল ইসলাম, জমিয়তে উলামা ইসলামের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা জামিল আহমেদ আনসারী, পৌর বিএনপির সভাপতি অলিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার আহমদ রহমান, জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জ্বল ও সাধারণ সম্পাদক এম এ মোহিত। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।









