ঢাকা ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
ধানের শীষে বিজয় হলে রাজনগর–মৌলভীবাজারে শুরু হবে ব্যাপক উন্নয়ন: নাসের রহমান মৌলভীবাজারে গরুর খামারে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগ দুটি মতবিনিময় সভায় হিন্দু নেতাদের ধানের শীষে ঐক্যবদ্ধ সমর্থন নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই….সেনা প্রধান কুলাউড়ায় মাধবের টিলা থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করার অভিযোগ মৌলভীবাজার শহরের বিউটি পার্লারে মেয়াদোত্তীর্ণ ক্রিম ব্যবহার,জরিমানা আদায় চ্যানেল ওয়ান এ মৌলভীবাজারে নিয়োগ পেলেন সিনিয়র সাংবাদিক মো: শাহজাহান মিয়া নারীদের ফ্যামিলি কার্ড, উন্নয়ন বঞ্চনার অবসান ঘটাবে বিএনপি: রেজিনা নাসের সীমান্ত থেকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বি স্ফো র ক ও অ স্ত্র উদ্ধার সাবেক এমপি খালেদা রব্বানী ধানের শীষের প্রার্থী নাসের রহমানের পক্ষে মাঠে

দুটি মতবিনিময় সভায় হিন্দু নেতাদের ধানের শীষে ঐক্যবদ্ধ সমর্থন

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:১১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২৫ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ প্রার্থী এম নাসের রহমান বলেছেন, “ধানের শীষ ছাড়া আপনাদের দেখভাল করার কেউ নাই। ধানের শীষ ছাড়া আপনাদের দেখভাল করবে কে? বিএনপি ছাড়া তো আপনাদের পাশে কে আছে?”
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারে টানা দুটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে জেলা বিএনপির আয়োজনে মৌলভীবাজার পৌরসভা মিলনায়তনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মৌলভীবাজার জেলা, সদর ও রাজনগর উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সভা হয়। আর বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের এম সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এম নাসের রহমান।

দুটি সভাতেই হিন্দু নেতৃবৃন্দ ধানের শীষের পক্ষে ভোট ও সমর্থনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। গতরাতের সভায় নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেওয়া দিকনির্দেশনার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এম নাসের রহমান বলেন, “ধানের শীষ ছাড়া আপনাদের দেখভাল করার কেউ নাই। ধানের শীষ ছাড়া আপনাদের দেখভাল করবে কে? বিএনপি ছাড়া তো আপনাদের পাশে কে আছে?” তিনি আরও বলেন, “এই জামায়াতে ইসলামী কখনোই এদেশের ক্ষমতায় আসবে না। আর যদি কোনোভাবে ক্ষমতায় আসে, তাহলে আপনারা এদেশে শান্তিতে থাকতে পারবেন না।

নিজের নির্বাচনী এলাকার ভোটার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকায় মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৬ হাজার। এর মধ্যে হিন্দু ভোটার ৯২ হাজার ৫৬ জন। চা-শ্রমিক ভাই-বোনরা প্রায় ৪০ হাজার। বাগানের শ্রমিক ভাই-বোনেরা প্রায় শতভাগ সমর্থন আমাকে ইতোমধ্যে দিয়েছেন। ভবিষ্যতের জন্য ধানের শীষ ছাড়া আপনাদের যথাযথ মূল্যায়ন আর কে করবে?।

তিনি বলেন, “আপনারা অনেক সময় আমাদের ভোট দেন না জেনেও আমরা অতীতেও আপনাদের পাশে ছিলাম, এখনও আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। আপনাদের পূজা-পার্বণ ও ধর্মীয় উৎসবে আমরা সব সময় পাশে থেকেছি।

হিন্দু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গে এম নাসের রহমান বলেন, “একসময় বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ১১–১২ শতাংশ, এখন কমে এসেছে ৮–৯ শতাংশে। অনেকেই দেশ ছেড়ে ওপারে চলে যাচ্ছেন। আমার একটা প্লান আছে—আমি আমার নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করবো। ভবিষ্যতে হিন্দু ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে রিজার্ভ সিটের বিষয়টি চিন্তা করে দেখা যায় কি না।

তিনি বলেন, “যদি ৮–১০ শতাংশ হিন্দু ভোটার থাকে, তাহলে জাতীয় সংসদে আপনারা দুই–তিনজনের জায়গায় নয়, ৮–৯ জনের মতো প্রতিনিধিত্ব পেতে পারেন। এটা আমরা আলোচনা করে দেখতে পারি। এই কাজটা আওয়ামী লীগের করা উচিত ছিল। কিন্তু তারা আপনাদের কাঁধে বসে বসে মধু খেয়েছে। কিন্তু দল হিসেবে কিছুই পাননি।

 

তিনি আরও বলেন, “এদেশে সবাই আমরা সমান নাগরিক। বাংলাদেশ হচ্ছে হিন্দু–মুসলমান সম্প্রীতির দেশ।”
বিগত নির্বাচন প্রসঙ্গে এম নাসের রহমান বলেন, “২০০৮ সালের নির্বাচন অন্যভাবে চুরি হয়েছিল। ২০১৪ সালে কোনো ভোটাভুটি হয়নি। ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতের সময়ে ব্যালট ভরে নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচন ছিল ডামি নির্বাচন। সেই দিন শেষ। এবার ভোটাররা নিশ্চিন্তে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন।

এ সময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভোটের দিন সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানান।
হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য সহায়তার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য যেসব সাহায্য–সহযোগিতা দরকার, সবই আমি করবো। বিশেষ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে আগের সরকারের চেয়েও বেশি অনুদানের ব্যবস্থা করবো।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জামে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতা ও দুই ঈদে বোনাসের পাশাপাশি হিন্দু ধর্মের পুরোহিতদের জন্য মাসিক ভাতা, দুর্গাপূজায় বোনাস ও সরকারি গ্রেডের মর্যাদা দেওয়া হবে। খ্রিস্টান ধর্মের পাদ্রিরাও একই সুবিধা পাবেন।

মৌলভীবাজার জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুনীল কুমার দাশের সভাপতিত্বে এবং রাজনগর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুপক দেবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত দিনের সভায় বক্তব্য দেন জেলা বারের সিনিয়র অ্যাডভোকেট শান্তিপদ ঘোষ, রাজনগর সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রজত কান্তি গোস্বামী, ধর্মীয় পণ্ডিত নিরঞ্জন গোস্বামী, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রুনুকান্ত দত্ত, সদস্য সচিব ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শ্যামলী সূত্রধর, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ মোহন পাল, অ্যাডভোকেট রজত কান্তি অর্জুনসহ সনাতন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে মৌলভীবাজার পৌরসভা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মহিম দে’র সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, সদস্য বকসী মিসবাউর রহমান, স্বাগত কিশোর দাশ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি আশু রঞ্জন দাশ, রাজনগর উপজেলা শাখার সভাপতি অসিত দেব, সদর উপজেলা শাখার সদস্য সচিব শ্যামল কান্তি দাশ, জেলা কমিটির সদস্য জ্যোতিষ রায়, রাজনগর উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর আদিত্য, জেলা কমিটির সদস্য সত্য নারায়ণ নাইডু, সদর উপজেলার ১ নম্বর খলিলপুর ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি শেখর দত্ত পুলক, ১১ নম্বর মোস্তফাপুর ইউনিয়ন কমিটির সদস্য হিমাংশু সূত্রধর, ১ নম্বর ফতেহপুর ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রিপন দাস ও জেলা কমিটির সদস্য রঞ্জিত বৈদ্য।

সভায় বক্তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেওয়া বক্তব্যগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তারা মরহুম অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এম নাসের রহমানকে বিজয়ী করতে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এম নাসের রহমানও অতীতের মতো হিন্দু সম্প্রদায়ের সকল কাজে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন এবং তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

দুটি মতবিনিময় সভায় হিন্দু নেতাদের ধানের শীষে ঐক্যবদ্ধ সমর্থন

আপডেট সময় ০৫:১১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ প্রার্থী এম নাসের রহমান বলেছেন, “ধানের শীষ ছাড়া আপনাদের দেখভাল করার কেউ নাই। ধানের শীষ ছাড়া আপনাদের দেখভাল করবে কে? বিএনপি ছাড়া তো আপনাদের পাশে কে আছে?”
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারে টানা দুটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে জেলা বিএনপির আয়োজনে মৌলভীবাজার পৌরসভা মিলনায়তনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মৌলভীবাজার জেলা, সদর ও রাজনগর উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সভা হয়। আর বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের এম সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এম নাসের রহমান।

দুটি সভাতেই হিন্দু নেতৃবৃন্দ ধানের শীষের পক্ষে ভোট ও সমর্থনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। গতরাতের সভায় নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেওয়া দিকনির্দেশনার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এম নাসের রহমান বলেন, “ধানের শীষ ছাড়া আপনাদের দেখভাল করার কেউ নাই। ধানের শীষ ছাড়া আপনাদের দেখভাল করবে কে? বিএনপি ছাড়া তো আপনাদের পাশে কে আছে?” তিনি আরও বলেন, “এই জামায়াতে ইসলামী কখনোই এদেশের ক্ষমতায় আসবে না। আর যদি কোনোভাবে ক্ষমতায় আসে, তাহলে আপনারা এদেশে শান্তিতে থাকতে পারবেন না।

নিজের নির্বাচনী এলাকার ভোটার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকায় মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৬ হাজার। এর মধ্যে হিন্দু ভোটার ৯২ হাজার ৫৬ জন। চা-শ্রমিক ভাই-বোনরা প্রায় ৪০ হাজার। বাগানের শ্রমিক ভাই-বোনেরা প্রায় শতভাগ সমর্থন আমাকে ইতোমধ্যে দিয়েছেন। ভবিষ্যতের জন্য ধানের শীষ ছাড়া আপনাদের যথাযথ মূল্যায়ন আর কে করবে?।

তিনি বলেন, “আপনারা অনেক সময় আমাদের ভোট দেন না জেনেও আমরা অতীতেও আপনাদের পাশে ছিলাম, এখনও আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। আপনাদের পূজা-পার্বণ ও ধর্মীয় উৎসবে আমরা সব সময় পাশে থেকেছি।

হিন্দু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গে এম নাসের রহমান বলেন, “একসময় বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ১১–১২ শতাংশ, এখন কমে এসেছে ৮–৯ শতাংশে। অনেকেই দেশ ছেড়ে ওপারে চলে যাচ্ছেন। আমার একটা প্লান আছে—আমি আমার নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করবো। ভবিষ্যতে হিন্দু ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে রিজার্ভ সিটের বিষয়টি চিন্তা করে দেখা যায় কি না।

তিনি বলেন, “যদি ৮–১০ শতাংশ হিন্দু ভোটার থাকে, তাহলে জাতীয় সংসদে আপনারা দুই–তিনজনের জায়গায় নয়, ৮–৯ জনের মতো প্রতিনিধিত্ব পেতে পারেন। এটা আমরা আলোচনা করে দেখতে পারি। এই কাজটা আওয়ামী লীগের করা উচিত ছিল। কিন্তু তারা আপনাদের কাঁধে বসে বসে মধু খেয়েছে। কিন্তু দল হিসেবে কিছুই পাননি।

 

তিনি আরও বলেন, “এদেশে সবাই আমরা সমান নাগরিক। বাংলাদেশ হচ্ছে হিন্দু–মুসলমান সম্প্রীতির দেশ।”
বিগত নির্বাচন প্রসঙ্গে এম নাসের রহমান বলেন, “২০০৮ সালের নির্বাচন অন্যভাবে চুরি হয়েছিল। ২০১৪ সালে কোনো ভোটাভুটি হয়নি। ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতের সময়ে ব্যালট ভরে নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচন ছিল ডামি নির্বাচন। সেই দিন শেষ। এবার ভোটাররা নিশ্চিন্তে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন।

এ সময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভোটের দিন সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানান।
হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য সহায়তার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য যেসব সাহায্য–সহযোগিতা দরকার, সবই আমি করবো। বিশেষ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে আগের সরকারের চেয়েও বেশি অনুদানের ব্যবস্থা করবো।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জামে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতা ও দুই ঈদে বোনাসের পাশাপাশি হিন্দু ধর্মের পুরোহিতদের জন্য মাসিক ভাতা, দুর্গাপূজায় বোনাস ও সরকারি গ্রেডের মর্যাদা দেওয়া হবে। খ্রিস্টান ধর্মের পাদ্রিরাও একই সুবিধা পাবেন।

মৌলভীবাজার জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুনীল কুমার দাশের সভাপতিত্বে এবং রাজনগর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুপক দেবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত দিনের সভায় বক্তব্য দেন জেলা বারের সিনিয়র অ্যাডভোকেট শান্তিপদ ঘোষ, রাজনগর সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রজত কান্তি গোস্বামী, ধর্মীয় পণ্ডিত নিরঞ্জন গোস্বামী, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রুনুকান্ত দত্ত, সদস্য সচিব ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শ্যামলী সূত্রধর, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ মোহন পাল, অ্যাডভোকেট রজত কান্তি অর্জুনসহ সনাতন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে মৌলভীবাজার পৌরসভা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মহিম দে’র সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, সদস্য বকসী মিসবাউর রহমান, স্বাগত কিশোর দাশ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি আশু রঞ্জন দাশ, রাজনগর উপজেলা শাখার সভাপতি অসিত দেব, সদর উপজেলা শাখার সদস্য সচিব শ্যামল কান্তি দাশ, জেলা কমিটির সদস্য জ্যোতিষ রায়, রাজনগর উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর আদিত্য, জেলা কমিটির সদস্য সত্য নারায়ণ নাইডু, সদর উপজেলার ১ নম্বর খলিলপুর ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি শেখর দত্ত পুলক, ১১ নম্বর মোস্তফাপুর ইউনিয়ন কমিটির সদস্য হিমাংশু সূত্রধর, ১ নম্বর ফতেহপুর ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রিপন দাস ও জেলা কমিটির সদস্য রঞ্জিত বৈদ্য।

সভায় বক্তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেওয়া বক্তব্যগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তারা মরহুম অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এম নাসের রহমানকে বিজয়ী করতে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এম নাসের রহমানও অতীতের মতো হিন্দু সম্প্রদায়ের সকল কাজে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন এবং তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।